kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পাটগ্রামে উপবৃত্তির টাকা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের অভিনব জালিয়াতি

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২১:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাটগ্রামে উপবৃত্তির টাকা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের অভিনব জালিয়াতি

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পৌর সদরের পাটগ্রাম ইসলামিক আদর্শ বিদ্যানিকেতনের নিয়মিত দুজন শিক্ষার্থী সরকারি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) অভিভাবক সদস্য বলে জানা গেছে। আর এ কাজটি করেছেন উপজেলা ১ নং পানবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনোয়ার হোসেন মন্টু।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এক সাথে অন্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি বিদ্যালয়ের ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করতে পারবে না। তবে সরকারি শিক্ষা   প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের শতকরা ৮৫% ক্লাসে উপস্থিতি থাকলেই ওই শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পাওয়ার যোগ্য। কিন্ত উপজেলার ১ নং পানবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনোয়ার হোসেন মন্টু  জালিয়াতির মাধ্যমে দুই শিক্ষার্থীর নামে উপবৃত্তিসহ দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবককে অভিভাবক সদস্য করেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে দেওয়া লিখিত অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ার হোসেন মন্টু বিদ্যালয়ের যোগদানের পর অনিয়ম ও দুর্নীতি আড়াল করতেই  বিদ্যালয়ের দাতা সদস্যসহ অনন্য অভিভাবক সদস্যদের না জানিয়ে গোপনে বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেন এবং জালিয়াতির মাধ্যমে চার অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত করেন। ওই চার সদস্যর মধ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে মো. দুলু মিয়ার মেয়ে আল জিহান প্রান্তি তৃতীয়  শ্রেণি ও শাপলা বেগমের মেয়ে দিলারা জাহান দিঘী চতুর্থ শ্রেণিতে পাটগ্রাম ইসলামিক আদর্শ বিদ্যানিকেতনের নিয়মিত শিক্ষার্থী। এর মধ্যে মো. দুলু মিয়া পাটগ্রাম পৌর সদরে বসবাস করেন। আর শাপলা বেগম ওই বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার বাইরে ওই ইউনিয়নের ভেলেংনগর ক্যাচমেন্ট এলাকায় বসবাস করেন।

এ বিষয়ে আল জিহান প্রান্তির বাবা মো. দুলু মিয়া জানান, তার মেয়ে পাটগ্রাম ইসলামিক আদর্শ বিদ্যানিকেতনের তৃতীয় শ্রেণির নিয়মিত ছাত্রী।

দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে ১ নং পানবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনোয়ার হোসেন মন্টু বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাটগ্রাম ইসলামিক আদর্শ বিদ্যানিকেতনে ও ১ নং পানবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই দুই প্রতিষ্ঠানে আল জিহান প্রান্তি ও দিলারা জাহান দিঘী ভর্তি হয়ে নিয়মিত লেখা পড়া করে। আবার আমার বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে নিয়মিত লেখাপড়া করে। তারা দুই প্রতিষ্ঠানে আসা যাওয়া করে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর অভিভাবককে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য নির্বাচন করা যাবে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও পানবাড়ী ক্লাস্টার মেশকাত জাহান বলেন, তারা পাটগ্রাম ইসলামিক আদর্শ বিদ্যানিকেতনে ও ১ নং পানবাড়ি সরকারি বিদ্যালয়ে পড়ছে বলে জেনেছি। সরকারি নীতিমালায় দুই প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করা যায় কি না সে বিষয়ে আমার জানা নেই।

এ বিষয়য়ে জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করার কোনো নিয়ম নেই। একটি প্রতিষ্ঠানেই ভর্তি হতে পারবে। তবে অভিভাবকদের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্বে দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাক্ষাতে কথা হবে বলে মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা