kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আকাশে ড্রোন তিতাসে নৌকা বাইচ

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:৪৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আকাশে ড্রোন তিতাসে নৌকা বাইচ

তিতাস নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ

তিতাস নদীতে রবিবার ছিল ভিন্ন আবেশ। বিকেলের কোমল রোদে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচে এবার ছিল আধুনিকতার মিশেল। আকাশে উড়েছে ড্রোন। নদীতে তখন ছলাৎ ছলাৎ শব্দে ছুটেছে নৌকা। তীরে হাজারো জনতার করতালি। তপ্ত আবহাওয়া উৎসবকে দমাতে পারেনি একদম।  শিমরাইলকান্দির শ্মশাণ ঘাট এলাকা থেকে মেড্ডার কালা গাজীর মাজার পর্যন্ত নৌকা বাইচ উপলক্ষে ছিল ব্যতিক্রমী সম্প্রীতির বন্ধন।

নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে তিতাস নদীর দুই পাড়ে রবিবার হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। বৈঠার ছন্দে কিছু সময়ের জন্য উদ্বেল হয়ে পড়েন সকলে। বাইচের ১৩ নৌকা ও দর্শনার্থীদের শত শত নৌকার ঢেউ আছড়ে পড়ে নদীর পাড়ে।
কথা হয় সদর উপজেলার ঘাটুরার রহিজ হাজারীর (৭০) সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘নাও দৌঁড়ানি আমার খুব আকর্ষণ। বিভিন্ন জাগাত গিয়া আমি নাও দৌঁড়ানি দেহি।’ ভাটপাড়ার চায়না বেগম বলেন, ‘প্রথম বারের মতো নৌকা বাইচ দেকতাম আইছি। কিন্তু ভীড়ের লাইগ্যা দেকতাম পারতাছি না।’
বিজয়নগরের বিন্নীঘাট এলাকা থেকে আসা নৌকার মাঝি আজিজুর রহমান বলেন, ‘আগের চেয়ে নাও দৌঁড়ানি কইম্মা গেছে। ঝামেলা অয় দেইক্কা অহন কেউ আয়োজন করে না।’ সোহরাব মিয়া বলেন, ‘এইডা আমডার শখ। আমডা চান্দা দিয়া খরচ চালাই।’ বুল্লার নৌকার মাঝি গোলাপ মিয়া বলেন, ‘কোনখান নাও দৌঁড়াইনি অইব আমডা খোঁজ রাহি। সব জাগাতঅই আমডা যাই।’

বর্ণাঢ্য এ প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন সরাইল উপজেলার ওসমান উল্লাহর দল। পুরস্কার পেয়েছেন একটি ফ্রিজ ও নগদ ২০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়নের দেওয়ান আতিকুর রহমানের দল ৪০ ইঞ্চি সনি এলইডি টিভি ও তৃতীয় নবীনগরের মোর্শেদুল ইসলাম লিটনের দল ২০ ইঞ্চি এলইডি টিভি পেয়েছেন। এছাড়া অংশগ্রহনকারী প্রত্যেক দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে নগদ ২০ হাজার টাকা ও একটি ওভেন প্রদান করা হয়।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া দলগুলো হলো- বিজয়নগরের বিন্নিঘাটের সফিক মিয়ার নৌকা, শশইয়ের আব্দুল ওয়াদুদের নৌকা, বুল্লার হাফিজুল ইসলামের নৌকা, বাসু মিয়ার নৌকা, মো. সারোয়ারের নৌকা,  রৌশনাকান্দির লাল মিয়ার নৌকা, নাসিরনগরের হরিপুরের দেওয়ান আতিকুর রহমানের নৌকা, সরাইলের জয়ধরকান্দির সফর আলীর নৌকা, তাজু মিয়ার নৌকা, ক্ষমতাপুরের ওসমান উল্লাহ’র নৌকা, আশুগঞ্জের কামরুল ইসলামের নৌকা, কিশোরগঞ্জের নিকলীর তোতা মিয়ার নৌকা, নবীনগরে লাপাংয়ের মোর্শেদুল ইসলামের নৌকা।
জেলা প্রশাসন আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় প্রথমে তিন ভাগ হয়ে চারটি নৌকা বাছাই করে ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়ভাবে এ প্রতিযোগিতাকে ‘নাও দৌঁড়ানি’ বলা হয়। একেকটি নৌকা ৬০ থেকে ৭০ হাত করে লম্বা। ৬০-৭০ জন করে মাঝি করে মাঝি রয়েছে একেক নৌকায়। বাইচের কাজেই এসব নৌকা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অংশগ্রহনের জন্য তাদেরকে প্রশিক্ষণও নিতে হয়।

শিমরাইলকান্দি এলাকায় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শামছুজ্জামানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আল-মামুন সরকার, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজুর রহমান ওলিও, বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিমা লুৎফুর রহমান প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় শিমরাইলকান্দি এলাকায় ড্রোন উড়ানো হয়। একই সঙ্গে বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।
 
কালা গাজীর মাজার এলাকায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খানের সভাপতিত্বে এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সাবেক মহাপরিচালক  অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা