kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক, সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন না অভিভাবকরা

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:৩৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক, সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন না অভিভাবকরা

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে গ্রামবাসী শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিলেন। শিক্ষকের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো অভিভাবক তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাবেন না বলে জানান। তবে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর আহ্বান জানান শিক্ষা কর্মকর্তা।

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ১৯৯৫ সালে আতকাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে একজন প্রধান শিক্ষক ও চারজন সহকারী শিক্ষক কর্মরত আছেন। বিদ্যালয়ে ২৩৯ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ করছেন। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, স্কুল অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, উপবৃত্তি ও বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক মো. একিন আলীর বিরুদ্ধে।

এ সমস্ত অভিযোগ এনে সোমবার গ্রামবাসী তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পড়তে পাঠায়নি। শিক্ষকের অপসারণ দাবি করে বিদ্যালয়ের সামনে গ্রামবাসী অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে খবর পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামিম আহমেদ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় গ্রামবাসী শিক্ষার মান, উপবৃত্তির টাকা না পাওয়া, প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা, বিদ্যালয়ে টিউবওযেল নষ্ট, ফান্ডের ও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের সরকারি বরাদ্দ সুষ্ঠুভাবে কাজ না করে অর্থআত্মসাত ও শিক্ষার্থীদের মারধর করা এবং তার স্বজনদের দিয়ে গ্রামবাসীদের হুমকি-ধমকিসহ পেশিশক্তি ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসী প্রকাশ্যে তার অপসারণ দাবি করে শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক প্রতিনিধি আসকর মিয়া প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি ও শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করাসহ সমস্ত অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. একিন আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামিম আহমেদ জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তা ছাড়া গ্রামবাসিী যেন তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠান সে আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা