kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পরীক্ষার ফি দিতে দেরি হওয়ায় ছাত্রীকে মারধর, ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরীক্ষার ফি দিতে দেরি হওয়ায় ছাত্রীকে মারধর, ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার তদন্তে নামার পর কয়েকজন শিক্ষক নেতার তদবিরে ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের ধামাচাপার কারণে ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সুষ্ঠু বিচার পায়নি ওই স্কুলছাত্রীটি।

জানা যায়, গত ২০ জুলাই উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মন্তাজ আলী বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার ফি প্রদানে দেরি করায় উত্তেজিত হয়ে মারধর করেন। এতে ওই ছাত্রী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে কুলাউড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রধান শিক্ষক তার বাড়ি থেকে আনা জালি বেত দিয়ে এলোপাতাড়ি প্রহার করলে ছাত্রীর পিঠে ও হাতের বিভিন্ন জায়গা ফুলে যায়। এ সময় বিদ্যালয়ে থাকা ছাত্রীর ফুফু আমিনা আক্তার প্রধান শিক্ষকের মারধরের বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকেও তিনি মারধর করেন। এ ঘটনায় ওইদিন বিকেলে ছাত্রীর বাবা মশাইদ আলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রক্ষিতে ২৭ জুলাই বিদ্যালয়ে সরেজমিন তদন্তে যান উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সৌরভ গোস্বামী। তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিললেও একমাস পরও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

স্কুলছাত্রী জানায়, পরীক্ষার ফি দিতে দেরি হওয়ায় স্যার আমাকে অন্যায়ভাবে মারধর করেছেন। স্যার বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রীদের গালে টিপাটিপি করেন। কেউ এর বিচার করে না। 

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মন্তাজ আলী দীর্ঘদিন থেকে নিজ এলাকায় চাকরির সুবাধে অন্যান্য শিক্ষকসহ অভিভাবকদের সাথে খারাপ আচরণ করে আসছেন। বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন থেকে ছেঁড়া জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বিভিন্ন দিবসে শহীদ মিনারে কাগজের ফুল দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে জাতীয় কোনো দিবস উদযাপন করা হয় না। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. মন্তাজ আলী জানান, তিনি ছাত্রীকে মারধর করেননি। তার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। শিক্ষা বিভাগ তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি বলে তিনি দাবি করেন। 

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আইয়ুব উদ্দিন বলেন, তদন্তে অভিযোগের বিষয়টি প্রমাণিত। ৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত শেষে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

তদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপা দেওয়া নিয়ে তিনি বলেন, কিছু শিক্ষক নেতার কারণে আমরা বিভিন্ন কাজে বাধাগ্রস্ত হচ্ছি। তাদের কোনো অপচেষ্টায় কাজ হবে না। বিধিসম্মতভাবে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা