kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভাতাবঞ্চিত শতবর্ষী আয়েশার দিনরাত্রি

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাতাবঞ্চিত শতবর্ষী আয়েশার দিনরাত্রি

বিধবা ও বয়স্কদের সহায়তায় সরকার নিয়েছে নানা উদ্যোগ। দুস্থ ও সহায় সম্বলহীন নারীদের অনেকেই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন কার্ডের মাধ্যমে সরকারি সহযোগিতা নিয়ে। কিন্ত কিশোরগঞ্জের শতবর্ষী আয়েশা খাতুনের কপালে জোটেনি কোনও কার্ড। প্রতিবন্ধী দুই ছেলের নামে নেই কার্ড। সাথে থাকা কন্যা জাহানারার একই হাল। অসহায় মা ও মেয়ে থাকছেন অন্যের জমিতে ঘর তুলে। জীবন কাটাচ্ছেন প্রতিবেশিদের সাহায্য সহযোগিতায়। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের বানিপাট্টা গ্রামে একটি ঘর তুলে থাকেন আয়েশা খাতুন ও তাঁর বিধবা কন্যা জাহানারা খাতুন।

স্বজনরা জানান, শতবর্ষী আয়েশার জীবনের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে সহস্র কষ্টের গল্প। ১৯৪০ সালে আয়েশার বিয়ে হয়েছিল ডিক্রিরচর গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান খুরশিদ উদ্দিনের সাথে। এ দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। ছেলে মমিন ও আমিন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। মেয়ে জাহানারা ও হেনার বিয়ে হয়ে যায় এক সময়। ১৯৬০ সালে এক দুর্ঘটনায় মারা যান খুরশিদ । সেই থেকে বিধবা আয়েশার অন্যরকম জীবন সংগ্রাম। ১৯৬২ সালে দেবর সুরুজ মিয়ার পরামর্শে সহায় সম্বল বিক্রি করে রংপুরে পাড়ি জমান। সেখানে জাহানারা ও হেনার বিয়ে হয়। এর বছর দুয়েক পর ছোট মেয়ে হেনা মারা যায়। আরেক মেয়ে জাহানারা খাতুনকে ছেড়ে স্বামী চলে যান। এ অবস্থায় জাহানারা ফিরে আসেন মায়ের কাছে। ১৯৬৮ সালে দুই প্রতিবন্ধী ছেলে ও জাহানারাকে নিয়ে আয়েশা ফেরেন বর্তমান ঠিকনায়। ভাইয়ের ছেলে চাঁন মিয়ার ভিটায় একচালা টিনের ঘর তোলেন। সে ঘরেই আয়েশা থাকছেন বড় মেয়ে জাহানারাকে নিয়ে। প্রতিবন্ধী দুই ছেলেকে পাঠিয়ে দিয়েছেন বাহাদিয়া গ্রামে ফুফুর বাড়িতে। বয়সের ভারে ন্যূজ্ব আয়েশা এখন স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে পারেন না। তবে বোঝেন সবই।

মেয়ে জাহানারা খাতুন বলেন, 'মাকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সাহায্যে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে। ভাইদের বুদ্ধি না থাকায় কেউ তাদের কাজ দেন না। তাদের প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড নেই। মায়েরও নেই বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতার কার্ড। নিজেও কার্ড পাইনি। কার্ডের জন্য মেম্বারের পেছনে অনেক ঘুরেও কাজ হয়নি।'

সংসারে আয় রোজগার করার মতো কেউ না থাকায় খুব কষ্টে চলছে আয়েশার সংসার। সেক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা ও ভাতা পেলে কিছুটা হলেও কষ্ট লাঘব হতো। সকলেই এ বিষয়ে সমর্থন দিলেও কার্ড সংগ্রহে টালবাহানা রয়েই গেছে। সুখিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার উজ্জল মিয়ার সাথে কথা বলতে একাধিকবার মোবাইলে কল দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে সুখিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ হামিদ টিটু বলেন, 'আমি বৃদ্ধা আয়েশা ও তাঁর মেয়ের কাছে কার্ড করার জন্য কয়েকবার গিয়েছি। বিধবা বা বয়স্ক ভাতার জন্য তাদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র চেয়েছি। কিন্তু পরিচয়পত্র না দেওয়ায় আমি তাদের ভাতার কার্ড করে দিতে পারছি না।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা