kalerkantho

ফুপার লালসার শিকার স্কুলছাত্রী, ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় পালাল ধর্ষক

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ১০:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফুপার লালসার শিকার স্কুলছাত্রী, ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় পালাল ধর্ষক

ঢাকার ধামরাইয়ে এক স্কুলছাত্রীকে প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে তার ফুপা ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রবিবার রাতে ধামরাই থানায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে দুজনকে মূল আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এর আগে ধর্ষককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রভাত মালু। তাকে (প্রভাত মালু) এ মামলায় আসামিকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

অভিযুক্ত ফুপা নান্নার ইউনিয়নের ঘোড়াকান্দা গ্রামের মৃত হায়দার সরদারের ছেলে এবং প্রেমিক একই গ্রামের আবুল কালামের ছেলে নাহিদ হোসেন (২২)। আসামিরা পলাতক রয়েছে।  

পুলিশ ও অভিযোগসূত্রে ভুক্তভোগী এবং স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, উপজেলার নান্নার-সূয়াপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী ও সূয়াপুর গ্রামের এক দরিদ্র ভারসাম্যহীন পিতার মেয়ে সোনিয়ার (ছদ্মনাম) সঙ্গে একই উপজেলার নান্নার ইউনিয়নের ঘোড়াকান্দা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে কলেজছাত্র নাহিদ মিয়া বিয়ের প্রলোভন দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। নাহিদ সম্প্রতি সোনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ দিকে নাহিদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে গত বুধবার সন্ধ্যায় আপন ফুপা আলমগীর হোসেন (ফুপু ও ফুপা আলমগীর সোনিয়াদের বাড়িতেই বসবাস করে) তার নিজ গ্রাম ঘোড়াকান্দায় নিয়ে আসেন সোনিয়াকে। এরপর সোনিয়াকে ঘরের মধ্যে ভয়-ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ঘটনা কাউকে জানালে সোনিয়াকে হত্যারা হুমকি দিয়ে ওই রাতেই সোনিয়াকে বাড়িতে পৌঁছিয়ে দেয় আলমগীর। 

ঘটনার দুই দিন পর সোনিয়া তার মাকে বিস্তারিত খুলে বলে। এরপর সোনিয়ার মা স্থানীয় সয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান সোহরাব ও ইউপি ওয়ার্ড সদস্য প্রভাত মালুকে ধর্ষণের বিষয়টি অবহিত করেন। তারা সোনিয়ার মাকে মীমাংসার কথা বলে ধর্ষক আলমগীরকে ডেকে আনেন ইউনিয়ন পরিষদে। তবে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপসযোগ্য না হওয়ায় চেয়ারম্যান থানা পুলিশকে অবহিত করেন। এ দিকে কৌশলে আলমগীরকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন ইউপি সদস্য প্রভাত মালু অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।  

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার এসআই আবুল কালাম বলেন, ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে আলমগীর ও প্রেমিক নাহিদকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। এ মামলায় ইউপি সদস্য প্রভাত মালু ধর্ষককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে বলে উল্লেখ করেছে। অভিযুক্তদের আটকে অভিযান অব্যাহত আছে। আজ সোমবার ধর্ষিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা