kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আসামি ধরতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে পেটালো গোয়েন্দা পুলিশ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২১:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আসামি ধরতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে পেটালো গোয়েন্দা পুলিশ

আসামি ধরতে গিয়ে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে মারপিটের শিকার হয়েছেন। তাকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ছাত্রলীগ নেতা জহুরুলের বাড়ি পাঁচবিবির উঁচনা গ্রামে। রবিবার বিকেলে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার উঁচনা মাদরাসা মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

আহত জহুরুলের বড়ভাই লাইজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, রবিবার বিকেল ৫টার দিকে উঁচনা দাখিল মাদরাসা মাঠে জহুরুল ফুটবল খেলতে যায়। এ সময় একজন সোর্সসহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আমিরুলের নেতৃত্বে ৫ জন ওই এলাকা থেকে আব্দুল মজিদ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করলে তার স্বজনরা সমবেত হয়ে কান্নাকাটি করে। জহুরুল এ দৃশ্য দেখতে গেলে গোয়েন্দা পুলিশের দল নাম জিজ্ঞাসা করে তাকেও হেলমেট, বেল্ট ও হ্যান্ডকাপ দিয়ে দাঁতসহ দুই গালে বেদম মারপিট করে। এতে তার নিচের পাটি থেকে দাঁত আলাদা হয়ে যায়। পরে সেখান থেকে হেলমেট ও হ্যান্ডকাপ পড়া অবস্থায় মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে হাটখোলায় যায়। এ সময় গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তার মাধ্যমে ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়া হোসেন রাজার সুপারিশে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা জহুরুলকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা আধুনিক হাসপাতালের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৪ নম্বর কেবিনে ভর্তি থাকা আহত ছাত্রলীগ নেতা জহুরুল এবং তার স্বজনদের সাথে কথা বলে গোয়েন্দা পুলিশের অফিসে বক্তব্য নিতে যান কালের কণ্ঠ’র জেলা প্রতিনিধি আলমগীর চৌধুরী, প্রথম আলোর আক্কেলপুর প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম, চ্যানেল ২৪ এর হারুনুর রশিদ, একুশে টেলিভিশনের শফিকুল ইসলাম, সময় টেলিভিশনের শাহিদুল ইসলাম সবুজ এবং এসএ টেলিভিশনের মোয়াজ্জেম হোসেন।

এ সময় গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মমিনুল হক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবিরের দোতলা অফিসে যান। কিছুক্ষণ পর পুলিশ সুপার নিচে গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শকের অফিস কক্ষে এসে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করেন, আপনারা কি শুরু করেছেন। ছোট্ট একটা ঘটনাকে এত পেঁচাচ্ছেন কি জন্য। কি এমন ঘটনা ঘটেছে তাই দল বেঁধে আপনারা উঠে পড়ে লেগেছেন। আপনারা কে কোথায় মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে যাতায়াত করেন সবই আমার জানা আছে। আমিও দেখব কিভাবে আপনারা চলাফেরা করেন।

এ সময় সেখানে জয়পুরহাট পৌর মেয়র ও আ.লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান আকষ্মিকভাবে হাজির হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু তার কথার পাত্তা না দিয়ে উল্টো তাকেও ধমক দিয়ে পুলিশ সুপার তাকে নিয়েই উপরে চলে যান। এ ঘটনার প্রতিবাদে জয়পুরহাট প্রেস ক্লাবে বিকেল ৫টায় সাংবাদিকরা এক জরুরি সাধারণসভা ডাকেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা