kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রোহিঙ্গা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ৮ জনকে প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৩:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ৮ জনকে প্রত্যাহার

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা প্রশাসনে শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের রদবদল হয়েছে। গতকাল সোমবার একদিনেই রোহিঙ্গা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা সরকারের অতিরিক্ত সচিব এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ আবুল কালামসহ ৮ কর্মকর্তাকে সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ৭ জন হচ্ছেন- রোহিঙ্গা শিবিরের ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি)। আরআরআরসি সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে জনপ্রশাসন বিভাগ গতকালই দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক এবং সরকারের যুগ্ম সচিব মাহবুব আলম তালুকদারকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা প্রশাসনে নতুন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) নিয়োগ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জনপ্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা এবং উপ সচিব মো. খলিলুর রহমান খানকে অতিরিক্ত আরআরআরসি হিসাবে।

অপরদিকে কক্সবাজারের প্রত্যাহার হওয়া আরআরআরসি এবং অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল কালামকে বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে বিশেষ কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রত্যাহার হওয়া ক্যাম্প ইনচার্জের মধ্যে তিনজনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। অপর চারজনের নাম এসব ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) হলেন- যথাক্রমে কুতুপালং ৩, ৪, ৫ ও ১৭ নম্বর ক্যাম্পের উপ সচিব শামীমুল হক পাভেল, ১৩ ও ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্যাম্প ইনচার্জ সিনিয়র সহকারী সচিব আবদুল ওয়াহাব রাশেদ এবং বালুখালী ক্যাম্পের ক্যাম্প ইনচার্জ সিনিয়র সহকারী সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

প্রত্যাহার হওয়া আরআরআরসিসহ সরকারি এসব কর্মকর্তারা ২০১৭ সালের আগস্ট পরবর্তী সময়ে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা প্রশাসনে যোগ দিয়েছিলেন। সেই থেকে এসব কর্মকর্তারাই মানবতায় আশ্রয় নেওয়া এগার লক্ষাধিক রোহিঙ্গার দেখভাল করে আসছিলেন।

অভিযোগ আছে, এই দুই বছর যাবৎ রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা প্রশাসনের এসব কর্মকর্তারা স্থানীয় অন্য কোনো প্রশাসনের কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধির সঙ্গেও কোনো কিছু শেয়ার করারও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। এ কারণেই গত দুই বছর ধরে বাস্তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কেবল এক তরফাভাবে রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রত্যাবাসন বিরোধী মনোভাব ছাড়া অন্য কোনো ইস্যু তৈরি হয়নি।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা প্রশাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হচ্ছে, এই দুই বছর ধরে কেবল মাত্র দেশি-বিদেশি এনজিও এবং বিদেশি সংস্থার পরামর্শে রোহিঙ্গাদের ভাগ্য বদল করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সময়েই প্রশাসনিক কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাবার জন্য মোটিভেশনের কাজ করা হয়নি। এমনকি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো চলেছে এনজিওদের পরামর্শে। 
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ‘সাইট ম্যানেজমেন্ট’ নামে পরিচিত একটি নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে ক্যাম্পের যাবতীয় কাজে এনজিওদের খবরদারি প্রথা চালু করে সরকারি কর্মকর্তাদের পর্যন্ত ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। এমন দুর্বল পদ্বতির বিষয়টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে তুলে দিয়েছে বিদেশি সংস্থা এবং এনজিওদের হাতে।

এভাবে টানা দুই বছর অতিবাহিত হবার পর সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট দ্বিতীয় দফার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাওয়া থেকে শুরু করে ২৫ আগস্টের রোহিঙ্গাদের লাখো সমাবেশ অনুষ্ঠানের পর সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে টনক নড়ে উঠে। সেই থেকে নানা সংস্থা দিয়ে গোপন তদন্তের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের পরই এ রকম ব্যাপক রদবদল করা হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে দীর্ঘদিন পর রোহিঙ্গা শিবিরের রদবদলে স্থানীয় সুশীল সমাজেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরকম রদবদলকে সরকারের ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে আশা করছেন অনেকেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা