kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তিন বছরে দুই খাম্বা!

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৭:২৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিন বছরে দুই খাম্বা!

নওগাঁর রাণীনগরের সর্বরামপুর গ্রামে তিন বছরেও ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। এলাকার জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের চলাচলের সুবিধার্থে বরাদ্দ সাপেক্ষে ব্রিজ নির্মাণের প্রাথমিক কাজ হিসেবে খালের দুই পাড়ে শুধুমাত্র দুটি খাম্বা তৈরির পর রহস্যজনক কারণে তিন বছর যাবৎ নিমার্ণ কাজ বন্ধ রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে এই ব্রিজের নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় ওই এলাকার দুটি ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রামের সাধারণ মানুষ, স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। তবে শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেঁটে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো ও পারিবারিক ডিঙি নৌকা ভরসা হয়ে দাঁড়ায় এলাকাবাসীর।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার সর্বরামপুর-ভবানিপুর চৌতাপাড়া নামক স্থানে রতনডারি খালের উপর দিয়ে চলাচলের জন্য এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রায়ই বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। নির্মিত বাঁশের সাঁকো কাশিমপুর ও গোনা ইউনিয়নের অবহেলিত জনপদের মধ্যে সর্বরামপুর, কাশিমপুর, ডাঙ্গাপাড়া, এনায়েতপুর, ভবানীপুর, দূর্গাপুর, গ্রামসহ প্রায় ১০টি গ্রামের জনসাধারণের যোগাযোগের ভরসা। যোগাযোগ ব্যবস্থার এই আধুনিকতার যুগে সর্বরামপুর চৌতাপাড়া নামক স্থানে রতনডারি খাল পারাপারের জন্য একটি ব্রিজ নির্মাণের অভাবে দীর্ঘ দিন ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো অথবা নৌকা দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছে এসব গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলার সদর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণে কাশিমপুর-গোনা ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেষে বুক চিড়ে বয়ে গেছে রতনডারি খাল। ১৯১৪ সালে কৃষি জমিতে সেচ ব্যবস্থা ও নৌ চলাচলের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখার জন্য এই খালের পানি প্রবাহ সচল রাখার লক্ষ্যে স্থাণীয় সরকার প্রকৌশলী রাণীনগরের উদ্যোগে কুজাইল স্লুইচ গেট থেকে রক্তদহ বিল পর্যন্ত খাল খনন করা হয়। যার ফলে এই খালে পানির প্রবাহও বৃদ্ধি পায়। বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বছরের বেশি সময় ধরে এই খালে পানি  থৈ থৈ করে। তখন পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় নৌকা। যানবাহন চলাচলের উপযোগী সরাসরি কোনো পথ না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানসহ অন্যান্য কৃষি পণ্যসামগ্রী সহজভাবে বাজারজাত করতে না পারায় নায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে মোটা অংকের লোকসান গুনতে হয়।

তাই এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল, সর্বরামপুর-ভবানীপুর চৌতাপাড়ায় একটি ব্রিজ নির্মাণ করা। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে রাণীনগর উপজেলা পরিষদের রাজস্ব উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ১৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যায়ে কাশিমপুর ইউনিয়নের সর্বরামপুর-ভবাণীপুর গ্রাম সংলগ্ন রতনডারি খালের উপর ফুট ব্রিজ নির্মাণের জন্য ২০১৬ সালের মার্চ মাসে একটি দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র আহ্বানের পর দাপ্তরিক সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে নওগাঁ সদরের পার-নওগাঁ মহল্লার মো. গোলাম কিবরিয়া নামে এক ঠিকাদার নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পান। পরে ওই খালের দুই পাড়ে দুটি খাম্বা নির্মাণের পর রহস্যজনক কারণে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়।

উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মকলেছুর রহমান বাবু জানান, কাজ সম্পন্ন করার জন্য আমি বার বার সংশ্লিষ্টদের কাছে গিয়েছি। কিন্তু ব্রিজের বাকি কাজগুলো শুরু না হওয়ায় আংশিক অবকাঠামো অপচয়ের দিকে যাচ্ছে। দ্রুত এই ব্রিজ নির্মাণ করার দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাইদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ব্রিজটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা একান্ত জরুরি। এই ব্রিজের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে এখনো প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা লাগবে। উপজেলা পরিষদের তহবিলে এই পরিমাণ টাকা না থাকায় ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। তাই অন্য কোনো তহবিল থেকে প্রকল্প গ্রহণ করে কাজ সম্পন্ন করার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা