kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চাটমোহরে রঙের ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরে পাচ্ছে স্কুল

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৩:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাটমোহরে রঙের ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরে পাচ্ছে স্কুল

ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের শিল্পমনা মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে, দেশ-প্রকৃতি সম্পর্কে জানাতে এবং স্কুলগামী করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে পাবনার চাটমোহর উপজেলা প্রশাসন। স্কুলভবনের ভেতরে-বাইরে, প্রবেশমুখ, দেয়াল সবখানে রাঙিয়ে তোলা হচ্ছে নানা রঙে। আর রংতুলি আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে জাতীয় ফল, পশু, পাখি, দেশ-প্রকৃতি, বাংলা-ইংরেজী বর্ণ, মিনা কার্টুন ও মনিষীদের ছবি।

এতে করে দীর্ঘদিনের একঘেয়েমি আর জরাজীর্ণ অবস্থা থেকে এক নতুন সাজে সাজছে চাটমোহর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। এর মাধ্যমে স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার কমবে বলে আশা শিক্ষকদের।

সম্প্রতি উপজেলার বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার অমৃতককুন্ডা, বোঁথড়, দোলং, আফ্রাতপাড়া সহ বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রঙের ছোঁয়ায় স্কুলগুলো যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। শিক্ষার্থীরাও খুব উৎফুল্ল। বাচ্চারা এ সকল ছবি, কার্টুন, ফল, ফুল অঙ্কিত রঙিন দৃশ্য দেখার জন্য স্কুলগুলোতে ভিড় করছে। অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের স্কুলমুখী করতে পেরে অনেকটাই স্বস্তি অনুভব করছেন।

চারুশিল্পী মানিক কুমার দাস স্কুলের দেয়ালে দেয়ালে আঁকছেন ফুল-ফল, পশু-পাখি ও ছোটদের মিনা কার্টুনের ছবি। এ ছাড়া প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে আঁকা হয়েছে বাংলাদেশের মানচিত্র, গুণীজনের প্রতিকৃতি ও নানা ধরনের নীতিবাক্য। এখন পর্যন্ত উপজেলার ২০টি স্কুলে এমন আঁকাআঁকির কাজ করা হয়েছে। 

বোঁথড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিপি খাতুন জানান, একজন শিশুকে ভালো শিক্ষা দিতে প্রয়োজন সুস্থ পরিবেশ ও সুন্দর মন। স্কুলের পরিবেশ যদি সুন্দর হয় তাহলে শিশুদের পড়াশোনায় মনযোগী করে তোলা যায়। বিদ্যালয় রঙিন করে তোলায় লেখাপড়ার পরিবেশ ভালো হবে।

দোলং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লতিকা সুলতানা বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস যে উদ্যোগ নিয়েছে তা খুবই ভালো। শিশুরা আনন্দের সাথে পড়াশোনা করবে। শিশুরা স্কুলমুখী হবে, ঝরে পড়ার হার কমবে। আবার যেভাবে ছবি দিয়ে আঁকানো হচ্ছে, সেসব দেখেও অনেক কিছু শিখতে পারবে শিশুরা।

চাটমোহর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের শিল্পমনা মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং স্কুলমুখী করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্কুলে এমন পরিবেশ পেলে শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে আনন্দ পাবে। পড়াশোনায় মনযোগী হবে এবং ঝরে পড়া রোধ হবে। মূলত এসব কারণেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি স্লিপফান্ডের টাকা ব্যয়ে পর্যায়ক্রমে উপজেলার ১৫৩টি স্কুলকে এমনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান এই শিক্ষা কর্মকর্তা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা