kalerkantho

মির্জাপুর পৌর এলাকায় মাদক কেনাবেচা, অতিষ্ঠ বাসিন্দারা

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ১৪:০৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মির্জাপুর পৌর এলাকায় মাদক কেনাবেচা, অতিষ্ঠ বাসিন্দারা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার বিভিন্ন গলিতে চলছে মাদক কেনাবেচা ও সেবন। মাদকের সাথে জড়িত অনেক মানুষ বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে মাদক কিনতে ও সেবন করতে আসে। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে মাদক। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই পৌর এলাকার বিভিন্ন গলিতে গলিতে বাড়তে থাকে মাদকসেবিদের আড্ডা। ফলে যুবসমাজ দিন দিন ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন পৌর এলাকার বাসিন্দারা।

এ ছাড়াও পৌর এলাকায় ছিনতাই ও চুরিসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরের আনুমানিক ৩০০ গজ পশ্চিমে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের (পুরাতন) পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কম্পানির ৩৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা গুলি ছুরে ছিনতাই করে নিয়ে যায় ছিনতাইকারিরা। গতকাল রবিবার রাতেও পৌর শহরের কুমুদিনী হাসপাতাল রোডে এ জে এস কোং এন্ড রেস্তোরায় চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় চোররা নগদ এক লাখ টাকা ও সিসি ক্যামেরার মনিটরসহ প্রায় দেড় লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়। 

জানা গেছে, গতকাল রবিবার বিকালে উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের কদমা গ্রাম থেকে ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য গোড়াকী গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ছেলে সাজু মিয়া (২৫) ও একই এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে মানিক মিয়া (২০) কে ৯ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত ১৫ দিনে অর্ধশত মাদক বিক্রেতা, সেবনকারি ও কয়েকজন ছিনতাইকারিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে বলে মির্জাপুর থানা পুলিশ।

আরো জানা গেছে, পৌর এলাকার পোষ্টকামুরী মধ্যপাড়ার তিনটি স্পট, পুষ্টকামুরী পপালপাড়া, দক্ষিণপাড়া, কুতুব বাজার, শ্রীহরিপাড়া, সাহা পাড়া, ঘোষপাড়া, পাহাড়পুর, বাইমহাটী পশ্চিমপাড়া, রেল স্টেশন, গাড়াইল, গাড়াইল বেদে পাড়া, পুষ্টকামুরী চড়পাড়া এলাকায় মাদকের ব্যবসা চলছে। এসব স্থানে মাদক বিক্রেতারা চুপচাপ বসে থাকে, লোক আসলে শুধু হাতের মিলন ঘটে আর চলে যায়। পুলিশ প্রতিনিয়ত ধরছে তার পরও কমছে না। এরপর জামিনে এসে আবার একই ব্যবসা করছে।

নাম গোপন রাখার শর্তে শহরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সমাজে প্রতিবাদী লোকের সংখ্যা খুবই কম। কেউ ঝামেলাই পড়তে চাই না। চোখের সামনে অনেক কিছুই দেখি। কিন্তু কিছুই করার থাকে না। উঠতি বয়সের ছেলেরা মাদক সেবন করছে। তাদের বয়স ১৫-২৮ এর মধ্যে। এদের অধিকাংশই স্থানীয় ছেলে। কোনো কিছু বললে ওরা বাসার জানালায় ও ঘরের চালে ইটপাটকেল ছোড়ে, গালাগালি করে। তাছাড়া রাস্তায় চলাফেরার সময় বিভিন্ন হুমকি প্রদান করে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার দুইজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর বলেন, হরহামেশাই মাদক কেনাবেচা হতো। মির্জাপুর থানায় নতুন ওসির যোগদানের পর পুলিশ প্রতিদিন ধরপাকড় চালাচ্ছে।

মির্জাপুর বাজার বনিক সমিতির সভাপতি ও মির্জাপুর উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক সিদ্দিকী বলেন, মাদক এখন সামাজিক ব্যাধি। এটাকে নির্মূল করতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক নির্মূলে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ওসি মো. সায়েদুর রহমান বলেন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করি। কারও কাছে মাদক পেলে কোনো ছাড় দেয়া হয় না। আমি যোগদানের পর প্রতিদিনই অভিযান চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত অর্ধশত মাদক সেবন, বিক্রেতা ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

যারা মাদক খায় ও বিক্রি করে তাদের নাম ঠিকানা দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন ওসি। তিনি বলেন, তথ্য দাতার নাম পরিচয় গোপন রেখে অভিযান চালানো হবে। এছাড়া ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানির ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে মির্জাপুর থানার চারটি টিম বিভিন্ন থানায় অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রেখেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা