kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাঙ্গুনিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী ওসমান চমেকে আটক

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাঙ্গুনিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী ওসমান চমেকে আটক

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. ওসমানকে (৩৩) গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শনিবার বিকেলে আটক করে পুলিশ। সহযোগী মো. জামালের (২৫) গুলিতে আহত হয়ে পরিচয় গোপন করে চমেকে চিকিৎসা নিচ্ছিল সে।

রাঙ্গুনিয়ার জঙ্গল সরফভাটা চিরিঙ্গা ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন নুরুন্নবীর বাড়িতে গতকাল ভোররাতে সহযোগী জামালের গুলিতে ওসমান আহত হয় বলে স্থানীয়রা জানায়। ওসমানের দূর সম্পর্কের দাদা নুরুন্নবী, ছোট ভাই মো. কামাল, ভাগ্নে আসিফসহ বেশ কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় ভোর সোয়া ৫টায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে পরিচয় গোপন করে ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে চিকিত্সা নিচ্ছিল সে। গতকাল দুপুরে খবর পেয়ে চমেক পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তাকে আটক করেন।

ওসমান বাহিনীর সঙ্গে জড়িত এক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, নুরুন্নবী ও জামালের বাড়িতে প্রায়ই আত্মগোপন করত ওসমান। চাঁদাবাজির টাকা জমা রাখত জামালের বাড়িতে। জামালের স্ত্রী ইয়াছমিন আকতারের সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে—এমন সন্দেহ থেকে দুজনের মধ্যে বিরোধ দানা বাঁধে। এ বিরোধের জেরে গতকাল ওসমানকে গুলি করে জামাল।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইমরান হোসেন জানান, ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তিসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ এক যুবককে গতকাল ভোর সোয়া ৫টার দিকে হাসপাতালে আনে। তার কিডনির বাঁ পাশে পাঁচটি ও ডান পাশে একটি গুলির চিহ্ন ছিল। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে নাতি পরিচয় দেন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চমেকে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, অবৈধভাবে গাছ কেটে পাচার করা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে ওসমানের বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা রয়েছে। রাঙ্গুনিয়া থানায় বর্তমানে তিনটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তার বড় ভাই তোফায়েলও সন্ত্রাসী। গত ২৩ জুলাই তোফায়েলকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশ।

সরফভাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরফভাটায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে ওসমান বাহিনী। একটি দায়িত্বশীল মহলের প্রশ্রয়ে তারা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছিল। ওই বাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডার জব্দ করে এলাকার মানুষের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে তিনি পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানান।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি ইমতিয়াজ মো. আহসানুল কাদের ভুঁইয়া জানান, সন্ত্রাসী ওসমানকে ধরতে পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। গত মাসে তার ভাই তোফায়েলকে আটক করে পুলিশ। এই বাহিনীর সব সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা