kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কক্সবাজারে এনজিওর গুদামে দেশীয় অস্ত্র, এলাকাবাসীর উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৮:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কক্সবাজারে এনজিওর গুদামে দেশীয় অস্ত্র, এলাকাবাসীর উদ্বেগ

কক্সবাজারের উখিয়ার আরো একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এনজিওর গুদামটিতে দা, ছুরি, বেলচা, লাঠি, করাত ও প্লায়ার্স মিলিয়ে এসব দেশীয় অস্ত্রের সংখ্যা কয়েক হাজার হবে বলে জানা গেছে। গোপন সূত্রের সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে আকস্মিক গুদামটিতে অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করেন।

এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একের পর এক এনজিওগুলোর এসব দেশীয় অস্ত্র সরবরাহ দেয়ার ঘটনা হাতে নাতে ধরা পড়ার প্রেক্ষিতে ‘সম্ভাব্য নাশকতা’র শংকা করছেন এলাকাবাসী। যা পরিকল্পিত ঘটনারও অংশ হতে পারে বলেও এলাকাবাসীর কাছে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) ফখরুল ইসলাম জানান, গতকাল বিকালে উপজেলা সদরের মালভিটা পাড়া এলাকায় ‘শেড’ নামের একটি এনজিও অফিসের গুদামে এসব দেশীয় অস্ত্র পাওয়া গেছে। বেশ কিছু পরিমাণের অস্ত্র খোলা ছাড়াও যার মধ্যে ২৫/৩০ টি বস্তা ভর্তি রয়েছে। এসব অস্ত্র গুদামেই জব্দ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এসব ব্যবহার্য গৃহস্থালী জিনিসপত্রের আড়ালে দেশীয় অস্ত্র রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে এনজিওগুলো দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ করে আসছিল। এর আগে উখিয়ার কোটবাজার নামক স্টেশনের একটি কামারের দোকানে উক্ত কর্মকর্তা অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছিলেন আরো বিপুল পরিমাণের নিড়ানী জাতীয় দেশীয় অস্ত্র। মুক্তি নামের একটি স্থানীয় এনজিও এসব অস্ত্র রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরবরাহ করছিল। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র সরবরাহ দেয়ার অভিযোগসহ আরো নানা অভিযোগে এনজিও ব্যুরো ইতিমধ্যে মুক্তি এনজিওটির ছয়টি প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে।

তবে গতকালের অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার বিষয়ে ‘শেড’ নামের স্থানীয় এনজিও’র প্রতিনিধি সরোয়ার হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন-‘ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা-আইওএম আমাদের এসব দিয়েছে। মূলত রোহিঙ্গার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয়দের মাঝে লাইভলী হোড প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য এসব ‘টুল কিটস’ দেয়ার কথা। কিন্তু আইওএম আরো পরে সরবরাহ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এসব গুদামে রাখা হয়েছে।’

অপরদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এনজিওগুলো এসব দেশীয় অস্ত্র সরবরাহ করছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে এক অজানা আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গত ২২ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাবার পর একই দিন রাতে টেকনাফে রোহিঙ্গাদের হাতে স্থানীয় একজন যুবলীগ নেতা নিহতের ঘটনা পরবর্তী এ ধরণের আতংক দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর ধারণা, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে গোপনে দেশী-বিদেশী এনজিওগুলো নানা ছলচাতুরির মাধ্যমে অনেকদিন ধরে অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করে আসছিল। সেই সাথে রোহিঙ্গা ও এলাকাবাসী অথবা রোহিঙ্গাদের মধ্যে দ্বন্ধ সংঘাত সৃষ্টিরও নানা ইস্যু রোহিঙ্গাদের মাঝে কৌশলে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। যে কোন সময় এরকম ঘটনারও আশংকা করা হচ্ছে।

এসব বিষয়ে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কেরুনতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নূর মোহাম্মদ কালের কণ্ঠকে জানান-‘ আমাদের বিদ্যালয় সংলগ্ন রয়েছে ২১ নম্বর চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পটি। গত বুধবার ওই ক্যাম্পটিতে কর্মরত ‘কনসার্ণ’ এনজিও’র এক স্থানীয় প্রতিনিধি একজন বিদেশিকে সাথে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। এ সময় বিদেশী নাগরিককে বেশ উদ্বগ্ন দেখাচ্ছিল।’

শিক্ষক নূর মোহাম্মদ বলেন, দেশি-বিদেশি ওই এনজিও কর্মকর্তাদ্বয় তার নিকট জানতে চান কোন সময় ক্যাম্পে সংঘর্ষের সৃষ্টি হলে তাঁরা (এনজিও কর্মকর্তা) বিদ্যালয়ে এসে আশ্রয় নিতে পারবেন কিনা? বিদেশি এনজিও’র কর্মকর্তাদ্বয়ের এরকম শংকার কথা শুনে স্থানীয় শিক্ষক নূর মোহাম্মদের নিকট বদ্ধমূল ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে, ক্যাম্পের অভ্যন্তরে নানা দ্বন্ধ-সংঘাতের বীজ বোনার ঘটনা চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা