kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আট লাখ মানুষের সেবায় মাত্র চারজন মেডিক্যাল অফিসার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ    

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৩:২৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আট লাখ মানুষের সেবায় মাত্র চারজন মেডিক্যাল অফিসার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলছে চরম জনবল সংকট। জনবল সমস্যা সমাধানে দফায় দফায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কোনো লাভ হয়নি। উপজেলায় ৮ লাখ মানুষের জন্য শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র ৪ জন মেডিক্যাল অফিসার দিয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবার কার্যক্রম।

ফলে একদিকে যেমন হয়রানির শিকার হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা হাজার হাজার রোগী, অন্যদিকে তেমনি কর্মরত চিকিৎসকরাও চরমভাবে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা দিতে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১টি পদের জন্য কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন। তারমধ্যে একজন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ভারপ্রাপ্ত আর এম ও ১ জন ও কনসালটেন্ড চারজনসহ মেডিক্যাল অফিসার রয়েছেন চারজন। 

সরকারের নিয়মে ডাক্তার থাকার কথা সব বিভাগ মিলিয়ে ২৯ জন, সেখানে রয়েছে ৭ জন, এর মধ্যে চারজন মেডিক্যাল অফিসার, এই সরকারি হাসপাতালে ৭ জন ডাক্তার দিয়েই চালাতে হয় সব বিভাগ, টিএইচএ হলেও জনবল সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন থেকে রক্ষা পান না শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার আক্তার আখতার হোসেন।

দীর্ঘদিন যাবৎ শুন্য রয়েছে জুনিয় কনসালটেন্ট (মেডিসিন) একজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানে থেসিয়া) ১ জন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থে পেডিক্স) ১ জন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু) ১ জন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি) ১ জন, আর এম ও, এমও/আইএমও/ইএমও/প্যাথলজি এ্যানেসথেসিয়া/ সমমান সহকারী সার্জন (নবসৃষ্ট হোমিওপ্যাথিক পদে  ৪ জন, এ্যানেস ১ জন, ই এম ও ১ জন, প্যাথলজিস্ট ১ জন, সহকারী সার্জন ১ জন, আই এম ও ১ জন।

ডেন্টাল সার্জন বর্তমানে প্রেষণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে কর্মরত। তাছাড়াও উপজেলায় ১৬টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে ৮টিতে মেডিক্যাল অফিসার পদ দীর্ঘদিন যাবৎ শুন্য রয়েছে। বাকি ৮টি সহকারী সার্জনের পদও দীর্ঘদিন যাবৎ শুন্য রয়েছে। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলি চলছে ফার্মাসিস্ট ও মেডিক্যাল সহকারী দিয়ে।

ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসক ডা. আজিজুল হক জানান, শিবগঞ্জ উপজেলায় ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা থাকলেও মূলত আমাদের গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলার চৌডালা ও বড়গাছী ইউনিয়নের রোগী দেখতে হয়। সব মিলিয়ে আমাদেরকে ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার রোগীদের সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়।

তিনি আরো বলেন, জনবল সংকটের কারণে আমাদেরকে দৈনিক ৬ ঘণ্টার স্থলে ১০ থেকে ১১ ঘন্টা রোগী দেখতে হয়। প্রতিদিন আউট ডোর ও জরুই বিভাগ মিলে প্রায় ৭০০ রোগী হয়। বিভিন্ন কারণে সিরিয়াস রোগীদেরকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করতে হয়। 

তিনি আরো বলেন, শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু জনবল সংকটই নয় আরো অনেক সমস্য রয়েছে। স্থানীয়দের প্রভাব, সন্ধ্যার পর মাদকাসক্ত ও বখাটেদের উৎপাত, ডিজিটাল এক্সরে মেশিন, অ্যাম্বুলেন্স, আলট্রাসনোগ্রাফী মেশিন, আবাসন এলাকায় বাউন্ডারী না থাকা, আউটডোরে উপযুক্ত ওষুধ বিতরণ করতে না পারা, উপজেলার জনসংখ্যার তুলনায় বেড সংখ্যা কম ও মিলনায়তন না থাকাসহ নানাবিদ সমস্যায় জর্জরিত শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। 

শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার আক্তার আখতার হোসেন বলেন, জনবল সংকটসহ নানা সমস্যাবলীর কথা প্রতিমাসে প্রতিবেদন আকারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন জাহিদ হাসান চৌধুরী জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, শুধু শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই নয় জেলা সহ প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একই সমস্য রয়েছে। তবে শিবগঞ্জে বেশি। এ ব্যাপারে আমি স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসককে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। দ্রুত সমাধান হবে বলে আমি আশাবাদী।

তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে বখাটাদের উৎপাত বন্ধ ও মাদকাসক্ততের আড্ডা বন্ধ করার জন্য আমি ইতিমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলামকে অবহিত করেছি। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছে বিভিন্ন ওষুধ কম্পানির প্রতিনিধিদের ভিড় জমানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, ওষুধ কম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভ সমিতির প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেছি।

তারা শুধু সোমবার ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার পর ১ ঘণ্টা সাক্ষাৎ করতে পারবেন। এর ব্যতিক্রম হলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হবো। চলতি মাসে ১টি নতুন অ্যাম্বুলেন্স, ১টি ডিজিটাল এক্সরে মেশিন, ১টি আলট্রাসনোগ্রাফী মেশিন আসার কথা রয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা