kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফ্রান্স যাওয়ার পথে স্লোভাকিয়া জঙ্গলে নিখোঁজ বিশ্বনাথের যুবক

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৯:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফ্রান্স যাওয়ার পথে স্লোভাকিয়া জঙ্গলে নিখোঁজ বিশ্বনাথের যুবক

ইউক্রেন থেকে ফ্রান্স যাওয়ার পথে স্লোভাকিয়া জঙ্গলে নিখোঁজ হয়েছেন সিলেটের বিশ্বনাথের ফরিদ উদ্দিন আহমেদ (৩৫) নামে এক যুবক। তিনি উপজেলার কারিকোনা গ্রামের সমশাদ আলীর পুত্র ও ইস্টার্ন ব্যাংক বিশ্বনাথ শাখার সাবেক কর্মকর্তা।

দালাল ও ৫ জন সঙ্গীর সাথে ফরিদ উদ্দিন ফ্রান্স যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত ২৮ আগস্ট ইউক্রেন থেকে পায়ে হেঁটে যাত্রা করেন। দালাল ও ৫ সঙ্গী সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) ফ্রান্স পৌঁছালেও ফরিদ নিখোঁজ রয়েছেন। তার সঙ্গীরা জানিয়েছেন, ফ্রান্স যাওয়ার পথে স্লোভাকিয়ার একটি জঙ্গলে নিখোঁজ হন ফরিদ।

ফরিদের ছোট ভাই আলা উদ্দিন জানান, ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে রাশিয়া যান ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। খেলা শেষ হওয়ার মাস খানেক পর তিনি রাশিয়া থেকে ইউক্রেন যান এবং দেখানে দীর্ঘ কয়েক মাস অবস্থান করেন। সম্প্রতি ইউক্রেন থেকে ফ্রান্স যাওয়ার জন্য বাংলাদেশে থাকা দালালের সাথে চুক্তি করেন ফরিদের পরিবার। সেই চুক্তি অনুযায়ী মধ্যস্থতাকারী এক ব্যক্তির কাছে রাখা হয় ৭ লাখ টাকা। কথা ছিল গাড়িতে করে ফরিদকে ফ্রান্স পৌঁছানোর পর জমাকৃত ৭ লাখ টাকা হস্তান্তর করা হবে। চুক্তির পর ইউক্রেনে দালালের শিবিরে যান ফরিদ। সেখানে প্রায় ১ মাস অবস্থান করেন তিনি। সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট পরিবারের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেন ফরিদ।

এ সময় তিনি জানান, পরদিন ২৮ আগস্ট ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে তিনি যাত্রা করবেন। এই কথা বলার পর থেকে পরিবারের সাথে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। গতকাল সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) ফরিদ উদ্দিন উদ্দিনের এক সঙ্গী (ফ্রান্স যাত্রা পথের) ফোন করে ফরিদ উদ্দিনের ভাই যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত কাওছার আলীকে বলেন, গত বুধবার একজন দালালের সঙ্গে ফরিদ উদ্দিনসহ তারা ৬ জন ইউক্রেন থেকে ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। পায়ে হেঁটে ফ্রান্স পৌঁছাতে তাদের ৫ দিন লাগে। কিন্ত তাদের সাথে খাবার ছিল মাত্র দু’দিনের। তাই সাথে থাকা খাবার শেষ হয়ে গেলে তাদেরকে শুকরের মাংস খেতে দেয় দালাল। কিন্ত এই খাবার খেতে অপারগতা প্রকাশ করেন ফরিদ। তাই তিনি সাথে থাকা খেজুর খেয়ে আরো একদিন পার করেন। দুদিন পায়ে হেঁটে তারা পৌঁছান স্লোভাকিয়ার একটি জঙ্গলে। সেখানে পৌঁছার পর সাথে থাকা খেজুরও শেষ হলে শুকরের মাংস খেতে বাধ্য হন ফরিদ। এটা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। জঙ্গলে সেদিন রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে একটি শব্দ পেয়ে সবার ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় তারা ঘুম থেকে উঠে ফরিদকে পাশে দেখতে না পেয়ে জঙ্গলে খুঁজতে থাকেন। কিন্ত কোথাও ফরিদকে না পেয়ে তাকে রেখেই ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন দালাল ও অন্য ৫ জন।

আলা উদ্দিন বলেন, আমরা ধারণা করছি আমার ভাই অসুস্থ হয়ে পড়লে স্লোভাকিয়ার ওই জঙ্গলে তাকে ফেলে রেখে অথবা তাকে হত্যা করে দালাল ও সঙ্গীরা ফ্রান্সে চলে যায়। মহান আল্লাহ যেন আমার ভাইকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন সকলের কাছে এই দোয়াই কামনা করছি।

এদিকে ফরিদের নিখোঁজ সংবাদ পাওয়ার পর পরিবারে দুঃশ্চিন্তা বিরাজ করছে। কান্নাকাটি করছেন স্বজনরা। পরিবারের ৬ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে সবার বড় ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তার স্ত্রী সেলিনা সুলতানা বিশ্বনাথ উপজেলার রামধানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। ইরা তাসফিয়া নামে তার ৩ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা