kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আড্ডা ও গানে ব্রহ্মপুত্রে এক বিকেল

বাকৃবি প্রতিনিধি   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আড্ডা ও গানে ব্রহ্মপুত্রে এক বিকেল

দে দে পাল তুলে দে- মাঝি হেলা করিস না, চিরদিনই তুমি যে আমার, এই প্রেম তোমাকে দিলাম, তুমি চোখের আড়াল হও এরকম অসংখ্য গান আর আড্ডায় চিরচেনা ব্রহ্মপুত্র নদে একটি বিকেল পার করলাম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বগুড়া সমিতির সদস্যদের সঙ্গে। ব্রহ্মপুত্র নদের নৈসর্গিকতার স্বাদ গ্রহণের জন্য দিন-তারিখ আগেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। 

পুরোটা সময় হৈ-হুল্লোড় করতে করতে ক্যাম্পাস থেকে নৌকায় চেপে প্রায় ৬ কিলোমিটার অদূরে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্কে যাই আমরা। আর এ পুরোটা সময় জুড়েই গানের তালে উপভোগ করতে থাকি ব্রহ্মপুত্র নদের নৈসর্গিক দৃশ্য। বহমান নদের জলে সূর্য ডোবা দেখা, কাশফুল, সবুজ প্রকৃতি। চারদিকে হিমেল হাওয়া আর পাখিদের কলকাকলি এ যেন স্বর্গ সুখের চেয়েও কম নয়।

আমরা সমিতির সদস্যরা প্রথমে নদীর মাঝে সৃষ্টি হওয়া ময়নার দ্বীপে যাই। সেখানে মাইকে চলে গানবাজনা আর আড্ডা। সেখানে খাওয়া দাওয়া শেষ করে নৌকায় চড়ে ময়মনসিংহ শহরের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্কের উদ্দেশে যাত্রা। প্রায় দু'ঘণ্টা সময় লাগল সেখানে পৌঁছাতে। আর এ সময় ব্রহ্মপুত্রের স্বচ্ছ পানিতে পা ভিজিয়ে নেয় অনেকেই। আর নৌকার ওপরও চলতে থাকে একের পর এক গান ও নাচ। বিভিন্ন স্থানে চলে সদস্যদের ফটোসেশন। 

আর আনন্দ-আড্ডার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে হয় আলোচনা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সমিতির সভাপতি ও মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোছা. মিনারা খাতুন, সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দীক, কৃষি সম্প্রসারণ ও শিক্ষা বিভাগের লেকচারার মো. মাসুদ রানা, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের লেকচারার মো. আরিফ সাকিল, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের লেকচারার আফরিনা রহমান, বগুড়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু রেজওয়ান আল রামীমসহ সমিতির প্রায় শতাধিক সদস্য।

এদিকে বিকেলের সূর্যটা ব্রহ্মপুত্রের পানিতে ভালো লাগার নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। সবাই গান শেষ করার আগেই ব্রহ্মপুত্রের পানিতে ডুবে যায় সূর্য। আনন্দঘন বিকেল কাটিয়ে এবার ফেরার পালা। কিন্তু এমন মায়াবী আর শান্ত পরিবেশ ছেড়ে কে ফিরে যেতে চায়? কিন্তু চাইলেই কী সব হয়! সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে অজস্র অমলিন স্মৃতি নিয়ে ফিরতে হয় আমাদের আপন নীড় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এভাবেই সমাপ্তি ঘটে আমাদের আনন্দঘন এক বিকেলের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা