kalerkantho

মধ্যরাতে হঠাৎ উত্তপ্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ১২:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মধ্যরাতে হঠাৎ উত্তপ্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছাত্রলীগের উভয় পক্ষের কাছে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দেখা যায়। এ ঘটনায় ১০ কর্মী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। রাত থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। রবিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের আবাসিক হল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে প্রায় ২০/২৫ জন নেতাকর্মী সাদ্দাম হোসেন হলে যায়। এরপর তারা ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রুপের কর্মী মোশাররফ হোসেন নীলের খোঁজে হলের ২৩৫ নম্বর কক্ষের সামনে গিয়ে ডাকতে থাকে। এরপর তারা কক্ষের দরজায় লাথি মারতে থাকলে নীল বেরিয়ে আসে। এরপর তাকে বিদ্রোহী গ্রুপ করার জন্য এবং ছাত্রলীগের প্রগ্রামে উপস্থিত না থাকায় শাসায়। এ সময় ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন কুমার দাসের নেতৃত্বে তাকে মারধর করা হয় বলে দাবি করেছেন নীল।
 
পরে ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রুপ আলো, টনি, জুবায়েরের নেতৃত্বে ১০/১২ জন কর্মী সাদ্দাম হলের সামনে আসলে দুই গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রাকিবের কর্মী সুমনকে মারধর শুরু করলে সাধারণ সম্পাদকসহ তার কর্মীরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার পর উভয় গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ছাত্রলীগের এক অংশের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু হলের সামনে অবস্থান নেয়। অপরদিকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরাও জিয়া মোড়ে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে শেখ রাসেল হলের সামনে আসলে বিদ্রোহীরা ধাওয়া দেয়। ধাওয়া খেয়ে আবাসিক হলে গেট আটকিয়ে ভেতরে অবস্থান নেয় সভাপতি-সম্পাদক গ্রপের কর্মীরা। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় উভয় পক্ষে কাছে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দেখা যায়। এ সময় তিন রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। জিয়া মোড়সহ জিয়া হল ও লালন শাহ হলের সামনে বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন ও সহকারী প্রক্টর এস এম নাসিমুজ্জামান ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। 

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব এ বিষয়ে বলেন, গতকাল রাতের ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কিছু অছাত্ররা এরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আমরা পরবর্তীতে বসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব। 

ছাত্রলীগের একাংশের নেতা তন্ময় সাহা টনি বলেন, শোকের মাসে সাধারণ সম্পাদক (রাকিব) আমাদের দুই কর্মীকে অযাচিতভাবে মারধর করেন। আমরা এর কারণ জানতে চাইলে তারা আমাদের ওপর চড়াও হন। পরবর্তীতে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ বলেন, ঘটনা শুনেই সেখানে গিয়েছি। উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে শান্ত করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও সকল বিষয়ে অবগত করেছি। এখন ক্যাম্পাস স্বাভাবিক আছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা