kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

যশোরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি

গ্রামের নাম প্রেমচাড়া, সেখানে কেবলই ভয়

বাঘারপাড়া ও কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি    

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১১:৫৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গ্রামের নাম প্রেমচাড়া, সেখানে কেবলই ভয়

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার প্রেমচাড়া গ্রামের বাসিন্দারা ডেঙ্গু আতঙ্কে ভুগছে। একটু জ্বর হলেই তারা ভীত হয়ে ছুটে যাচ্ছে হাসপাতালে। এক মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ গ্রামের দুই গৃহবধূর মৃত্যু ও প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষ আক্রান্ত হওয়ায় এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এ গ্রামের আবুল হোসেনের স্ত্রী আলেয়া বেগম ও মৃত বাবর আলীর স্ত্রী মাঝু বিবি। এ ছাড়া দক্ষিণ চাঁদপাড়ায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত তাইজেলের ছেলে লাল্টুকে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। লাল্টুর বোন নড়াইলের লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। আর একই গ্রামের শহীদুল ইসলামের ছেলে সম্প্রতি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ ছাড়া ফিরোজের ছেলে ফাহাদ ঢাকা মেডিক্যাল ও চেরাগ আলীর ছেলে আসাদুল খুলনা মেডিক্যাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে এখন বাড়িতে। ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি হয়েছিলেন হাসান আলীর ছেলে রিয়াদ। যশোর মেডিক্যালে ভর্তি ছিলেন এলাহী মোল্লার ছেলে মাস্টার আমজাদ, সাঈদের ছেলে সাকিব, কালু মোল্যার ছেলে সাহেদ। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন ডালিমের ছেলে রিপন হোসেন, মন্টু মিয়ার মেয়ে বৃষ্টি। এ ছাড়া প্রেমচাড়া গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন আব্দুল জব্বারের ছেলে গফফার ও মোনছের, আরশাদ মোল্যার ছেলে কুদ্দুস, আব্দুস সালামের ছেলে ইব্রাহীম, মান্দারের ছেলে মুন্তাজ, সফিউল্লাহর ছেলে আব্দুল্লাহ ও মেয়ে জান্নাতি, মোনতাজ মোল্লার স্ত্রী নবিরন নেছা, হবিবরের স্ত্রী মমতাজ, গফফার মোল্যার ছেলে জাহাঙ্গীর, আরাফাতের ছেলে পলাশ, জাফরের ছেলে বাবর আলী, শরাফতের ছেলে পলাশ, লিটনের মেয়ে মাহিয়া। এদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

এ ব্যাপারে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আরশাদ আছিয়া কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান রোস্তম আলী মোল্যা বলেন, ‘প্রেমচাড়া গ্রামে বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৪০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে সচেতন করার জন্য শোভাযাত্রা, লিফলেট বিতরণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রামের অসচেতন হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সচেতন করার জন্য ডেঙ্গুর লক্ষণ ও করণীয় বিষয়ে আলোচনাসভা শেষে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশা নিধন ও কীটনাশক স্প্রে করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বসতবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম চলছে।’

বন্দবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন খান ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ ইউনিয়নের কেউ মারা যায়নি দাবি করে বলেন, ‘সপ্তাহখানেক ধরে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। কমে গেছে রোগীর সংখ্যা। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত অর্ধশত আক্রান্ত হয়েছিল। বর্তমানে ২০-২৫ জনের মতো বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।’

বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আকতারুজ্জামান জানান, শনিবার পর্যন্ত ১২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে। এ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৯৩ জন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বন্দবিলা ইউনিয়নে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে শুনেছি। তবে এক গ্রামে এত রোগীর কথা শুনিনি।’

মূলগ্রামে কর্মকর্তাদের পরিদর্শন

এদিকে গতকাল সকালে কেশবপুর উপজেলার মূলগ্রাম পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা। এ গ্রামে নিরঞ্জন নন্দনের ছেলে ও ছেলের স্ত্রী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। এ নিয়ে এই গ্রামের ১১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা নিরঞ্জন নন্দনের বাড়িতে গিয়ে অসংখ্য এডিস মশা জন্মানোর উপকরণ দেখে হতবাক হন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হারুন-অর-রশীদ জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মূলগ্রামে সচেতনতামূলক অভিযান চালানোর সময় নিরঞ্জন নন্দনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে অসংখ্য এডিস মশা জন্মানোর উপকরণ। এ সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি মাটিতে ফেলে দেন। তিনি আরো জানান, ওই বাড়ি থেকে বিভিন্ন পাত্র সরিয়ে ফেলা না হলে বৃষ্টি হলে আবারও তাতে পানি জমবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হারুন-অর-রশীদের নেতৃত্বে ডেঙ্গুপ্রবণ ওই গ্রামে সচেতনতামূলক অভিযানে মূলগ্রাম আলিম মাদরাসা, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বালিকা বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আঙিনাসহ বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা