kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ট্রেনে হিজড়া ও হকার ঠেকাতে লিফলেট বিরতণ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি    

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:০৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ট্রেনে হিজড়া ও হকার ঠেকাতে লিফলেট বিরতণ

ট্রেনে হিজড়া ও হকারদের না ওঠার জন্য এবং ট্রেনের ছাদে, বাফারে ও ইঞ্জিনে অবৈধভাবে ভ্রমণ হতে বিরত রাখার জন্য সচেতনামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনের ওপর দিয়ে চলাচল করা ট্রেনের যাত্রীদের মাঝে এই সচেতনা লিফলেট প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী বিভাগের উদ্যোগে রেলওয়ের কর্মকর্তা ও রেলওয়ে পাকশী জেলার স্কাউট দলের সদস্যরা এই লিফলেট বিরতণ করেন।

রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ঈশ্বরদী থেকে ছেড়ে যাওয়া রাজশাহীগামী কমিউটার এক্সপ্রেস, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা গোয়ালন্দগামী মধুমতি এক্সপ্রেস, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী মহানন্দা এক্সপ্রেস, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস, গোপালগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস, চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী রুপসা এক্সপ্রেস, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী রুপসা ও সীমান্ত এক্সপ্রেস চলাচল করে। এসব ট্রেনে হিজড়া উঠে যাত্রীদের নিকট থেকে টাকা আদায় করে। টাকা দিতে না চাইলে যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। অশ্লীল ভাষায় কথা বার্তা বলে। এতে ভ্রমণ প্রিয় যাত্রীরা বিব্রতবোধ করে।

আর হকাররা ট্রেনের মধ্যে বাদাম, চা, পান-সিগারেট, ঝাল মুড়ি, রুমালসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রয় করে। তাদের জিনিস বিক্রয়ের জন্য উচ্চ স্বরে ডাকাডাকি করে বিরক্ত করে। একই সঙ্গে কাগজ ফেলে ডাকাডাকি ট্রেনের বগির পরিবেশ নষ্ট করে। তাই হিজড়া ও হকারদের উঠতে না দেওয়ার জন্য যাত্রীরা প্রায়ই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করে আসছিল। যাত্রীদের দাবিটি বাস্তবায়নের জন্যই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, এই স্টেশনের উপর দিয়ে চলাচলকারী কোনো ট্রেনেই হিজরা, হকার ও অবৈধ ও অনিরাপদভাবে চলাচলকারী যাত্রীদের ট্রেনের ছাদে, বাফারে ও ইঞ্জিনের বগিতে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। রেলওয়ে জিআরপি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা স্টেশনে অবস্থান নিয়েছে। স্টেশনে ট্রেন প্রবেশ করলেই ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরিদর্শক ও পরীক্ষকরা বিনাটিকেটের যাত্রীদের টিকিট ছাড়া, ট্রেনে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না।

ট্রেন ভ্রমণকারী আকবর হোসেন, মতিয়ার রহমান, সোলাইমান হোসেন, আব্দুল করিম কালের কণ্ঠকে জানান, দীর্ঘদিন পর হলেও রেলওয়ে কর্মকর্তারা একটি দারুণ উদ্যোগ নিয়েছেন। ট্রেনের ভিতরে হিজড়া, হকার ও অবৈধ যাত্রীদের কারণে ট্রেন ভ্রমণের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। ট্রেন এখন থেকে ময়লা কাগজ, বাদামের খোসা, বিভিন্ন ফলের খোসামুক্ত থাকবে। ভ্রমণও আরাম দায়ক হবে বলে জানান যাত্রীরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমাঞ্চলের রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় দপ্তরের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, বৈদ্যুতিক কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ) মমতাজুল ইসলাম, বিভাগীয় সংকেত ও টেলিকম প্রকৌশলী রুবাইয়াত শরীফ প্রান্ত, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডেন্ট রেজওয়ান-উর-রহমান, রেলওয়ে ঈশ্বরদী জিআরপি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম, ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন এর ভারপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট শেখ আসলাম উদ্দিন, পাকশী জেলা স্কাউট দলের লিডার সোহেল রানাসহ স্কাউট দলের ছেলে মেয়েরা।

বাংলাদেশ রেলয়ে পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ট্রেনকে হিজড়া, হকারদের উঠতে দেওয়া হবে না। ট্রেনের ছাদে, বাফারে এবং ইঞ্জিনের বগিতে অনিরাপদ ভাবে ভ্রমণকারীদের রোধ করা হবে। এমন কি রেলওয়ে আইনে তাদের আটক করে জেল, জরিমানা আদায় করা হবে।

তিনি আরো জানান, হিজড়া ও হকার এবং অবৈধ যাত্রীরা নিরাপদ ট্রেন ভ্রমণের পরিবেশ বিনষ্ট করে। এতে রেলওয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাই তাদের প্রতিরোধ করতে এই প্রচার অভিযান এবং প্রতিরোধ কর্মসূচি চলমান রাখা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা