kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রংপুরে শুভসংঘের লেখালেখি কর্মশালা

রংপুর অফিস   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৫:৪৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রংপুরে শুভসংঘের লেখালেখি কর্মশালা

রংপুর শহরের সুমি কমিউনিসিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত  হলো সৃজনশীল লেখালেখি কর্মশালা। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি বিষয়ে সৃজনশীল লেখালেখি নিয়ে এ কর্মশালায় অংশ নেন শতাধিক শিক্ষার্থী। রংপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ কর্মশালা আয়োজন করে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ রংপুর জেলা শাখা।

গতকাল শনিবার বিকেলে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি, লেখক ও কালের কণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার নওশাদ জামিল।

রংপুর শুভসংঘের বন্ধু, স্থানীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি কর্মীদের সৃজনশীল লেখায় অনুপ্রাণিত করে তিনি বলেন, প্রত্যেক সাহিত্যিকই লেখেন মনের আনন্দে, বেদনায়। যারা সংবেদনশীল ও বিবেকবান মানুষ, যারা প্রকৃতি ও মানুষকে ভালোবাসেন, জীবন ও জগতকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেন, তাদের যে কেউ লেখালেখি করতে পারবেন।

কর্মশালায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক ড. তুহিন ওয়াদুদ। সঞ্চালনা করেন কালের কণ্ঠের রংপুর ব্যুরোপ্রধান সাংবাদিক ও সংগঠক স্বপন চৌধুরী।

কর্মশালার শুরতেই স্বাগত বক্তব্যে স্বপন চৌধুরী বলেন, শুভসংঘের বন্ধুরা রংপুরের নানা মহৎ ও শুভকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও জড়িত আছেন। তাদের অনেকেই লেখালেখি করতে চান। তাদের লেখাপ্রকাশের জন্য আমরা শিগগিরই সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশ করবো।

কর্মশালা যেদিন আয়োজিত হয় সেদিন ছিল বাংলা ভাষার খ্যাতিমান কথাসহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিন। প্রয়াত লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কর্মশালার শুরুতে নওশাদ জামিল বলেন, পৃথিবীর সব লেখকই লিখেন তার ব্যক্তিগত তাড়নায়। লেখালেখি করেন ব্যক্তিগত আনন্দ-বেদনায়। কিন্তু লেখকের দক্ষতায় তার ব্যক্তিক অনুভূতিও হয়ে ওঠে সামষ্টিক।

সৃজনশীল ও মননশীল লেখালেখি করতে হলে কী করণীয় তা সম্পর্কে নওশাদ জামিল বলেন, লেখালেখি করতে হলে প্রধানত তিনটি কাজ করতে হবে। প্রথমত পড়তে হবে। দ্বিতীয়ত জীবন ও জগত সম্পর্কে নিজস্ব উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। তৃতীয়ত লেখালেখি শুরু করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের লেখালেখি শুরু করার তাগিদ দিয়ে নওশাদ জামিল বলেন, লেখালেখি চর্চার প্রথম পর্যায়ে ডায়েরি লেখার মধ্য দিয়ে শুরু করা যায়। নিজের অভিজ্ঞতা, ঘটনা, পরিকল্পনা প্রতিদিনই ডায়েরির পাতায় লেখা উচিত। প্রতিদিন অন্তত ১ ঘণ্টা করে ডায়েরি লিখলে ঠিক একমাস পরই একটা ফলাফল পাওয়া যাবে। তার আগে প্রতিদিনই সময় করে পড়তে হবে। শুধু একাডেমিক পড়াশোনা নয়, শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, দর্শনসহ নানা বিষয়ে পড়াশোনা করতে হবে। পড়াশোনার পরিধি বৃদ্ধি পেলে, চোখের দেখা ও প্রাণের কথা বলার পরিধিও বৃদ্ধি পাবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নওশাদ জামিল বলেন, শিল্প-সাহিত্যের পরিধি বিশাল ও ব্যাপক। শিল্প-সাহিত্যের সঙ্গে জড়িয়ে চারুকলা, চলচ্চিত্র, সংগীত, নাটকসহ নানা মাধ্যম। প্রতিটি মাধ্যমের সঙ্গে একজন কবি-সাহিত্যিকের সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। বই পড়ার পাশাপাশি নিয়মিত গান শুনতে হবে। চলচ্চিত্র দেখতে হবে। নিজেকে একজন সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সৃজনশীল চিন্তা ও মনন তৈরি হয়ে গেলে লেখায়ও গতি আসবে।

কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, একজন সাহিত্যেকের প্রধান গুণ তার লেখার নিজস্বতা ও অনন্য বৈশিষ্ট্য। যিনি তার লেখায় নিজস্ব বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটিয়ে তুলতে পারবেন, মূলতই তিনিই ভালো লেখালেখি করতে পারবেন। লেখকের নিজস্ব শৈলি ও বৈশিষ্ট্যই একজন কবি ও সাহিত্যিককে আলাদা করেন, বিশিষ্টতা দান করেন। তার জন্য প্রতিনিয়ত সাধনা ও চেষ্টা করার বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কালের কণ্ঠ শুভসংঘের রংপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার রাব্বি। কর্মশালায় অংশ নেন শুভসংঘের জেলা শাখা ছাড়াও সরকারি রংপুর কলেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, হারাগাছ শাখার শতাধিক বন্ধুসহ রংপুরের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকর্মীরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা