kalerkantho

পদ্মা পাড়ের পাঠশালা

সাব্বিরুল ইসলাম সাবু, মানিকগঞ্জ   

২৫ আগস্ট, ২০১৯ ২১:৪৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পদ্মা পাড়ের পাঠশালা

বছরের পর বছর অব্যাহত ভাঙনে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার শতশত পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছে রাস্তার পাশে, বস্তিতে কিংবা অন্যের জমিতে। এ সমস্ত পরিবারের শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষা থেকে। কিছু কিছু পরিবার তাদের শিশুদের স্কুলে পাঠাতে পারলেও অশিক্ষিত বাবা, মা তাদের পরিচর্যা করতে পারছে না। এরকম শিশুদের বাড়তি পাঠদানের উদ্দেশে স্থানীয় কিছু তরুণ গড়ে তুলেছেন পদ্মা পাড়ের পাঠশালা। বিনা বেতনে পাঠদানের পাশাপাশি তারা শিশু শিক্ষার্থীদের দিচ্ছে বই, খাতা, কলম।

এ বছরের মার্চ থেকে চালু হয়েছে পাঠশালার কার্যক্রম। এর প্রতিষ্ঠাতা কলেজ পড়ুয়া মীর নাদিম হোসেন। তাকে সহায়তা করছে আরো দুই বন্ধু। বর্তমানে সকাল ও বিকেলে দুই দফায় মোট ৫৪ জন শিশু এই পাঠশালায় লেখাপড়া করছে। হরিরামপুরের আন্দারমানিক গ্রামে ৫০০ টাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে স্থাপিত হয়েছে পাঠশালাটি।

পদ্মা পাড়ের পাঠশালার উদ্যোক্তা মীর নাদিম হোসেন সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে রষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। পদ্মা পাড়েই তাদের বাড়ি। বাবা একটি কলেজে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। মা, বাবা আর দশম শ্রেণি পড়ুয়া একবোন নিয়ে তাদের সংসার। জন্মের পর থেকেই পদ্মার ভাঙন দেখে আসছেন নাদীম। দেখেছেন অসংখ্য মানুষকে গৃহহীন হতে। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজন গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে গেছে। তাদের সাথে আর দেখা হয়নি। যারা কোনো রকমে টিকে আছে তাদের ঠাই হয়েছে সরকারি রাস্তার পাশে, বস্তিতে। মানববেতর জীবন কাটাচ্ছে তারা। এদের জন্য কিছু একটা করার তাগিদ অনুভব করতেন অনেক আগে থেকে। কিন্তু সেরকম সামর্থ ছিল না। অনার্স পড়ার সাথে সাথে শুরু করেন টিউশনি। আর তখনই তিনি মনে করেন আর কিছু না হোক ভাঙন কবলিত পরিবারের শিশুদের যদি লেখাপাড়ায় সাহয্য করা যায়। নিজ খরচেই ভাড়া নেন একটি ঘর। টাঙ্গিয়ে দেন পদ্মা পাড়ের পাঠশালার সাইনবোর্ড। গ্রামে ঘুরে ঘুরে জোগার করেন শিক্ষার্থী।

বর্তমানে দুই শিফটে মোট ৫৪ জন ছাত্র তার পাঠশালায় পড়াশোনা করে। নাদিম দেখে তার কয়েক বন্ধুও এগিয়ে আসে। ঘুরে ফিরে বেশ কয়েকজন সাহায্য করলেও বর্তমানে তার সাথে আছেন সহপাঠী রবীন্দ্র আর নিশা আক্তার। স্থানীয় দুই ব্যবাসায়ী স্কুলের জন্য দিয়েছেন ৫ জোড়া বেঞ্চ।   

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা