kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার জের, ফাঁস হলো হত্যা রহস্য

ফকিরহাট-মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি    

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার জের, ফাঁস হলো হত্যা রহস্য

গৃহশিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম শরীফ

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার শাসন গ্রামে পরকিয়ার জের ধরে গৃহশিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম শরীফকে হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় পাঁচ বছর পর মামলা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে একই এলাকার মৃত হাসেন শরীফের ছেলে মো. রবিউল ইসলাম শরীফের লাশ পুতে রাখা স্থানে পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করেছে সংশ্লিষ্ট থানা।

অভিযোগ সূত্রে নিহতের ভাই মো. হাবিবুর রহমান জানান, মো. রবিউল ইসলাম শরীফ প্রতিবেশী মৃত. মোশারেফ শরিফের ছেলে জামাল মোল্লার বাড়ি গিয়ে তার ছেলে রনি ও মেয়ে ঝুমুরকে প্রাইভেট পড়াতেন। ছেলে-মেয়েকে পড়ানোর একপর্যায়ে জামালের স্ত্রী শিলা বেগমের সঙ্গে রবিউলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সম্পর্কের জেরে গত ৩০ অক্টবর ২০১৪ সালে ঘটনার দিন রাত ১১টায় জামাল তার বাড়ির ঘরের এক কক্ষে নিজের স্ত্রী শিলাকে আটকে রাখে অপর কক্ষে রবিউলকে হাত-পা বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। জামাল ও তার ছেলে রনি একসঙ্গে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর তাদের বাড়ির উঠানের সামনে গর্ত খুড়ে রবিউলের লাশ পুতে রাখে। এ ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও ভাইয়ের সন্ধান পায়নি তারা। 

হাবিবুর আরো জানায়, সম্প্রতি জামাল দম্পতির মাঝে পারিবারিক কলহের জের ধরে শিলাকে হত্যার হুমকি দেয় জামাল। এর পরই রেবিয়ে আসে থলের বিড়াল। শিলা বেগম রবিউল হত্যার ঘটনা ফাঁস করে দেয়।

বিষয়টি জানতে পেরে নিহতের ছোট ভাই মো. হাবিবুর রহমান শরীফ গত ২৬ আগস্ট ২০১৯ বাগেরহাট আদালতে রবিউলকে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত উক্ত অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিলেও অদ্যাবধি লাশ/দেহাবশেষ তুলতে অনুমতি দেয়নি।

জামালের প্রতিবেশি সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মর্জিনা বলেন, রবিউল ঢাকায় কাপড়ের ব্যবসা করত, সেই ব্যবসার টাকা জামালকে ধার দিয়েছিল, পরবর্তীতে তার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের জের ধরে উক্ত টাকা আত্মসাৎ করতে রবিউলকে হত্যা করে লাশ মাটিতে পুতে রাখে জামাল। বিষয়টি জনসম্মুখে চলে আসায় জামাল-শিলা দম্পতিসহ অভিযুক্তরা ঘরবড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগের পর লাশের সন্ধানে পুলিশ জামালের বাড়িতে অবস্থান করছে। 

মোল্লাহাট থানা অফিসার ইনচার্জ কাজি গোলাম কবীর কালের কণ্ঠকে বলেন, জঘন্য এ ঘটনার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে তিনি বদ্ধপরিকর। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে লাশ পুতে রাখা স্থান পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। দেহাবশেষ তুলতে আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা