kalerkantho

বাহুবলে চেয়ারম্যানের আচরণে বিব্রত উপজেলা প্রশাসন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৫ আগস্ট, ২০১৯ ২২:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাহুবলে চেয়ারম্যানের আচরণে বিব্রত উপজেলা প্রশাসন

হবিগঞ্জের বাহুবলে এমপির উপস্থিতিতে প্রতিটি স্পটে ওজন করে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পরও উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমান অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। ফলে বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমান বলেন, বাহুবলে পেনা মাছ অবমুক্তকরণে মৎস্য কর্মকর্তা দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ায় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি বয়কট করেছেন তিনি। এ নিয়ে শুক্রবার দুপুরে তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহনেয়াজ মিলাদ গাজী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন স্পটে শুক্রবার মাছের পোনা অবমুক্ত করা হলেও উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমান কোথাও যাননি।

অথচ তিনি তার ফেসবুক আইডিতে লেখেন 'মাছের পোনা অবমুক্ত প্রসঙ্গে দ্বিমত! আজ বাহুবল উপজেলায় এক লক্ষ টাকার মাছের পোনা ৩৩৪ কেজি জলাশয়ে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত ছিল, কিন্তু মৎস্য কর্মকর্তা আত্মসাত করার পাঁয়তারা করেন। পরে এমপি সাহেবকে সাথে নিয়ে দীননাথ সরকারি মডেল হাই স্কুলের পুকুরে ৫ কেজি, বাহুবল মাদরাসার পুকুরে ৫ কেজি ও করাঙ্গী নদীতে ৫ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করেন মাত্র। এবং কালাপুর আশ্রায়ন কেন্দ্রের পুকুরে মাছের পোনা ছাড়তে গেলে ৫০ কেজি বলেন সেখানে আমার প্রতিনিধি আগে থেকে ছিল সে চ্যালেঞ্জ করলে উজন করা হয় তখন ১৫ কেজি পোনা পাওয়া যায়। মোট ৩০ কেজি পোনা মাছ সমস্ত উপজেলায় অবমুক্ত করা হয়। এমপি সাহেবকে সাথে নিয়ে বাকী সব পোনা মাছ অবমুক্ত করার কথা। কিন্তু তিনি যাননি এই সুযোগে মৎস্য কর্মকর্তা আর কোথাও মাছের পোনা অবমুক্ত করে নাই। এমনকি কালাপুরে আমার প্রতিনিধি ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি ছিল না এবং গুঙ্গিয়াজুরী হাওরে কোনো পোনা অবমুক্ত করা হয়নি। ৩০৪ কেজি পোনা মাছ মৎস্য কর্মকর্তা আত্মসাৎ করেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সকল স্পটে সরকারি কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ওজন করার পর মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। ওজন করার দৃশ্যের ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়। ওজন করার দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমানের পছন্দের ঠিকাদার মাছ সরবরাহ আদেশ না পাওয়ায় তিনি কোনো স্পটে না গিয়েই উল্টা-পাল্টা তথ্য প্রদান করেছেন। তবে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজাল বলেন, নীতিমালা অনুয়ায়ী ৩০৪ কেজি পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। এখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা হক বলেন, উপজেলায় মাছের পোনা নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। প্রকাশ্যে ওজন করে পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। কেউ স্পটে না গিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করলে তা হবে দুঃখজনক। এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা