kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা প্রেমিকার

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা প্রেমিকার

সিলেটের বিশ্বনাথে প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন প্রেমিকা। এমন অভিযোগ এনে শনিবার রাতে ওই প্রেমিকা বাদি হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছে। মামলার একমাত্র আসামি প্রেমিক ফরিদ মিয়া (২৮) কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সে উপজেলার কোনাউড়া নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত চেরাগ আলীর ছেলে। রবিবার পুলিশ তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পাশবিকতার শিকার হওয়া তরুণী অভিযুক্ত ফরিদ মিয়ার বাড়ির পার্শ্ববর্তী ছাতক উপজেলার বাসিন্দা এবং অসহায় ও গরিব পরিবারের মেয়ে। তার বাবা পঙ্গু থাকায় ২০১৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি (ভিকটিম) লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে ঘরে কাজকর্মে মাকে সহযোগীতা করে আসছেন। সম্পর্কে ফরিদ মিয়া তার (ভিকটিম) খালাতো ভাই। আত্মীয়তার সুবাদে ফরিদ মিয়া তাদের (ভিকটিমের) বাড়িতে এবং তারা (ভিকটিমের পরিবার) ফরিদ মিয়ার বাড়িতে প্রায়ই যাতায়াত করেন।

প্রায় পাঁচ বছর পূর্বে ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতে তাকে প্রস্তাব করেন ফরিদ। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেন ফরিদ। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে থাকে ফরিদ। কিন্তু সে (তরুণী) একজন অসহায় পঙ্গুর মেয়ে হওয়ায় সরল বিশ্বাসে বিয়ের আশায় বিষয়টি কারো কাছে প্রকাশ করতে সাহস পাননি। গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে তরুণীকে তার বাড়ি থেকে বেড়ানোর জন্য নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে ফরিদ।

এরপর ওই দিন রাতে তাকে (ভিকটিম) আবারো ধর্ষণ করে ফরিদ। এ সময় ভিকটিম তরুণী কান্নাকাটি করে চিৎকার করার চেষ্টা করলে তার মুখ চেপে ধরে ভয়ভীতি দেখায় ফরিদ। এরপর ভিকটিমের পরিবার বিচার প্রার্থী হলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি আপস-মিমাংসায় নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন।

কিন্তু কোনাউড়া নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত বশই মিয়ার পুত্র (ফরিদের মামাতো ভাই) বাবুল মিয়ার তরুণীর ইজ্জতের মূল্য হিসেবে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই প্রস্তাবে ভিকটিম ও তার পরিবার রাজি না হয়ে অভিযুক্ত ফরিদ মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই তরুণী ও ফরিদ মিয়ার মধ্যে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছে। তারা একে অপরের আত্মীয়ও বটে। এর সুবাধে তরুণ-তরুণী একে অপরের বাড়িতে যাওয়া আসা করে আসছে। এরই মধ্যে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম মুসা বলেন, ধর্ষণ মামলার আসামি ফরিদ মিয়াকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা