kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তাড়িয়ে দিয়েছে ছেলে, বৃদ্ধ আমজাদ আলীর পাশে এলাকার তরুণরা

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২২:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাড়িয়ে দিয়েছে ছেলে, বৃদ্ধ আমজাদ আলীর পাশে এলাকার তরুণরা

ষাটোর্ধ অসুস্থ আমজাদ আলী। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সোয়াইতপুর পাকা সড়কের পাশে খোলা একটি পলিথিনের ঘরে মাটির ওপর হাত রেখে শুয়ে আছেন। শরীরে ধুলাবালি আর মশামাছি জেকে বসেছে। বৃদ্ধের এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছিল কদিন ধরে।

আজ রবিবার বিকেলে ভবানীপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনুর মল্লিক জীবন ও স্থানীয় কয়েকজন যুবক অসহায় সেই বৃদ্ধকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতালে বৃদ্ধকে দেখতে যান উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পারভিন অক্তার।

সন্ধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থা ভালো। কোনো কথা বলতে পারছেন না। কর্তব্যরত চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়েছেন। যা ফুলবাড়িয়া হাসপাতালে নেই। টাকার জন্য বাইরে থেকেও করতে পারছেন না। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মচিমহায় ভর্তি করানো বিশেষ প্রয়োজন বলে মনে করেন হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাহ্ মো. আসাদুজ্জামান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের মৃত শাম্মত আলী পুত্র হতদরিদ্র আমজাদ আলী। জমিজমা নেই তার। ভ্যান রিকশা ও দিনমজুরের কাজ করতেন তিনি। স্ত্রী ও এক পুত্র ছিল তার সংসার জীবনে। বয়সের সাথে শারীরিক কর্মক্ষমতা অনেকটা কমে যায়। আগের মতো চলাফেরা ও কাজ করতে পারেন না। এ নিয়ে মাঝে মধ্যে পারিবারিক ঝগড়া হতো। প্রায় তিন বছর পূর্বে স্ত্রী সালেহা খাতুন তাকে রেখে চলে যান। তার একমাত্র ছেলে সাইফুল অসুস্থ পিতাকে মারপিট করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর অসহায় আমজাদ আলী আশ্রয় নেন সোয়াইতপুর গ্রামে তার বড়ভাই হতদরিদ্র নবী হোসেনের বাড়ি। দারিদ্রতার কারণে তার ভাই তাকে তেমন দেখাশুনা করেন না। বাড়িতে জায়গা না থাকায় আছিম সোয়াইতপুর পাকা সড়কের পাশে বাঁশ ও পলিথিন দিয়ে ঘর করে দেন তার বড় ভাই। সেখানে থেকেই ভিক্ষাবৃত্তি করেন। গত ৫ থেকে ৬ মাস যাবৎ একেবারে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। এরপর অর্থাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছিলেন রাস্তার পাশের সেই ঘরে।

স্থানীয় শিক্ষার্থী হাসিবুল হাসান বলেন, রাস্তার পাশে খোলা ঘরে থাকা বৃদ্ধা অনেকদিন যাবৎ কষ্ট করছেন। মাটিতে হাতের ওপর শুয়ে থাকেন। একটি বালিশ পর্যন্ত নেই। দেখাশোনার কেউ নেই। খাবার চিকিৎসার অভাবে তিনি আজ মৃত্যু শয্যায়।

নবী হোসেন বলেন, সন্তান তাকে বাড়ি থেকে মারপিট করে বের করে দিয়েছে। নিজের থাকার জায়গা নেই। একবেলা খাবার পেলে আরেক বেলা পাই না। মাঝে মধ্যে নিজেও ভিক্ষা করি। ভাইকে খাওয়াবো ও চিকিৎসা করাবো কি দিয়ে? 

বৃদ্ধ আমজাদ আলীর পুত্র সাইফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনুর মল্লিক জীবন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে স্থানীয় যুবকদের সহযোগিতায় তাকে নিয়ে হাসপতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসার সকল খরচ বহন করবো। তার সন্তানের সাথে কথা বলেছি। কিন্ত তিনি তার পিতার দায়িত্ব নেবেন না বলে জানান। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা