• ই-পেপার

ছাত্রীকে নির্যাতন ও অর্ধনগ্ন ছবি তুলে প্রধান শিক্ষক শ্রীঘরে

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক

দেবীদ্বারে যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহত ১, আহত ১৫

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
দেবীদ্বারে যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহত ১, আহত ১৫
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে একজন নারী নিহত ও অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। আহতদের দেবীদ্বার ও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাত ১টায় সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আফরোজা পরিবহনের একটি নাইট কোচ কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার উপজেলার ভিড়াল্লা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহত নারী যাত্রীর নাম লিজা আক্তার (৩০)। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলি উপজেলার দামপাড়া গ্রামের মীর করিমের স্ত্রী। তিনি চট্টগ্রামে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

সংবাদ পেয়ে দেবীদ্বার থানার একদল পুলিশ, মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির একদল পুলিশ এবং মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাত ৩টা নাগাদ অভিযান চালিয়ে নিহত নারীর লাশ ও আহতদের উদ্ধার করেন। চান্দিনা থানার ইলিয়েটগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাড়ি থেকে রেকার আসতে বিলম্ব হওয়ায় আহতদের উদ্ধারে বিলম্ব হয়েছে।

রবিউল নামের আহত এক যাত্রী জানান, বাস চালক ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসার পর থেকে গাড়ি এলোমেলোভাবে চালিয়ে আসছিলেন। আমরা তাকে সতর্কও করেছি। দেবীদ্বার এলাকায় আসার পর হঠাৎ গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে কাত হয়ে পড়ে যায়। অধিকাংশ যাত্রীই ঘুমের ঘোরে ছিলেন। গাড়িতে প্রায় ৪০/৪৫ জন যাত্রী ছিলেন।

দেবীদ্বার থানার এসআই সাগর সাহা ঘটনাস্থল থেকে রাত ৩টায় জানান, চালক সম্ভবত ঘুমের ঘোরে থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটায়। দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। মারাত্মক আহত ৭ জনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কুমেক হাসপাতালে এবং বাকিদের দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছি। আমরা থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার কাজ করেছি। রেকার আসলে বাসটি উঠানোর পরই বলা যাবে বাসের নিচে আর কেউ আছে কি না।

নিজ বাসায় কারামুক্ত আইভী, সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নিজ বাসায় কারামুক্ত আইভী, সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
ছবি: কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী কারামুক্তি পেয়ে নিজ বাসায় এসে উঠেছেন। বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কারামুক্তি লাভ করে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার বাসায় আসেন তিনি।

এসময় ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আমি চাই সবাইকে নিয়ে মানবিক সরকার গঠিত হোক। আমার মতো আরো অনেক নিরপরাধ মায়েরা আছে; আশা করি সরকার তাদের প্রতি সদয় হবে।

এদিকে আইভীর আইনজীবী অ্যাড. আওলাদ হোসেন বলেন, বুধবার বিকেলে তার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছায়। খবর পেয়ে আমি ও তার পরিবারের লোকজন আসি। সেই সঙ্গে রাত ১০টায় তিনি মুক্তি পেয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা ১২টি মামলার জামিন বহাল রাখার ব্যাপারে হাইকোর্টের আপিল বিভাগ যে অর্ডার দিয়েছে সেগুলি নারায়ণগঞ্জ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসে। যেদিন এটি নারায়ণগঞ্জ আদালতে আসে একই দিন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন চেয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেকটি আবেদন করি। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অনুমোদনের পর জামিনের কাগজ কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে এর মধ্যে ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হয়ে যায়। এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ জামিনের কাগজ কাশিমপুর পৌঁছেছে।

এর আগে গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে আবারও আরও পাঁচটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর আরও দুইটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আর এসব মামলায় তিনি দীর্ঘদিন ধরেই কারাভোগ করছেন।

সম্প্রতি হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে মোট ১২ মামলায় আইভীর জামিন বহাল রয়েছে এবং তাঁর কারামুক্তিতে এখন আইনি কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবীরা।

প্রসঙ্গত, ২০০৩-২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিনটি নির্বাচনে মেয়র পদে টানা জয়ী হন তিনি।

রামগতিতে হেফজখানার নির্মাণ কাজে বাধা, দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
রামগতিতে হেফজখানার নির্মাণ কাজে বাধা, দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭
সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে একটি হেফজখানা মাদরাসার জমি দখল ও নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে ৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রব রোড নামের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

জানা গেছে, হেফজখানা ও ধর্মীয় শিক্ষা কমপ্লেক্স নির্মাণের লক্ষ্যে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের রব রোড এলাকার মালেক কম্পানি মসজিদ সংলগ্ন ৬৩ শতক জমি কিনেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দীন। বুধবার সকালে ওই জমিতে নির্মাণ কাজের জন্য মাটি ভরাট করতে গেলে স্থানীয় সোলাইমান দফাদারের ভাড়াটে লোকজন নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে হামলা চালায়। এতে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় হামলায় উভয়পক্ষের ৭ জন আহত হয়।

আহতরা হলেন জমির মালিক জামাল উদ্দীন, ছেলে সুমন, পথচারী মামুন, প্রতিপক্ষের মরিয়ম বেগম, শরীফা খাতুন, সাকিবুর রহমান ও সুরমা আক্তার। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ভুক্তভোগী জামাল উদ্দীন বলেন, হেফজখানা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে তিনি এ জমি কিনেছেন। সন্ত্রাসীগোষ্ঠী জমিগুলো দখলে নিতে চায়। স্থানীয় পর্যায়ে একাধিক সালিশে জমির মালিকানার বিষয়টি নিষ্পত্তি হলেও দখলবাজ সোলাইমান ও তার ভাড়াটে লোকজন জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। আজকে আমরা কাজ করতে গেলে তাদের ভাড়াটে লোকজন দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে আমাদেরকে।

অভিযুক্ত সোলাইমান দফাদারের সঙ্গ যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, মারামারির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। দুপক্ষের কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ : অভিযুক্তকে গণধোলাই, পুলিশে সোপর্দ

নাটোর প্রতিনিধি
৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ : অভিযুক্তকে গণধোলাই, পুলিশে সোপর্দ

নাটোরে ৫ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৩ জুন) রাতে এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের সোপর্দ করেছে উত্তেজিত এলাকাবাসী।

অভিযুক্তের নাম শরিফুল ইসলাম (৩৫)। তিনি নাটোর সদর থানার ছাতনী ইউনিয়নের মদনহাট গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে। শরিফুল পেশায় একজন ফুচকা ব্যবসায়ী।

গ্রামবাসী জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে ৫ বছরের ওই শিশুটি নানির সঙ্গে ঘাস কাটতে যায়। এরই এক ফাঁকে শরিফুল ইসলাম ওই শিশুটিকে ডেকে নিয়ে পাশের প্রাইমারি স্কুলে ধর্ষণ করে। এতে শিশুটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে বুধবার সন্ধ্যায় উত্তেজিত গ্রামবাসী শরিফুল ইসলামকে আটক করে গণধোলাই দেয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ শরিফুল ইসলামকে উত্তেজিত এলাকাবাসীর হাত থেকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে।

নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগে শরিফুল ইসলামকে আটক করে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় শিশুটির মাকে বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করার জন্য থানায় আসতে বলা হয়েছে। মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

ছাত্রীকে নির্যাতন ও অর্ধনগ্ন ছবি তুলে প্রধান শিক্ষক শ্রীঘরে | কালের কণ্ঠ