kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শিক্ষকের ছোঁড়া বেতের আঘাতে চোখ হারাতে বসেছে হাবিবা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষকের ছোঁড়া বেতের আঘাতে চোখ হারাতে বসেছে হাবিবা

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের বেতের আঘাতে হাবিবা আক্তার (৮) নামে এক শিশুর চোখ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গুরুতর অবস্থায় ওই শিশুকে সিলেট হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সে যাদবপুর গ্রামের শাহিন মিয়ার মেয়ে এবং ওই স্কুলের ৩য় শ্রেণির ছাত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে ক্লাস চলাকালে যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিরঞ্জন দাশ তার হাতের একটি বেত ছুঁড়ে মারলে তা সরাসরি হাবিবার চোখে লাগে। এতে তার চোখ থেকে রক্ষকরণ হলে সে লুটিয়ে পড়ে। পরে স্কুলে হৈ চৈ শুরু হলে স্থানীয় লোকজন হাবিবাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মিঠুন রায় তাকে পরীক্ষার পর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিলেটে রেফার করেন। পরে তার স্বজনরা ঢাকা চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যায়।

হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মিঠুন রায় জানান, বেতটি সরাসরি হাবিবার চোখের ভিতর আঘাত করায় তার চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। চোখটি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

এ ব্যাপারে সহকারী শিক্ষক নিরঞ্জন দাশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়া নিচ্ছিলেন। এ সময় যারা পড়া পাড়ছিল না তাদেরকে টুকটাক বেত্রাঘাত করি। কিন্তু ওই ক্লাসের সামনে কিছু শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে হৈ চৈ করলে আমি তাদের বার বার ধমক দিলেও তারা সেখানে দাঁড়িয়ে থাকলে হাতে থাকা বেতটি ছুঁড়ে মারলে তা হাবিবার চোখে লাগে। এটি অনাকাঙ্খিত। ওই ছাত্রীর যত ভালো চিকিৎসা প্রয়োজন হয় আমি করাব।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মাসুক আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন রুবেল জানান, এ ব্যাপারে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, আমরা বিষয়টি শুনেছি। এখন বিস্তারিত তথ্য নেওয়ার এবং খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছি।

শ্রেণিকক্ষে বেত নিয়ে শিক্ষকের যাওয়া এবং এ ধরনের ঘটনা কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, বেত দিয়ে আঘাত করার বিধানই নেই। শুধু তাই নয় শ্রেণিকক্ষে বেত নিয়ে যাওয়ারও অনুমতি নেই। যদি কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা