kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নামেই হাসপাতাল!

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:২০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নামেই হাসপাতাল!

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ২০ শয্যা হাসপাতাল শুধু নামেই রয়েছে। ওটিসহ মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম দেড়যুগ আগে উদ্বোধনের সময় যেভাবে আনা হয়েছিল, এখনও সেভাবেই রয়েছে। ধূলাবালির স্তূপ পড়েছে সেগুলোর ওপর। নেই কোনো নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী। শুধু নিয়োগপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট ও প্রেষণে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার দিয়ে চলছে বহির্বিভাগ।

হাসপাতালটি নির্মাণে সরকারের সাড়ে তিন কোটির বেশি টাকা খরচ হলেও চালু না হওয়ায় তা এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না। ব্যবহার না করায় হাসপাতালের বিছানা ও আসবাবপত্রে ধূলাবালির আস্তর জমেছে। ঘুনপোকা ভবনের দরজা-জানালায় বাসা বাঁধায় খুলে পড়ছে দরজা জানালার কপাট।

সরেজমিনে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নন্দীগ্রাম ৩১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবস্থান ৯ কিলোমিটার দূরে বিজরুল বাজারে। উপজেলা সদরে কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় পৌর শহরসহ আশপাশের বিপুলসংখ্যাক মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিল। নারীরা জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এবং শিশুরা বিভিন্ন টিকাদানের জন্য বাইরে যাচ্ছিল। এ কারণে উপজেলা সদরে একটি আধুনিক মানের হাসপাতাল নির্মাণের দাবি তোলেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০১-২০০২ অর্থবছরে বিগত বিএনপি সরকার আমলে উপজেলা সদরে ২০ শয্যাবিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারের স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে (নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ইউনিট-সিএমএমইউ) হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণসহ আনুসাঙ্গিক খাতে ব্যয় হয় ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ২০০২ সালে তৎকালীন সরকারের খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

২০০৫ সালে এর অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়। কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আটকে যায়। জনবল নিয়োগ ছাড়াই ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন সাংসদ ডা. জিয়াউল হক মোল্লা। এরপর দীর্ঘ দেড় যুগেও জনবলের অভাবে হাসপাতালটি আর চালু হয়নি। ফলে হাসপাতালের বিশাল ক্যাম্পাসজুড়ে ঘাস ও বিভিন্ন গাছ-জঙ্গল গজিয়েছে। এর ফলে আবাসিক ভবনগুলো নষ্ট হতে চলেছে।

সূত্র জানায়, ২০ শয্যার অত্যাধুনিক এ হাসপাতালে চিকিৎসক, সেবিকা, চিকিৎসা সহকারী, ঔষধবিদ, ওয়ার্ডবয়, অফিস সহকারী, ল্যাব অ্যাটেনডেন্টসহ ১৩ জনের পদ রয়েছে। ২০০৮ সালে চিকিৎসক ছাড়া অন্যান্য পদে ৬ কর্মচারীকে প্রেষণে নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালটির বহির্বিভাগ চালু করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। অল্প দিনের মাথায় ঔষধবিদ ছাড়া অন্যরা অন্যত্র চলে যায়।

সরেজমিনে নন্দীগ্রাম ২০ শয্যার হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের প্রধান ফটক ও স্টোর রুম ছাড়া সব কক্ষে তালা ঝুলছে। হাসপাতালের একটি কক্ষে চলছে ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের আদলে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার উম্মে হাসনা বানু জানান, সে এখানকার নিয়োগপ্রাপ্ত নয়। পার্শ্ববর্তী ভাটগ্রাম ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে প্রেষণে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার জন্য এখানে তাকে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এখানে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া রোগীদের কোনো সেবা দেওয়া যায় না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তোফাজ্জল হোসেন মন্ডল বলেন, জনবলের অভাবে ওই হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যাচ্ছে না। জনবল চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখনো সরকারিভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বগুড়া ৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আলহাজ মোশারফ হোসেন বলেন, ২০ শয্যা হাসপাতালটি চালু করার বিষয়ে সংসদে কথা বলেছি। তারা একটি নিরীক্ষা কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন পাঠাবে। সেই প্রতিবেদনের আলোকে তারা হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলেছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা