kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাস্তা বন্ধ করায় দুই পরিবার অবরুদ্ধ ও ২০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:২৫ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



রাস্তা বন্ধ করায় দুই পরিবার অবরুদ্ধ ও ২০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

ছবি: কালের কণ্ঠ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের রাস্তা বন্ধ করায় ২টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ভাওড়া ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি সদস্য হুমায়ুন ও সাবেক ইউপি সদস্য সেকান্দার নামে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে রাস্তাটি বন্ধের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাস্তাটি বন্ধ করায় ওই গ্রামের আব্দুর রউফ ও আব্দুর রশিদ মিয়ার পরিবারের সদস্যরা গত সাত দিন ধরে চলাচল করতে পারছেন না বলে জানা গেছে।

তাছাড়া হাড়িয়া গ্রামের ৪৫টি পরিবার ও ভাওড়া এবং উয়ার্শী ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে হাড়িয়া গ্রামবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, চলাচলের জন্য হাড়িয়া খেয়াঘাট হতে উয়ার্শী ইউনিয়নের বাঙ্গলা পর্যন্ত একটি কাঁচা রাস্তা রয়েছে। ওই রাস্তা দিয়ে মির্জাপুর উপজেলার মানুষ ছাড়াও ধামরাই ও দেলদুয়ার উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ চলাচল করে থাকে। হাড়িয়া খেয়াঘাটের আনুমানিক ২০০ গজ দূরে আব্দুর রউফ ও আব্দুর রশিদ মিয়ার বাড়ি। বাড়ির ভেতর দিয়ে ওই রাস্তাটি থাকায় রউফ ও রশিদ তাদের বাড়ির সামনে ও পশ্চিম পাশ দিয়ে মাটি ভরাট করে চলাচলের জন্য ১২ ফুট পাশের একটি রাস্তা তৈরি করে দেন এবং বাড়ির ভেতর দিয়ে যাওয়া পুরাতন রাস্তার প্রায় ৬০ ফুট বন্ধ করে দেন। 

হাড়িয়া ও আশপাশের গ্রামের লোকজন ওই রাস্তা দিয়ে হাড়িয়া বাজার, হাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়, উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করতে থাকে। গত এক মাস আগে হাড়িয়া গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য সেকান্দার ও তার ভাই ফজলু মিয়া, মজিবর ও শাজাহান নতুন রাস্তাটির উত্তরপাশে ও রশিদের বাড়ির পশ্চিমপাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। এতে হাড়িয়া গ্রামের ৪৫টি পরিবার, উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের উয়ার্শী, সাফর্তা, নওগাঁও, নাগরপাড়া, ধামরাই উপজেলার বাংগলা, দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটীসহ ২০টি গ্রামের লোকজনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁশের বেড়া ভেঙ্গে দেন। 

পুনরায় গত শনিবার আব্দুর রউফ মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে আব্দুল কদ্দুছ মিয়ার সীমানায় ইউপি সদস্য হুমায়ুন মিয়ার নির্দেশে এবং পশ্চিম পাশে সেকান্দার গংরা বাঁশের বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এতে আব্দুর রউফ ও আব্দুর রশিদের পরিবার পুনরায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এদিকে রাস্তাটি বন্ধ থাকায় গ্রামের ৪৫টি পরিবারসহ ২০টি গ্রামের মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

ঘটনাটি জানার পর গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মির্জাপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দীপঙ্কর ঘোষ, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক, মির্জাপুর থানার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

হাড়িয়া গ্রামের রাজিব হোসেন, দলিল উদ্দিন, নুরু মিয়া, আনোয়ার হোসেন জানান, রাস্তাটি বন্ধ থাকায় গ্রামের ৪৫টি পরিবার দুর্ভোগে পড়েছেন। তাদের অনেক ঘুরে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করে হাড়িয়া বাজার ও বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। তবে বিষয়টি অমানুবিক বলে তারা জানান।
 
ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা বিজিবি সদস্য সজিব হোসেন ও মামুন মিয়া জানান, হাড়িয়া গ্রামে তাদের এক আত্মীয় মারা গেছেন। তার জানাজায় উপস্থিত হওয়ার জন্য শুক্রবার সকাল ১১টায় এসেছেন। কিন্তু রাস্তা বন্ধ থাকায় তারা দুর্ভোগে পড়েন বলে জানান। 

ভুক্তভোগী পরিবারের আব্দুর রউফ ও আব্দুর রশিদ মিয়া জানান, রাস্তাটির প্রায় ৬০ ফুট তাদের বাড়ির ভেতরে রয়েছে। বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতে হয়। রাস্তাটিতে মোটরসাইকেল ও সিএনজি চালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরেনের যান চলাচল করে থাকে। বাড়ির পরিবেশ ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বাড়ির সামনে ও পশ্চিম পাশ দিয়ে আমাদের জমির ওপর রাস্তা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই রাস্তা দিয়েই মানুষ চলাচল করছে।

গত এক মাস আগে হঠাৎ সাবেক ইউপি সদস্য সেকান্দার তাদের বাড়ির পশ্চিম পাশে বাঁশের বেড়া দেন। খবর পেয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা বেড়াটি ভেঙে দেন। কিন্তু গত শনিবার পুনরায় সাবেক ইউপি সদস্য সেকান্দার ও বর্তমান ইউপি সদস্য হুমায়ুন তাদের বাড়ির পূর্ব ও পশ্চিম পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে ওই রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। এতে তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। 

এছাড়া তাদের সঙ্গে গ্রামটির ৪৫টি পরিবারের সদস্যরা বেকায়দায় পড়েছেন বলে জানান। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান। 

সাবেক ইউপি সদস্য সেকান্দার হোসেন জানান, রউফ ও রশিদ তাদের বাড়ির ওপর দিয়ে যাওয়া পুরাতন রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় তারাও রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানান। 

ভাওড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বর হুমায়ুন মিয়া জানান, তিনি রাস্তা বন্ধ করেননি। গ্রামের লোকজন রাস্তা বন্ধ করেছেন। 

ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন জানান, বিগত ইউপি চেয়ারম্যানরা রাস্তা বানিয়েছেন। হঠাৎ কেউ রাস্তা বন্ধ করতে পারবেন না। তাছাড়া পুরাতন রাস্তাটিই মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে বলে তিনি জানান।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক জানান, গত এক মাস আগে বাঁশের বেড়াটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া পুনরায় বাঁশের বেড়া দেওয়ার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা