kalerkantho

ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারে জাবি শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী 'পাপেট শো'

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ১৫:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারে জাবি শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী 'পাপেট শো'

রাস্তা পারাপারে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ব্যতিক্রমী 'পাপেট শো' করেছে। বিভাগটির বিভিন্ন বর্ষের সাতজন শিক্ষার্থীর গড়া 'কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার' এর পরিচালনায় এই সচেতনতামূলক 'পাপেট শো' করা হয়।

আজ সোমবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়বাংলা ফটক (প্রান্তিক নামে পরিচিত) সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে পথচারীদের রাস্তা পারাপারে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারের উদ্বুদ্ধ করতে এই আয়োজন করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের রাস্তার ডিভাইডারের মাঝে দাঁড়িয়ে 'সঙ' সেজে কাকতাড়ুয়া নিয়ে বাঁশি বাজিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে দেখা যায়। অধিকাংশ পথচারী তাদের এই ডাকে সাড়া দিয়ে রাস্তা পারাপারে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করেছেন। যে সকল পথচারী ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করেছেন তাদেরকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ওভারব্রিজ ব্যবহারের জন্য ফুল দিয়ে ধন্যবাদ জানানো হয়। এভাবে দুই ঘণ্টারও অধিক সময়ব্যাপী প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।

আয়োজকরা বলছেন, পুতুলের প্রতি মানুষের যে আকর্ষণ রয়েছে তাকে কাজে লাগিয়ে এই সচেতনতামূলক কাজটি তারা করছেন। আপাতত প্রতিসপ্তাহে অন্তত একবার করে তারা মানুষকে সচেতন করতে এই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া সচেতনতামূলক আরো নানা ধরনের সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলেছেন 'কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার' এর প্রতিষ্ঠাতা এবং নাটক ও নাট্যতত্ত্বের স্নাতকোত্তর (৪৪তম ব্যাচ) পর্যায়ের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান আশিক।

তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা সামনে পাপেট শো'র মাধ্যমে আরো নানা ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। পুতুলের যে একটি শক্তি আছে সেটিকে আমরা কাজে লাগিয়ে মানুষকে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করতে চাই, একে (পুতুল দেখিয়ে) দেখেও মানুষ যদি একটু সচেতন হয় সেটাই আমাদের স্বার্থকতা।

পথচারী তানজিদ আহমেদ বলেন, আমি রাস্তা পার হচ্ছিলাম, দেখি ওঁরা রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে পুতুল নিয়ে কিছু একটা বলছেন, পরে বুঝলাম আমাকে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করছেন। এরপর ওভারব্রিজ ব্যবহার করায় আমাকে একটি ফুল দেওয়া হলো। এখন থেকে আমি নিয়মিত ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করব। তিনি আরো বলেন, টিউশনের দ্রুততার কারণে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করতে পারি না। একটু দেরি করলে স্টুডেন্টের বাবা-মা'র কাছে জবাবদিহি করতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় ওভারব্রিজ ব্যবহারের কারণে বাস মিস করে ফেলি তখন পরের বাস পেতে দেরি হয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে পুতুলনাট্য গবেষণা ও উন্নয়নকেন্দ্রের পরিচালক এবং নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুন অর রশীদ খান বলেন, শিক্ষার্থীরা যে উদ্যোগটি নিয়েছে তাকে আমি সাধুবাদ জানাই। কিন্তু এভাবে জোর করে কতদিন পার করানো যাবে আমি জানি না তবে এতে যদি একজন মানুষও সচেতন হয় সেটি অনেক বড় পাওয়া। আশা করি এর মাধ্যমে মানুষ সচেতন হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা