kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পানি সংকট : সোনালী আঁশ এখন কৃষকের গলার ফাঁস

নয়ন খন্দকার, কালীগঞ্জ   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৩:১০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পানি সংকট : সোনালী আঁশ এখন কৃষকের গলার ফাঁস

ধানের লোকসান পোষাতে পাট চাষে ঝুঁকেছিলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা। কিন্তু চলতি বছর এ উপজেলায় তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অধিকাংশ মাঠজুড়ে দণ্ডায়মান রয়েছে কৃষকের পাট। বৃষ্টির পানির অভাবে অধিকাংশ কৃষক পাট জাগ দিতে পারছেন না। ফলে অনেক কৃষক ক্ষেতে পাট কেটে ফেলে রেখেছেন। আবার অনেকে ক্ষেতের পাট এখনো কাটেননি। যার কারণে ক্ষেতেই কৃষকের দণ্ডায়মান ও কেটে রাখা পাট শুকিয়ে যাচ্ছে। পানির অভাবে সোনালি আঁশ এখন কৃষকের গলায় ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ১৩৩৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উপজেলার ৮৫০ কৃষক ১৩৪০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার ৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। 

উপজেলার বুজরুখমুন্দিয়া গ্রামের কৃষক ইউনুচ আলী জমাদ্দার বলেন, তিনি বৈশাখ মাসে দেড় বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেন। বীজ, সার, কীটনাশক পরিচর্যাসহ তার প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগে পাট কাটার মতো অবস্থা হয়ে যায়। কিন্তু বৃষ্টির পানির অভাবে পাট কাটতে পারেননি। কারণ বৃষ্টি না হওয়ায় এলাকার পুকুর, খাল-বিল, খানা গর্ত কোনো স্থানেই পানি নেই। যার কারণে পাট জাগ দিতে পারছেন না। তিনি অর্ধেক জমির পাট কেটে ক্ষেতে ফেলে রেখেছেন আর অর্ধেক পাট এখনো জমিতে দণ্ডায়মান রয়েছে। 

একই গ্রামের কৃষক সব্দুল হোসেন জানান, তিনিও ২ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় পুকুর-খাল-বিল কোনো স্থানে পানি জমেনি। যার কারণে পাট জাগ দিতে পারেননি। বর্তমানে পাট শুকিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, বাজারে প্রথম দিকে ১৫ শ থেকে ১৮ শ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু এখন দাম কমে এসেছে। বর্তমানে ১২ শ থেকে ১৩ শ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য গত বছর পাটের বাজার ভালো ছিল। আমরা আশা করেছিলাম ধানের লোকসান কিছুটা হলেও পাট থেকে তুলে নেব। কিন্তু পানির অভাবে এখন পাটই কাটতে পারছি না। ভালোভাবে পাট জাগ দিতে না পারলে তাতে পাটের রং ভালো আসবে না। দামও পাব না। বর্তমানে পাট নিয়ে আমরা চিন্তায় আছি। 

উপজেলার বুজিডাঙ্গা গ্রামের পাটচাষি আশাদুল ইসলাম জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর বাজারে পাটের দাম অনেক কম। এবার পাট চাষ করে বিপদে পড়েছি। ধানের দাম পাইনি, এবার পাটের দামও পাব না। তিনি আরো জানান, ১০ কাঠা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। তাতে প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় পুকুর-খালে পানি জমেনি। পানির অভাবে শ্যালো মেশিন দিয়ে পুকুরে পানি ভর্তি করে পাট জাগ দেব। ঘণ্টাচুক্তিতে পানির দাম দিতে হচ্ছে। ১ শ বান্ডিল (১২ থেকে ১৫ টিতে একটি বান্ডিল) পাট চিকাতে (ছিলতে) ৩ শ টাকা করে দিতে হবে। সব খরচখরচা বাদে পাটে লোকসান গুনতে হবে। 

আশাদুল, ইউনুচ, সব্দুলদের মতো অনেক চাষি জানান, বিভিন্ন জেলায় বন্যা ও ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। কিন্তু আমাদের ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জের কোনো স্থানেই বৃষ্টি হয়নি। পানির অভাবে এ উপজেলার অধিকাংশ কৃষকের পাট ক্ষেতেই শুকিয়ে যাচ্ছে। 

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। কিন্তু পাট পচানোর জন্য গ্রামাঞ্চলে যে পরিমাণ পানি থাকার কথা সে পরিমাণ পানি নেই। এখন কৃষকরা গর্তের মধ্যে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পানি দিয়ে পাট পচাচ্ছে। তাতে পাটের মান নিম্নমানের হচ্ছে। তিনি আরো জানান, ভালো পাট বাজারে ১৮ শ থেকে ১৯ শ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু কোয়ালিটি খারাপ হলে সে পাটের দাম কম পাওয়া যাচ্ছে। 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা