kalerkantho

খুলনা-মংলা রেললাইন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি

রক্ষক যখন ভক্ষক

মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

২৫ আগস্ট, ২০১৯ ১৯:৫৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রক্ষক যখন ভক্ষক

সার্ভেয়ার কামাল হোসেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

খুলনা-মংলা রেললাইন স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম ২০১৫/১৬ অর্থ বছরে শুরু হয়। বাগেরহাট জেলার ব্যক্তি মালিকদের ক্ষতিপূরণ অর্থ বরাদ্দ হয় ২২৩ কোটি ৬৪ লক্ষ ৪৮ হাজর ১০৪ টাকা। শুরু থেকে সকরকারি অর্থ আত্মসাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সার্ভে কাজে নিয়োজিত বাগেরহাট এল এ শাখার সার্ভেয়ার কামাল হোসেন ও লখপুর ইউনিয়নের জাড়িয়া গ্রামের ইমান আলীর পুত্র আজিজুল হকের (মাতুব্বর) নেতৃত্বে কতিপয় ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে ফাঁকা জমিতে ঘর নির্মাণ, বৃক্ষরোপনসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করে। জমি মালিকানা না থাকলেও নামে বেনামে স্থাপনা দেখিয়ে সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী উত্তোলন করা হয় কোটি কোটি টাকা।

এখানেই শেষ নয় প্রকৃত জমি ও স্থাপনার মালিকদের ক্ষতিপূরণ পায়িয়ে দেওয়ার নামে এ চক্রটি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানান মো. ইসরাফিল শেখ, নিখিল কুমার ঘোষ, বাদশা শেখসহ একাধিক ভুক্তভোগীরা। তারা আরো বলেন, টাকা উত্তোলন করতে গেলে ক্ষতিপূরণের প্রাপ্ত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অগ্রীম দিতে হয়েছে। যারা দিতে পারেনি তাদের টাকা উত্তোলনে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। 

অভিযোগ সুত্র ধরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ফকিরহাটের লখপুর ইউনিয়নের জাড়িয়া মাইট কুমড়া মৌজায় এস এ ১১৮০ দাগে জমির মালিক হিসেবে ক্ষতিপূরণ তুলেছেন আফসার উদ্দিন। আফসার উদ্দিন বলেন, সার্ভেয়ার কামাল হোসেনসহ একটি চক্র এ দাগে কাগজ কলমে ভুয়া গাছপালা ও অবকাঠামো দেখিয়ে ১০ লাখ ৪২ হাজার ২১৫ টাকা উত্তোলন হয়েছে সার্ভেয়ার কামাল হোসেনের প্রধান সহযোগী (দালাল) আজিজুল হকের নামে। 

একই মৌজায় এস এস ৯৭৩ দাগে জমির মালিক আকবর আলী শেখ। তিনি বলেন, তার এ জমিতে সহিদুর রহমানের পুত্র শেখ শাহিনুর রহমান নামে সার্ভে রিপোর্ট অনুসারে তৈরিকৃত সম্পদ সম্পত্তি বিবরণীতে (যৌথ ফিল্ড বহি) ভুয়া অবকাঠাম দেখিয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার ৬৮১ টাকা এল এ শাখার সার্ভেয়ারসহ একটি চক্র ক্ষতিপূরণ উত্তোলন করেছে। 

কে এই শাহিনুর রহমান প্রসঙ্গে স্থানীয় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফিরোজ খান বলেন, এ নামে কাউকে আমরা চিনি না। ওই জমিতে শাহিনুর রহমান নামে কোনো ব্যক্তির ঘর ছিল না। যা কাগজ কলমে বানিয়েছে কর্মকর্তা। প্রমাণ স্বরুপ তিনি জাড়িয়া মাইট কুমড়া এলাকার ৫৪৯ জনের ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স এসেসমেন্ট লিষ্ট দেখান। যেখানে সহিদুর রহমানের পুত্র শেখ শাহিনুর রহমানের কোনো অস্তিস্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি।

২৪ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখসহ একাধিকবার এল এ শাখার সার্ভেয়ার কামাল হোসেন ও তার সহযোগী আজিজুল হক মাতুব্বর এর নামে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এ ছাড়া চেয়ারম্যান দুর্নীতি দমন কমিশন, বিভাগীয় কমিশনার, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান। 

সার্ভেয়ার কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে এ অনিয়ম-দুনীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পারসেন্টটেন্স ছাড়া ডিসি অফিসে কোনো কাজ হয় না। সত্যি বলতে আমি একা জড়িত না, এখানে ডিসি অফিস জড়িত। ডিসি আছে, এডিসি আছে এলও আছে সবাই আছে। আমি একা জড়িত হলেতো এক শ কোটি টাকার মালিক থাকতাম।

দৃশ্যমান সুনির্দিষ্ট অনিয়ম দুর্নীতি অসংখ্য প্রমাণ বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাহিন হোসেনের সম্মুখে ভুক্তভোগীরা উপস্থাপন করলেও তিনি ওই সময় এ প্রতিবেদককে বলেন, এমন অনিয়ম দুর্নীতি হতেই পারে না। জমির সাথে ঘরবাড়ির কোনো সম্পর্ক নেই। একজনের জমি থেকে অন্যজনে ঘরবাড়ি গাছপালার টাকা তুলতেই পারে।

স্থানীয়দের একাধিক লিখিত অভিযোগ থাকার পরও তিনি বলেন, যদি কোনো কিছু আমাদের অগোচরে হয়ে থাকে তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনআনুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে কেউ পার পাবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা