kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ সচল রয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২২:৩৩ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ সচল রয়েছে

ছবি : কালের কণ্ঠ

সরকারি নির্দেশে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল কম্পানিগুলোর ইন্টারনেট সংযোগ এখনো সচল রয়েছে। তবে সন্ধ্যার পর থেকে কোনো কোনো ক্যাম্প এলাকায় নেট দুর্বল হয়ে পড়ে। সর্বশেষ আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্যাম্পগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। তবে সন্ধ্যার পর থেকে ক্যাম্পের কোনো কোনো এলাকায় নেট ক্রমশ দুর্বল হতে থাকায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা মনে করছেন সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষণ হতে পারে। তবে মোবাইল সংযোগ সম্পূর্ণ চালু রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নিকারুজ্জামান আজ সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেছেন, আমি আজ বিকাল থেকেই রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সরেজমিন গিয়ে দেখতে পেয়েছি ইন্টারনেট ক্রমশ দুর্বল হতে শুরু করেছে। এমনকি ৩জি থেকে ২জিতে নেমে এসেছে। তিনি জানান, গত সোমবারই মোবাইল নেট বন্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জেলা প্রশাসক তাকে অবহিত করেন। 

এদিকে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইন্টারনেট সংযোগে থাকা কয়েকজন রোহিঙ্গা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৫টা থেকে ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে গত কিছুদিন ধরেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সন্ধ্যার দিকে ইন্টারনেট সংযোগ এমনিতেই দুর্বল ছিল। তবে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি ক্যাম্পগুলোতে ইন্টারনেট বেশ গতিসম্পন্ন থাকে বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা।

এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল সংযোগ নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, তারা নানাভাবে ক্যাম্পে এসে মোবাইল সিম পেয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে রোহিঙ্গা হামিদ হোছন জানিয়েছেন, মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করা হলেও তিনি তেমন অসুবিধায় পড়বেন না। কক্সবাজারের উখিয়ার হাকিমপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হামিদ হোছন ও তার স্ত্রীর কাছে চালু রয়েছে বেসরকারি মোবাইল কম্পানি রবি ও বাংলালিংকের দু’টি সিম। একটি সিম থাইনখালী বাজারের এক বিকাশ দোকান থেকে আনরেজিস্টার্ড ভাবে ক্রয় করা হয়েছিল। তবে আরেকটি স্থানীয় একজন গ্রামবাসীর আইডি দিয়ে চালু রয়েছে। তাই রোহিঙ্গা হামিদের সুষ্পষ্ট বক্তব্য, তিনি একটি মোবাইল সিম নিয়ে বৈধ অবস্থানে আছেন। 

টেকনাফের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আবুল হাশেম জানিয়েছেন, আমি রবি কম্পানির সিম কিনেছি মিয়ানমারের রাখাইনে থাকতে। অর্থাৎ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের আগে মিয়ানমারের ১২ হাজার কিয়েত দিয়ে একটি সিম নিয়েই বাংলাদেশে আসি। সিমটির রেজিস্ট্রেশন আছে কি না তা জানি না। 

একই ক্যাম্পের বি ব্লকের রোহিঙ্গা নুরু মাঝির এক ভাই ৪ বছর আগেই টেকনাফে এসে এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে এখানে আশ্রয় নেয়ার পর সেই কার্ড নিয়েই মোবাইল সিম নিয়েছে।

কুতুপালং হিন্দু রোহিঙ্গা সদস্য জগদীশ মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ নিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে স্থানীয় বাংলাদেশিদের যে দশা হবে আমারও তাই হবে। কেননা আমি স্থানীয় আমারই সম্প্রদায়ভুক্ত একজনের আইডি কার্ড নিয়ে রবি কম্পানির সিম নিয়েছি। যদিওবা আমার সেই আত্মীয় বর্তমানে রয়েছেন মালয়েশিয়া।

আবার জামতলি ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নুরুল আমিন বলেছেন, আমি রবি কম্পানির সিম নিয়েছি একটি স্থানীয় পান দোকান থেকে। রেজিস্ট্রেশনেরও কোন দরকার পড়েনি। আত্মীয় স্বজনের সাথে যোগাযোগ রাখা দরকার। বন্ধ হলে কি হবে?

কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে আলাপে রোহিঙ্গারাই বলেছেন এসব কথা। 

আবার স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, রবি কম্পানির লোকজনই রোহিঙ্গাদের ডেকে ডেকে তাদের সিম বিক্রি করেছেন। উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে জানান, মোবাইল কম্পানিগুলো ভুয়া কর্পোরেট অফিসের নামেও শত শত সিম রোহিঙ্গাদের কাছে বিক্রি করেছে। এমনকি স্থানীয়রা যখন সিম কিনতে যায় তাদের কয়েক বার ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে রেখেও পরে এসব বিক্রি করেছে রোহিঙ্গাদের কাছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের কাছে যেসব মোবাইল সিম রয়েছে তার সিংহ ভাগই হচ্ছে অবৈধ। এসব সিমের কোন রেজিস্ট্রেশন নেই। রোহিঙ্গাদের স্থানীয় লোকজনের আইডি দিয়ে কম্পাইগুলো সিম বিক্রি করেছে-এমনও রয়েছে অনেক। যেসব রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে বাইরে স্থানীয়দের কাছে কাজ-কর্ম করে তারা ওইসব গ্রামীণ লোকজনের আইডি নিয়ে সিম নিয়েছে। এরকম টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নে ২/৩ হাজার মাছধরা নৌকায় জেলে হিসাবে কর্মরত রোহিঙ্গারা নৌকা মালিকদের আইডি নিয়ে মোবাইল সিম নেয়ার খবরও জানা গেছে।

রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, দেশি-বিদেশি এনজিওগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কর্মরত রোহিঙ্গাদের প্রত্যেকের হাতেই রয়েছে মোবাইল। তাদের অনেকেই এনজিওতে কাজ করে শিক্ষা-দীক্ষায় অনেক দক্ষতাও অর্জন করেছে। তারা বিদেশে অনেক তথ্য পাচার করে থাকে। আবার মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবসহ পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, দুবাই, তুরস্ক, সুদান থেকে শুরু করে বিভিন্ন মুসলিম দেশে বসাবসরত রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিশাল গ্রুপ রয়েছে ইন্টারনেট ভিত্তিক। 

ক্যাম্পে নেট দুর্বল হলে কেবল এই গ্রুপটিসহ এনজিওতে কর্মরত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তথ্য পাচারে সমস্যার মুখে পড়বে। তবে ক্যাম্প থেকে ক্যাম্প সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গারাই যথেষ্ট অসুবিধার মুখে পড়ে যাবে এমন ক্ষেত্রে। কেননা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পে এবং পাশের পাহাগে ঘাপটি মেরে মোবাইল এবং নেটেই যাবতীয় যোগাযোগ রেখে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা