kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তিন দফা নিয়ে আন্দোলনে ইবি কর্মকর্তারা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৭:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিন দফা নিয়ে আন্দোলনে ইবি কর্মকর্তারা

তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সমিতি। বেতন স্কেল বাড়ানো, বয়সসীমা বাড়ানো এবং কর্মঘণ্টা পরিবর্তনের দাবিতে সোমবার পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন তারা। সকাল ৯টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন কর্মকর্তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে বলে জানান নেতারা।

সমিতি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই কর্মকর্তারা একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের সময়সীমা পরিবর্তন করে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা এবং সাপ্তাহিক একদিন ছুটি, চাকরির বয়সসীমা বাড়িয়ে ৬২ বছরে উন্নীত করা এবং উপরেজিস্ট্রার ও সমমানের কর্মকর্তাদের বেতন স্কেল চতুর্থ গ্রেডে এবং সহকারী রেজিস্ট্রার ও সমমানের কর্মকর্তাদের জন্য ষষ্ঠ গ্রেডে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। আন্দোলনও করেছেন বেশ কয়েকবার। সর্বশেষ গত জুনের ২৬ তারিখ প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেস তারা। এ সময় প্রশাসন থেকে যাচাই-বাছাই কমিটি করা হয়। সর্বশেষ গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪৬তম সিন্ডিকেটে তাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় আবারো আন্দোলনে নেমেছেন কর্মকর্তারা। সোমবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ ছাড়া দিনব্যাপী কর্মবিরতি করেন। সমিতির নেতৃত্বে এ কর্মবিরতি চলমান থাকবে বলেও জানান সংগঠনের নেতারা। আন্দোলন থেকে প্রশাসনকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। শনিবার থেকে আরো বড় আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন সমিতির নেতারা। 

কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি শামসুল ইসলাম জোহা বলেন, আমাদের কর্মবিরতি চলমান থাকবে। শনিবারের মধ্যে সিন্ডিকেট করে আমাদের এই দাবি বাস্তবায়ন না করলে বড় কর্মসূচিতে যাব। এদিকে কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি থাকার কারণে বন্ধ ছিল দাপ্তরিক কাজ। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। 

রেজিস্ট্রার সূত্রে জানা যায়, গত সিন্ডিকেটে (২৪৬তম) কর্মকর্তাদের বেতন-স্কেলের বিষয়টি আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে বিজ্ঞ সিন্ডিকেট উপরেজিস্ট্রার ও সমমানের কর্মকর্তাদের বেতন-স্কেল চতুর্থ গ্রেডে এবং সহকারী রেজিস্ট্রার ও সমমানের কর্মকর্তাদের জন্য ষষ্ঠ গ্রেডে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই বেতন-স্কেল প্রদানের লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করার জন্য হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী আকতার হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আহসানুল আম্বিয়াকে সদস্য এবং অর্থ ও হিসাব শাখার উপহিসাব পরিচালক মিন্টু কুমারকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। এদিকে সিন্ডকেটে অন্য দুটি দাবির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ। এ বিষয়ে কর্মকর্তা সমিতির সাধরণ সম্পাদক মীর মোরশেদুর রহমান বলেন, সিন্ডিকেটের নীতিগত সিদ্ধান্তের কোনো চিঠি আমরা পাইনি। আর এই দাবি নিয়ে আর কোনো কালক্ষেপণ চাই না। এবার বাস্তবায়ন করতে হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, গত সিন্ডিকেটে আমরা তাদের একটি দাবি বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ছাড়া কিছু বিষয় আছে যা ঊর্ধ্বতন মহলের ব্যাপার। আমরা তাদেরকে প্রসেস অনুযায়ী দাবিগুলো জানাব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা