kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সীমানা নিয়ে বিরোধ : ৫০ জেলে পরিবারের ওপর অত্যাচার

চিতলমারী-কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সীমানা নিয়ে বিরোধ : ৫০ জেলে পরিবারের ওপর অত্যাচার

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার প্রায় ৫০ জেলে পরিবারের ওপর মোল্লাহাট উপজেলার প্রভাশালীরা নানামুখি নির্যাতন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতিতদের বাড়ি চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের আড়ুয়ামাছুয়া গ্রামে।

মোল্লাহাট সীমানার দত্তডাঙ্গা গ্রামের প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে জেলে পরিবারগুলোর বাড়ির সামনের গাছপালা দখল, নারী নির্যাতনসহ নানামুখি অত্যাচার করছে বলে ভূক্তভোগীরা জানায়। তাদের অত্যাচারে ইতোপূর্বে ওই গ্রামের একাধিক ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। দুই উপজেলার এই সীমানা বিরোধ মীমাংসার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগীরা।

চিতলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়াল ওই ৫০ জেলে পরিবারের ওপর অত্যাচার প্রসঙ্গে বলেন, সাধারণত সীমানার পাশের বাসিন্দারা তাদের বাড়ির সামনের সরকারি জায়গা দেখে রাখে ও ভোগ করে। কিন্তু এক্ষেত্রে তার উল্টো। সীমানার রাস্তা পেরিয়ে মোল্লাহাট উপজেলার লোকেরা চিতলমারীর আড়ুয়ামাছুয়া গ্রামে নিরীহ জেলেদের বাড়ির সামনের জায়গা দখলসহ নানা নির্যাতন চালাচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করি।

মোল্লাহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিনুল আলম ছানা বলেন, অত্যাচারের বিষয়টি জানা নেই।

মোল্লাহাট প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, সীমানা নিয়ে বিরোধ আলোচনা করে মীমাংসা হতে পারে। কিন্তু এই বিরোধকে ঘিরে চিতলমারীর জেলেরা অত্যাচারিত হলে তা দুঃখজনক।

রবিবার সরেজমিনকালে চিতলমারীর আড়ুয়ামাছুয়া গ্রামের মাখন সমাদ্দারের পুত্র সুশান্ত সমাদ্দার জানান, তাদের গ্রামে ৫০টি জেলে পরিবার কয়েক পুরুষ ধরে বসবাস করছে। ১৯৮৪ সালে চিতলমারী উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সীমানা নিয়ে মোল্লাহাটের প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তি তাদের উপর অত্যাচার করছে। অত্যাচার সইতে না পেরে মিলন বাগচী ও ফটিক বাগচী এলাকা ছেড়ে গেছে। সম্প্রতি অত্যাচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে নারী নির্যাতন।

তিনি বলেন, আমার ভাইবৌয়ের সম্ভ্রমহানী করেছে মোল্লাহাটের দত্তডাঙ্গা গ্রামের শরিফুল সিং। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। আরো এক নারীকে উত্ত্যক্ত করছে শরিফুল। সম্মান হারালে আর কি থাকে? দত্তডাঙ্গার মাঠে ফুটবল খেলতে গেলে ওরা মাঠ থেকে উঠিয়ে দেয়। এই ধরণের অত্যাচার হতে আমরা বাঁচতে চাই।’

সুভাষ বাগচীর ছেলে সহাদেব বাগচী (৬৫) সীমানার রাস্তা দেখিয়ে বলেন, সাত পুরুষ আগেত্তে নল-নটা বন পরিষ্কার অইরে বংশ পরম্পরায় এহেনে বসবাস কত্তিছি। জাগা নিয়ে এতো ঝামেলা আর ভাল্লাগে না। এর সমাধান হওয়া দরকার।

মোল্লাহাটের আটজুড়ি ইউনিয়নের দত্তডাঙ্গা গ্রামের বর্ষীয়ান ব্যক্তি আব্দুল হাকিম মোল্লার পুত্র বাদশা মোল্লা বলেন, মোল্লাহাটের লোকরা চিতলমারীর আড়ুয়ামাছুয়া গ্রামের জাইলে গো জায়গা জোর করে খায়। কারণ ওরা নিরীহ। প্রতিবাদ করলি বিপদে পড়ে। এভাবে অন্য উপজেলার জায়গা জোর করে খাওয়া ঠিক না।

একই গ্রামের লাখু সিংয়ের ছেলে শরিফুল সিং তার বিষয়ে নারী নির্যাতনের অভিযোগ ব্যক্তিগত বলে দাবি করেন। এর সাথে উপজেলা সীমানার সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, সীমানার রাস্তা পুরোটা মোল্লাহাটের মধ্যে। প্রায় ১০ বছর আগে ঘেরের পাড়কে রাস্তায় পরিণত করা হয়। সীমানা বিরোধ মিমাংসার জন্য দুই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানগণ উদ্যোগ নিলে কার্যকরী হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা