kalerkantho

টেকনাফের যুবলীগ নেতা হত্যার দুই আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত

ইয়াবা পাচারের বাধা দুর করতেই রোহিঙ্গারা যুবলীগ নেতাকে হত্যা করে!

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি   

২৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০১ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



টেকনাফের যুবলীগ নেতা হত্যার দুই আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত

ওমর ফারুক

উগ্র সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের হাতে টেকনাফের যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। প্রাথমিক তথ্যে, নাফ নদের এপার-ওপার ইয়াবার বড় চালান পাচারের পথ সুগম করার জন্যই ইয়াবা বিরোধী সাহসি যুবলীগ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, যুবলীগ নেতা ওমরকে সরিয়ে দিয়ে নাফ নদের ওপার এবং এপারের রোহিঙ্গারা ইয়াবার চালান পাচারের বাধা দুর করতে চেয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের যারাই যুবলীগ নেতাকে নির্মমভাবে খুন করেছে তাদের দুই সদস্য আজ শনিবার ভোর রাতেই পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ এ বিষয়ে বলেছেন, টেকনাফের জাদিমুরা রোহিঙ্গা শিবিরের সন্ত্রাসী রোহিঙ্গা মোহাম্মদ শাহ ও আবদুস শুকুর জাদিমুরা পাহাড়ের পাদদেশে শনিবার ভোররাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে দুটি বন্দুক ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। টেকনাফের ওসি আরো জানান, এ ঘটনায় পুলিশ দলের তিন সদস্যও আহত হয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে টেকনাফের জাদিমুরা রোহিঙ্গা শিবিরের পার্শ্বে রাস্তায় টর্চলাইটের আলো ফেলার একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা ঘটনাস্থল থেকে তুলে নিয়ে যায় স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুককে। উগ্র সন্ত্রাসী রোহিঙ্গার দলটি আল ইয়াকিনের সদস্য হিসাবে পরিচিত। টেকনাফের জাদিমুরা পাহাড়ে দলটির আস্তানা রয়েছে। সেই পাহাড়েই রয়েছে তাদের টর্চার সেল। রোহিঙ্গারা যুবলীগ নেতার পরিচয় জেনে তাকে টানা-হ্যাঁচড়া করেই পাহাড়ের পাদদেশে নিয়ে যায়। সেখানেই তাকে গুলিতে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।

খুনি রোহিঙ্গারা যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে এমন নির্মমভাবে খুন করেছে যে, তারা তার চোখ পর্যন্ত বের করে নিয়েছে। নিহত ওমর ফারুকের ঘনিষ্ট বন্ধু স্থানীয় যুবক আবদুল করিম জানান, তিনি তার বন্ধুর (ওমর ফারুক) মরদেহের গোসল দেওয়ার সময় দেখেছেন তার দুটি চোখের একটি সম্পূর্ণ বের করে ফেলা হয়েছে। বুকে ও কানে কয়েকটি গুলি এবং পায়েও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকারীরা আগে থেকেই ওমরকে টার্গেট করে রেখেছিল। তার প্রমাণ মিলেছে টর্চলাইটের আলোর সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসীদের প্রশ্নের জবাবে যখন ‘আমি ওমর আর কি’ একথা বলেন তখনই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা হুংকার ছেড়ে বলে-তুই শালার পুতকেইতো খুঁজছি।

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা নিহত ওমরের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে প্রথমে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। গুলির শব্দে সবাই পালিয়ে যায়। কেবল দাঁড়িয়ে থাকে ওমর ফারুক। এ সময় সন্ত্রাসীরা দৌঁড়ে গিয়ে ওমরকে ধরে চেঁচাচেঁচি করে নিয়ে যেতে থাকে। পথিমধ্যেই তাকে হত্যাকারীরা নির্মম নির্যাতন করে। টানা-হ্যাঁচড়া করে হত্যাকারীরা তাকে জাদিমুরা পাহাড়ের পাদদেশে নিয়ে ছুরি দিয়ে চোখ উপড়ে ফেলার পরই বুকে এবং কানে উপর্যুপরি গুলি করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাখাইনের গউজিরবিল এলাকার বাসিন্দা রোহিঙ্গা ইয়াবা ডন মাষ্টার আবদুর রহমান হচ্ছেন বড় মাপের একজন ইয়াবা পাচারকারী। তিনি এপারে রোহিঙ্গা শিবিরে ইয়াবার চালান পাচার করে থাকেন। এপারে টেকনাফের জাদিমুরা এলাকার রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদ ডাকাত ও শালবাগান শিবিরের রোহিঙ্গা ডাকাত সেলিম ওপারের মাষ্টার আবদুর রহমানের ইয়াবার বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন।

প্রসঙ্গত নুর মোহাম্মদ ডাকাত ১৯৯১ সালের দিকে আসা রোহিঙ্গা। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে এসে ভোটার আইডি যোগাড় করেছে। তিনি বিয়ে করেছেন হ্নীলার এক বিএনপি নেতার মেয়ে। তদুপরি ইয়াবা ডন রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদ ডাকাত তার মেয়ে বিয়ে দিয়ে জামাই করেছে হ্নীলার এক যুবদল নেতাকে। পুরো ইয়াবা সিন্ডিকেটের সদস্যরা সবাই স্থানীয়ভাবে বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হলেও নুর মোহাম্মদ ডাকাত তার জীবনযাপনের নিশ্চয়তার জন্য স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রেখে চলেন।

কিছু দিন আগে ওপারের মাষ্টার আবদুর রহমানের ইয়াবার একটি বড় চালান এপারে ছিনতাই হয়। জাদিমুরা এলাকার কিছু লোককে এ বিষয়ে সন্দেহ করেন নুর মোহাম্মদ ডাকাত ও সেলিম ডাকাত। বিষয়টি ফয়সালা করে দিতে নুর মোহাম্মদ ডাকাত যুবলীগ নেতা ওমরের হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন। কিন্তু ওমর ইয়াবার বিষয়ে মাথা ঘামাতে রাজি হননি। এ কারণেই মিয়ানমারের ইয়াবা গডফাদার মাষ্টার আবদুর রহমান এপারের সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের ঈঙ্গিত দেন তাকে সরিয়ে দিতে।

আর এ ঘটনা বাস্তবায়ন করা হয় পরিকল্পনা মাফিক। ২২ আগস্টের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাবার রাতে নুর মোহাম্মদ ডাকাতের জাদিমুরার ঘরে সেই রাতে গরু জবাই করে ভোজের আয়োজন করা হয়। সেই ভোজে অংশ নিয়েই উগ্র রোহিঙ্গারা হত্যা করে প্রতিবাদী যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে। টেকনাফ থানার ওসি আরো জানান, নিহত ওমরের বাবা আবদুল মোনাফ কম্পানী ১৫ জন সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাসহ ৩০/৩৫ জনকে আসামি করে থানায় ছেলে হত্যার মামলা করেছেন। তিনি হত্যাকারী রোহিঙ্গাদের আইনের আওতায় আনবেন বলে জানিয়েছেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা