kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

যৌন উত্তেজক বড়ি সেবন না করায়

ধুনটে স্ত্রীর শরীরে জলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দিলেন স্বামী

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৭:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধুনটে স্ত্রীর শরীরে জলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দিলেন স্বামী

যৌন উত্তেজক বড়ি সেবন না করায় বগুড়ার ধুনট উপজেলায় এক গৃহবধূর মুখ বেঁধে শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়েছে তার পাষণ্ড স্বামী। তিনি উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর-দোয়াতপাড়া গ্রামের সবুজ হোসনের স্ত্রী। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে তার স্বজনরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধুনট পৌর এলাকার পূর্বভরণশাহী গ্রামের তুরাব আলীর মেয়ে তাপসির প্রায় ৫ বছর আগে রামকৃষ্ণপুর-দোয়াতপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে সবুজ হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে তাকুয়া ইসলাম সিনফা (১) নামে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী গাজিপুর জিরানি বাজার এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকুরি করে। সেখানে তারা ভাড়া বাসায় বসবাস করে।

সাংসারিক নানা বিষয়াদি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া-বিবাদ হয়। উভয় পরিবারের অভিভাবকরা বৈঠক করে এসব সমস্যার সমাধান করে। এ অবস্থায় প্রায় ২ মাস ধরে সবুজ তার স্ত্রীকে যৌন উত্তেজক বড়ি কিনে সেবন করায়। স্বামীর কিনে দেওয়া বড়ি সেবন করলে শরীর সুস্থ থাকবে বলে তাকে জানানো হয়। কিন্ত সুস্থ থাকার পরও বড়ি সেবন করানো হলে তার মনে সন্দহের হয়। এক পর্যায়ে তিনি কৌশলে জানতে পারেন তাকে সেবন করানো ঔষধটি যৌন উত্তেজক বড়ি।

এ বিষয়টি নিয়ে বুধবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় সবুজ ক্ষুদ্ধ হয়ে স্ত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দেয় ও মারধর করে। তার কান্না যেন কেউ টের না পায় এ জন্য তার মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। কিন্ত স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে তিনি কৌশলে গাজীপুর থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ধুনটে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।

এ বিষয়ে স্বামী সবুজ হোসেন বলেন, অবাধ্য স্ত্রীকে চড়থাপ্পড় মেরে শাসন করেছি। তার শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়নি। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে যৌন উত্তেজক বড়ি কিনে ঘরে রেখেছিলাম। কিন্ত এই বড়ি তাকে সেবন করানো হয়নি। সে অভিমান করে বাবার বাড়িতে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রিপন কুমার বলেন, মেয়েটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ায় ফোসকা পড়েছে। তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সংবাদ পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেয়েটির চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছি। মেয়েটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে পুড়ে ফোসকা পড়ার চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা