kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নবীনগরের ‘মরণ সেতু’তে ২২ বছরে ৪ জনের মৃত্যু!

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৩:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নবীনগরের ‘মরণ সেতু’তে ২২ বছরে ৪ জনের মৃত্যু!

"এইডার নাম দিছি আমরা ‘মরণ সেতু’। গত ২০/২২ বছরে এই ভাঙ্গাচোরা সেতুর উপরে গাড়ি উঠতে গিয়া এই পর্যন্ত এলাকার কমপক্ষে চাইরজন লোক এই মরণ সেতুতে মারা গেছে। সেতুটিতে গাড়ি উঠার সময় বর্তমানে প্রায়ই দূর্ঘটনা ঘটে বহু লোক পঙ্গু হইতাছে।" ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার আলমনগর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ ‘আলমনগর সেতুটি' নিয়ে আজ সোমবার কালের কণ্ঠের কাছে এভাবেই দু:খ করে উক্ত কথাগুলো বলছিলেন গ্রামের ফরিদ মিয়া (৬৫) নামের এক ব্যক্তি। তাই সেতুটি নতুন করে দ্রুত নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর।

সরজমিনে এলাকায় গিয়ে লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার পশ্চিম উত্তরাঞ্চলের প্রায় ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন ভাঙ্গাচোরা ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুটির ওপর দিয়ে উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াত করে থাকেন। প্রায় দুই যুগ আগে সেতুটি নির্মাণ হওয়ার পর গত কয়েক বছর আগে সেতুর বিভিন্ন স্থান থেকে পলেস্তরা উঠে গিয়ে সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পাশাপাশি সরু এই সেতুর দুই পাশের রেলিং সম্পূর্ণ ভেঙ্গে যাওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে রেলিংয়ের স্থানে বাঁশ লাগিয়ে যাত্রীবাহী সকল যানবাহনকে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। ফলে সেতুটিতে উঠতে গিয়েই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।

এলাকার প্রাক্তন সেনা সদস্য ও নবীনগর অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক সমাজ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন বলেন, ‘৮৭/৮৮ সালের দিকে ভাটা নদীর ওপর সেতুটি নির্মিত হয়। কিন্তু ৫/৭ বছর আগে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে যাওয়ার পরও মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে এলাকার ১০ গ্রামের মানুষ বর্তমানে এই সেতুটির ওপর দিয়ে যাতায়াত করছেন।’

সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ খোকন বলেন, ‘এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটির ওপর দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে সেতু থেকে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নীচে পড়ে গিয়ে এ পর্যন্ত এলাকার কমপক্ষে চারজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাই দ্রুত এই সেতুটি নতুন করে নির্মাণ করা না হলে আরো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, ‘তিনি (খোকন এমপি) যখন (২০০৮-১৪) এমপি ছিলেন, এলাকাবাসীর প্রচণ্ড দাবির মুখে তখনও ব্রিজটি নির্মিত হয়নি। তাই এর দায় সাবেক এমপি হিসেবে তিনিও এড়াতে পারবেন না।’

এ ব্যাপারে আজ সোমবার নবীনগরের উপজেলা প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৩৫ মিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি নির্মাণ করতে প্রায় ২ কোটি টাকা লাগবে। ইতিমধ্যে এলজিইিডির প্রজেক্ট ডিরেক্টর আমার কাছে লিখিতভাবে সেতুটি নির্মাণের প্রাথমিক তথ্যাদি চেয়েছেন। আশা করছি, খুব শিগগীরই সেতুটি নতুন করে নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা