kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ছাত্রীকে নির্যাতন ও অর্ধনগ্ন ছবি তুলে প্রধান শিক্ষক শ্রীঘরে

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছাত্রীকে নির্যাতন ও অর্ধনগ্ন ছবি তুলে প্রধান শিক্ষক শ্রীঘরে

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মন্তাজ আলীর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে নির্যাতনের পর অর্ধনগ্ন করে ছবি তোলার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজত পাঠিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনার সাথে জড়িত তার ছেলে মো. জাকারিয়া পলাতক রয়েছে। শনিবার কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্কুলছাত্রীকে নির্যাতন ও অর্ধনগ্ন করে ছবি তোলার অভিযোগের সংবাদ প্রকাশ হলে প্রশাসনসহ সমগ্র জেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। সংবাদটি দৃষ্টিগোচর হলে কুলাউড়া থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ পৃথক পৃথক তদন্তে নেমে ঘটনার সত্যতা পায়। 

এ ঘটনায় শনিবার রাতে নির্যাতিতা স্কুলছাত্রীর ফুফু অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. মন্তাজ আলী ও তার ছেলে মো. জাকারিয়াকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মন্তাজ আলী বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার ফি প্রদানে বিলম্ব হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করতে তার ছেলে জাকারিয়াকে দিয়ে অফিস কক্ষে ডেকে নেন। এ সময় তিনি অফিসের দরজা বন্ধ করে এলোপাতাড়ি মারধর করলে ছাত্রীর পিঠে ও হাতের বিভিন্ন জায়গা ফুলে যায়।

এ ঘটনার জের ধরে ক্ষোভ মেটাতেই প্রধান শিক্ষক মন্তাজ আলী ৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে নয়টায় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ডেকে নেন ওই স্কুলছাত্রীকে। এ সময় অফিস কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ করে স্কুলছাত্রীর পিঠের জখম দেখার কথা বলে তার পরনের কামিজ খুলে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। তার ছেলেকে দিয়ে মোবাইলে কয়েকটি আপত্তিকর ছবি তোলেন। ছবি তোলার পর একথা কাউকে বললে ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করেন।

স্কুলছাত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের তদন্তে সত্যতা মিললে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় ওই প্রধান শিক্ষককে অন্যত্র বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আইয়ুর উদ্দিন বলেন, একজন সহকারী শিক্ষা অফিসার ঘটনার সরেজমিন তদন্ত করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়ারদৌস হাসান বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ দেখেই পুলিশ বিষয়টি আলাদা করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। নির্যাতিতা ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা হলে প্রধান শিক্ষক মন্তাজ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। অপর আসামি মো. জাকারিয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা