kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সার্ভারে ঢুকে এনআইডি জালিয়াতি

তদন্তে হদিস মেলেনি জালিয়াতচক্রের

 তথ্য আপলোড করা ডিভাইস বা কম্পিউটার চিহ্নিত হয়নি
 কমিটির প্রতিবেদনে ৭৩ ভুয়া এনআইডি কার্ডের খোঁজ
 রোহিঙ্গা ডাকাত নূর মোহাম্মদের কার্ডও ভুয়া ঠিকানায়

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:০৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তদন্তে হদিস মেলেনি জালিয়াতচক্রের

কোন কম্পিউটার বা ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া ভোটারের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সার্ভারে আপলোড করা হয়েছে তা চিহ্নিত করতে পারেনি তদন্ত কমিটি। এমনকি জালিয়াতচক্রের সঙ্গে জড়িতদের হদিসও মেলেনি। তবে মোট ৭৩টি ভুয়া এনআইডি কার্ডের খোঁজ মিলেছে।

রোহিঙ্গা নারীর চাঞ্চল্যকর এনআইডি কার্ড জালিয়াতির ঘটনায় নির্বাচন কমিশন গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে এই জালিয়াতি নিয়ে অধিকতর তদন্তে ঢাকা থেকে এনআইডি উইংয়ের একটি কারিগরি দল আগামীকাল বুধবার চট্টগ্রামে আসছে।

এদিকে এনআইডি কার্ড জালিয়াতি, আঙুলের ছাপ ও আইরিশ ছাড়া স্মার্ট কার্ড বের করার ঘটনার পর পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত নূর মোহাম্মদের চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে স্মার্ট কার্ড প্রাপ্তির বিষয়টিতে বিব্রত চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস। তবে প্রাথমিক তদন্তে ভোটার হওয়ার জন্য ব্যবহূত তার ঠিকানাটি ভুয়া বলে প্রমাণ হয়েছে।

আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লাকী নামের এক মহিলা গত ১৮ আগস্ট স্মার্ট কার্ড তুলতে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গেলে তার হাতে পুরনো এনআইডিতে ১৭ ডিজিটের নম্বর দেখে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে জেরার মুখে লাকী নিজের প্রকৃত নাম রমজান বিবি এবং ২০১৪ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসার পর টেকনাফের মুচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছিলেন বলে স্বীকার করেন। ওই রোহিঙ্গা নারী ভুয়া ঠিকানা দিয়ে তৈরি করিয়েছেন ওই জাল এনআইডি। অথচ ওই ভুয়া পরিচয়পত্রের তথ্যও নির্বাচন কমিশনের তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষিত আছে।

এনআইডি জালিয়াতি নিয়ে এর আগে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া গেলেও সরাসরি সুরক্ষিত এনআইডি সার্ভারে ঢুকে মিথ্যা তথ্য আপলোড করার মতো ঘটনার কথা জানা যায়নি। এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন। চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি ঢাকা এনআইডি উইং থেকেও টেকনিক্যাল টিম আসছে তদন্তে। নগরীর কোতোয়ালি থানায় এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। 

দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রধান কোতোয়ালি থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তদন্ত করতে গিয়ে আমরা লাকি ওরফে রমজান বিবির ভোটার আইডি কার্ডের নিবন্ধন ফরমের সিরিয়াল ৪১৮৬৬৬৩৬৮ এর শেষ দুই ডিজিটের ১ থেকে ১০০ নম্বর ফরম যাচাই-বাছাই করে মোট ৭৩টি এনআইডি কার্ড চিহ্নিত করেছি। এগুলোর তথ্য এনআইডি সার্ভারে অসত্ উপায়ে আপলোড করা হয়েছে। তবে তাদের তথ্য সার্ভারে থাকলেও দালিলিক কাগজ নেই। আর এই লোকগুলো নির্বাচন অফিসে এসে ভোটার হয়নি। আবার যারা অবৈধ উপায়ে ভোটার হয়েছে তাদের সবাই রোহিঙ্গাও নয়। প্রতিবেদনে এই ৭৩ জনের তথ্য অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের সুপারিশ করেছি।’

এ ছাড়া নিয়ম অনুযায়ী, একই সিরিয়াল নম্বরের ভোটার হলেও দেখা গেছে, কেউ চট্টগ্রামের ভোটার হলে পরেরজন কক্সবাজারের। অথচ এমন হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ এনআইডি নিবন্ধন ফরম (২ নম্বর ফরম) বান্ডিল আকারে একটা নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকার জন্য পাঠানো হয়। স্বাভাবিকভাবে এই সিরিয়ালের ভোটাররাও একই নির্বাচনী এলাকার হওয়ার কথা। ধারণা করা হচ্ছে, গত মার্চ মাসের পর থেকে এসব ভোটারের তথ্য সার্ভারে আপলোড হয়েছে।

জালিয়াতির পুরো বিষয়টি তদন্তে আরো উচ্চপর্যায়ের টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছে কমিটি। কোন ল্যাপটপ ও ডিভাইসের কোন গেটওয়ে ব্যবহার করে এনআইডি সার্ভারে মিথ্যা তথ্য আপলোড করা হয়েছে তা খুঁজে বের করবে এ কমিটি।

ভুয়া ঠিকানায় ডাকাত নূর 
মোহাম্মদের স্মার্ট কার্ড 

এদিকে গত ১ সেপ্টেম্বর পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন দুর্ধর্ষ ডাকাত নূর মোহাম্মদ। এই রোহিঙ্গা ডাকাতের স্মার্ট কার্ডের ছবিটি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। চিহ্নিত রোহিঙ্গা ডাকাত কিভাবে স্মার্ট কার্ড পেল তা নিয়ে সমালোচনায় মুখর ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। 

ডাকাত নূর মোহাম্মদ নিজের ছবি দিয়ে করা স্মার্ট কার্ডে নাম ব্যবহার করেছে নুর আলম। ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাঁচলাইশ থানার পশ্চিম ষোলশহর এলাকার হিলভিউ রোডের বার্মা কলোনির মাস্টারের মা’র বাড়ি।

গতকাল সেই বাড়িটিতে গিয়ে কথা হয় মালিক ফাতেমা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার বাড়িতে ভাড়া ঘর দুইটা। এই ভাড়াটিয়ারা গত ১৫ বছর ধরে একই বাড়িতে আছে। কিন্তু যে নুর মোহাম্মদের কথা বলা হচ্ছে তাদের আমি চিনি না, কোনো দিন দেখিওনি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কারো কাছ থেকে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। তার পরও আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা