kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চবি ছাত্রলীগে দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ৬

 শাটল ট্রেন ও শিক্ষক বাস বন্ধ, ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০২:১৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চবি ছাত্রলীগে দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষে ছয়জন আহত হয়েছে। গত শনিবার রাত থেকে গতকাল রবিবার বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় এই সংঘর্ষ হয়েছে। এর জের ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন ও শিক্ষকদের পরিবহন করা বাস। কোনো ক্লাস-পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়নি। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতিকে বহিষ্কারের দাবিতে প্রতিপক্ষ অনির্দিষ্টকাল অবরোধের ডাক দিলেও পরে তা স্থগিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক সংগঠন বিজয় ও সিএফসি পক্ষের মধ্যে শনিবার রাত ১২টায় সংঘর্ষ শুরু হয়। বিবদমান দুটি গ্রুপই শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

জানা যায়, গত শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে বিজয় গ্রুপের নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সমপাদক মো. ইলিয়াসের সঙ্গে সিএফসির নেতাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইলিয়াসকে মারধর করে সিএফসির নেতাকর্মীরা। এ ঘটনা জানাজানির পর বিজয় গ্রুপের কর্মীরা সোহরাওয়ার্দী ও আলাওল হলের সামনে অবস্থান নেয়। শুরু হয় দুপক্ষে ইটপাটকেল নিক্ষেপ। এ সময় ইটের আঘাতে বিজয় গ্রুপের আরো চার কর্মী আহত হয়। রাত ২টার দিকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এদিকে রাতের সংঘর্ষের জের ধরে গতকাল সকাল সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সিএফসি গ্রুপের নেতা রেজাউল হক রুবেলকে সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে অবরোধের ডাক দেয় বিজয় পক্ষ। তারা সকাল সাড়ে ৭টায় নগরীর রেলওয়ে স্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনের হোস পাইপ কেটে দিয়ে লোকোমাস্টার খুরশিদ আলমকে অপহরণ করে। অবশ্য দুই ঘণ্টা পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ গতকাল সারা দিন বিশ্ববিদ্যালয় শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখে। এ ছাড়া শিক্ষকদের পরিবহন করা বাসের চাকা ফুটো করে হাওয়া ছেড়ে দেওয়ায় পরিবহন দপ্তর থেকে কোনো বাসও শহরে যেতে না পারেনি। এ অবস্থায় বিভিন্ন বিভাগে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ছিল।

ট্রেনের হোস পাইপ কাটার বিষয়টি নিশ্চিত করে ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার তন্ময় চৌধুরী বলেন, শাটল ট্রেনের হোস পাইপ কেটে দেওয়ায় গতকাল সারা দিন ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।

গতকাল দুপুর থেকেই সিএফসি গ্রুপ শাহ আমানত হলে ও বিজয় গ্রুপ সোহরাওয়ার্দী হলে অবস্থান নেয়। দুপুর ২টার দিকে দুই পক্ষে ইটপাটকেল ও কাচের বোতল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় এক কর্মী আহত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুজনকে আটক করে।

রাতের ঘটনায় আহতরা হলো বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মো. ইলিয়াছ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ওবায়দুর রহমান লিমন, লোকপ্রশাসন বিভাগের নিলয় হাসান, পরিসংখ্যান বিভাগের মাহফুজুর রহমান এবং ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রিয়াম রায় প্রান্ত। তাদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়। এ ছাড়া গতকাল বিকেলে আহত সিএফসি কর্মী শোয়াবুর রহমানকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে সোহরাওয়ার্দী হলে সিএফসি গ্রুপের কর্মীদের হলের কক্ষ দখলে নেয় বিজয় গ্রুপের কর্মীরা। শনিবার রাতে সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা তাদের কক্ষ ফের দখলে নিতে চাইলে সংঘর্ষ বাধে।

এ বিষয়ে বিজয় গ্রুপের নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এইচ এম তারেকুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের নির্দেশে এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়। তার মতো একজন অছাত্রের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতি কখনো সফল হবে না। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। একই সঙ্গে দ্রুত তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে দাবি জানাচ্ছি। তাকে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত আমাদের অবরোধ কর্মসূচি চলবে।’

তবে এ ঘটনায় উল্টো বিজয় গ্রুপের নেতাদের দোষারোপ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল। তিনি বলেন, ‘ইলিয়াস দীর্ঘদিন ধরে আমার বিরোধিতা করে আসছেন। গত রাতে কোনো কারণ ছাড়াই সোহরাওয়ার্দী হলে গিয়ে তিনি আমার কর্মীদের হুমকি দেন। পরে কর্মীরা একত্রিত হয়ে তাঁকে প্রতিহত করে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রণব মিত্র চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের দুপক্ষের সিনিয়রদের সঙ্গে বসে বিষয়টির সমাধান করা হচ্ছে। হোস পাইপ কেটে দেওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সুযোগ বুঝে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।’

হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দিন উদ্দিন জাহাঙ্গীর গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’ দুজনকে আটক করার বিষয়ে তিনি বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় তারা জড়িত কি না তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে অবরোধের ১৪ ঘণ্টা পর গতকাল রাত ৯টার দিকে বিজয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। আলোচনা শেষে বিজয় গ্রুপের নেতারা ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। 

সভা শেষে সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর জীবন বলেন, প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। প্রশাসন তিন দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে ফের অবরোধ কর্মসূচি শুরু হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা