kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

এক ট্রাক বেঞ্চ নিয়ে হঠাৎ স্কুল পরিদর্শনে ইউএনও

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম. হাটহাজারী   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ১৩:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক ট্রাক বেঞ্চ নিয়ে হঠাৎ স্কুল পরিদর্শনে ইউএনও

হাটহাজারী উপজেলা সদরের পশ্চিমে সন্দ্বীপ পাড়া প্রাথমিক বিদ্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে খুশির আমেজ বইছে। দীর্ঘদিন পর নতুন বেঞ্চ তাদের এ আনন্দের উপলক্ষ। আর তাদের এ সারপ্রাইজ উপহার দিয়ে আনন্দিত করেছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন। গতকাল রবিবার এ উপহার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বিদ্যালয় কম্পাউন্ডে। 

জানা গেছে, প্রায় উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে পশ্চিম দেওয়ান নগর সন্দ্বীপ পাড়ার অবস্থান। এ এলাকার প্রায় আড়াই হাজার পরিবারের শিশুদের একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় সন্দ্বীপ পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত প্রায় ১২ বছর ধরে এ বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থা বিরাজ করছিল। প্রশাসনের নজরে আসার পর গত ৩ মাস ধরে জরাজীর্ণ এ প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি পরিপাটি এবং আধুনিক বিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করে ইউএনও। জরাজীর্ণ এ বিদ্যালয়ে সেমিপাকা বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়, দেওয়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৬। শিক্ষক আছেন প্রধান শিক্ষকসহ মোট চারজন। গতকাল  বিদ্যালয়ের ২২টি জরাজীর্ণ ভাঙাচোরা বেঞ্চ সরিয়ে নিয়ে নতুন ২২টি বেঞ্চ দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গতকাল রবিবার দুপুরে আকস্মিক পরিদর্শনে যান এ বিদ্যালয়ে। সাথে করে নিয়ে যান এক ট্রাক বেঞ্চ। এ সময় নতুন ভর্তিকৃত দুই শিক্ষঅর্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। 

সন্দ্বীপ পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসিনা খানম বলেন, দীর্ঘদিন পর নতুন বেঞ্চ পেয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীরা আনন্দে মেতে উঠেছে। সারপ্রাইজ উপহার হিসেবে বেঞ্চগুলো যখন বাচ্চাদের দেওয়া হয় তখন বাচ্চার সবাই আনন্দে হাততালি দিয়ে ইউএনও স্যারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। 

ইউএনও রুহুল আমিন বলেন, স্কুলে গিয়ে দেখি ক্লাসে বেঞ্চ সংকট, বেঞ্চ যা-ও আছে তা ভাঙাচোরা, কোনো কোনো শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চ-ও নাই, বেঞ্চ না থাকায় গাদাগাদি করে এক বেঞ্চেই বসেছে অনেক শিক্ষার্থী। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব বেঞ্চ শিক্ষার্থীদের জন্য উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।

রুহুল আমিন আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়মুখী করার নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় ভুগতে থাকা বিদ্যালয়টি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এভাবে হাটহাজারীর প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমস্যা দূর করে শিশুদের জন্য শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা