kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রোহিঙ্গা শিবিরের ৪১ এনজিওর কার্যক্রম নিয়ে ধূম্রজাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১২:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গা শিবিরের ৪১ এনজিওর কার্যক্রম নিয়ে ধূম্রজাল

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত ৪১টি এনজিওর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়টি নিয়ে একপ্রকার ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী, এনজিও ব্যুরো এবং কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) অফিসের বরাত দিয়ে এধরনের একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদটি শনিবার থেকে রীতিমতো ভাইরাল হয়ে পড়েছে দৈনিক সংবাদপত্র, অনলাইন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

বাস্তবে এনজিও ব্যুরো কর্তৃক চলমান রোহিঙ্গা ইস্যুতে ৪১টি এনজিওর কার্যক্রম বন্ধ করার কোনো সত্যতা মিলছে না। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন ও শরণার্থী ত্রাণ এবং প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যলয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল মাত্র 'মুক্তি' নামের একটি এনজিওর রোহিঙ্গা শিবিরের ৬টি প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ করা ছাড়া এসংক্রান্ত আর কোনো নির্দেশনার কথা তাদের জানা নেই।

অথচ সিলেটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এম এ মোমিন এর উদ্ধৃতি দিয়ে রোহিঙ্গা শিবিরে অপকর্মের অভিযোগে ৪১টি এনজিওর কার্যক্রম এর মধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে মর্মে একটি সংবাদ রীতিমতো ভাইরাল হয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আবার এরকমও দেখা গেছে, গেল বছরের (২০১৮) ১৭ আগস্ট বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে ৪১টি এনজিওর কার্যক্রম বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে একটি সংবাদ নতুন করে নানা মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এসব মাধ্যমে ৪১টি এনজিওর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল রবিবার কক্সবাজারে এনজিও-বিষয়ক কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার কালের কণ্ঠকে বলেন, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে দেশি-বিদেশি দেড় শ এনজিও কাজ করছে। গত ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাওয়াসহ ২৫ আগস্টে শিবিরে লাখো রোহিঙ্গার সমাবেশের ঘটনার পর থেকে প্রত্যাবাসনবিরোধী এনজিওগুলো নিয়ে তদন্ত চলছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, যেখানে এনজিওগুলোর কার্যক্রম নিয়ে কয়েকটি সংস্থা একযোগে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে সেখানে আকস্মিকভাবে ৪১টি এনজিওর কার্যক্রম বন্ধ করার আদেশ কিভাবেই-বা হবে- প্রশ্ন তাঁর। তবে গেল বছর এই ৪১টি এনজিও সস্পর্কে একটি গোয়েন্দা সংস্থা লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছিল। সেই আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে এরকম নিষিদ্ধের আদেশ হয়েছে কি-না তার জানা নেই।

অপরদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ের অতিরিক্ত আরআরআরসি এবং সরকারের উপসচিব মো. সামসুদ্দৌজা কালের কণ্ঠকে বলেন, মুক্তি ছাড়া অন্য কোনো এনজিওর কার্যক্রম নিষিদ্ধের কোনো সরকারি আদেশ আমাদের অফিসে আসেনি। তিনি বলেন, এনজিওদের কার্যক্রম দেখভাল করে থাকে জেলা প্রশাসন।

এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দ্বিতীয় দফায় ভেস্তে যাবার পর এবং লাখো রোহিঙ্গার সমাবেশের পর থেকেই স্থানীয়রা এনজিওগুলোর ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এনজিওগুলোর প্রতি কি রকম বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পাচ্ছে তা ঘনিণ্ঠভাবে না দেখলে কারও বিশ্বাস করতেও কষ্ট হবে। 

এমনকি সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত এলাকা উখিয়া-টেকনাফ সহ পুরো কক্সবাজারজুড়েই রয়েছে এনজিওবিরোধী ক্ষোভ। এলাকাবাসীর ধারণা, এনজিওগুলোই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বড় বাধা হয়ে পড়েছে। এনজিওকর্মীদের অনেকেই এরকম আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন যে, বাস্তবে তারা এখন স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়তে পারেন যেকোনো সময়।

কক্সবাজারের উখিয়ার নুর মোহাম্মদ সিকদার নামের স্থানীয় একজন সামাজিক সংগঠক জানিয়েছেন, এলাকাবাসীর মধ্যে বদ্ধমূল ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধা একমাত্র দেশি-বিদেশি এনজিও।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা