kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বামনা উপজেলা পোষ্ট অফিসের বেহাল দশা

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৪:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বামনা উপজেলা পোষ্ট অফিসের বেহাল দশা

আপনজন, প্রিয়জন কিংবা পরিচিতজনের একটি চিঠি পাওয়ার অপেক্ষায় এক সময় অনেকেরই যাতায়াত ছিল পোষ্ট অফিসে। চিঠি ছাড়াও বিদেশ অথবা দেশে আপনজনের কাছে টাকা পাঠাতে একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম এটি। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে ই-মেইল, অনলাইন আর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সুবাধে এই পোষ্ট অফিসের গুরুত্ব এখন আর নাই বললেই চলে। তবু এখনো এই পোষ্ট অফিসে জীবন বীমা, সঞ্চয়পত্রে টাকা জামানত রাখা কিংবা জরুরী কাগজপত্র পাঠাতে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে এই পোষ্ট অফিসের গুরুত্ব অপরিহার্য। এসব কারণে এখনো হাজার হাজার গ্রাহক প্রতিদিন উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের পোষ্ট অফিসগুলোতে আসেন তাদের কাঙ্খিত সেবা পেতে। অথচ এই পোষ্ট অফিসগুলো বর্তমানে সংস্কারের অভাবে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। তেমনি একটি জরাজীর্ণ বেহাল দশার পোষ্ট অফিস বরগুনা জেলার বামনা উপজেলা সাব পোষ্ট অফিসটি।

আজ সোমবার সকালে বামনা পোষ্ট অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অফিসের চার পাশের বাউন্ডারি ওয়াল সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। অফিসটির প্রধান গেটটি ভাঙ্গা। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভবনটির গায়ে শ্যাওলা ও ছাদে গুল্ম জাতীয় বৃক্ষ বেড়ে উঠছে। অফিসের ভিতরে গিয়ে ভবনটির জীর্ণদশা দেখলে যে কেউ আতকে উঠবে। ছাদের কোনো স্থানে পলেস্তরা নেই বললেই চলে। ভিতর থেকে ছাদের দিকে তাকালে মরিচা ধরা লোহার রডগুলো চোখে পড়ে। পোষ্ট মাষ্টারের আবাসিক বাসভবন যেন গোয়াল ঘর। বর্তমানে বৃষ্টির সময়ে ভবনটির সমস্ত স্থানজুরে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। অফিসের ছাদে অনেক স্থানে পলিথিন টানিয়ে বৃষ্টির পানি আটকানোর চেষ্টা করছেন কর্মচারীরা। এর ভিতর ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে অফিসিয়াল কাজ-কর্ম চালাচ্ছে এখানকার কর্মকর্তা কর্মচারীরা। যেকোনো মুহুর্তে ভবনটি ধসে ঘটতে পারে প্রাণহানিসহ বড় কোনো দুর্ঘটনা।

বামনা পোষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পরে ১৯৭৪ সালে বামনা থানা ভবনের পাশে প্রায় ২০ শতাংশ জমির ওপর একটি পোষ্ট অফিস ভবন নির্মিত হয়। এর পর থেকে এই ভবনেই চলে অফিসের কার্যক্রম। অফিসের কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলে ১৯৯৫ সালে ওই ভবনটির পাশে আরো একটি ভবন নির্মাণ করে পোষ্টাল কর্তৃপক্ষ। অফিস প্রতিষ্ঠার পরে মাত্র তিনবার পুরাতন ভবনটি সংস্কার করলেও বর্তমানে দুটি ভবনের অবস্থা বেশ নাজুক। ভবন দুটি দ্রুত সংস্কার করা খুব জরুরী।

বামনা পোষ্ট অফিসে স্বামীর পেনশন নিতে আসা সুমিতা রানী জানান, তার স্বামী এখানেই চাকরি করতেন। প্রতি মাসে তাকে পোষ্ট অফিসে আসতে হয় পেনশনের টাকা নিতে। কিন্তু সব সময় ভয়ে থাকতে হয় তাকে। কখন উপরের ছাদ ধসে পড়ে?

অফিসের মেইল পিওন আ. রব আকন জানান, কিছুদিন আগে অফিসের দরজা খোলার সময় তার মাথার ওপর পলেস্তরা খসে পড়ে। এতে সে গুরুতর জখম হয়। কিছুদিন জখম অবস্থায় তাকে হাসপাতালে থাকতে হয়েছে।

এ ব্যাপারে বামনা উপজেলা পোষ্ট মাস্টার মো. আ. হাই বলেন, অনেক দিন ধরে বামনা পোষ্ট অফিসটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আর এর মধ্যেও আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছি। ভবন দুটি সংস্কারের জন্য পোষ্ট অফিসের উর্ধতন কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানালেও এখন পর্যন্ত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা