kalerkantho

সোনা মসজিদ স্থলবন্দরের দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ    

২৪ আগস্ট, ২০১৯ ১৮:৫১ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সোনা মসজিদ স্থলবন্দরের দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ স্থলবন্দরে চাঁদা আদায়ের দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোনা মসজিদ স্থলবন্দরের এক শ্রমিক নেতা ও স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান সোনা মসজিদ স্থলবন্দর শ্রমীক সমন্বয় কমিটির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ শনিবার শিবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ করায় লুৎফর রহমানকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি জানান।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, সোনা মসজিদ স্থলবন্দর শ্রমীক সমন্বয় কমিটির (শ্রমীকলীগ) সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার, সাধারণ সম্পাদকসহ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহবুল হক, সদস্য আইনাল হক, মো. জাহাঙ্গীর ও শহিদুল হক বন্দরে গত ৬ মাসে চাঁদা আদায়ের দেড় কোটি টাকা আত্মসাতে জড়িত।

লুৎফর রহমান জানান, সোনা মসজিদ বন্দরে ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক আসে দিনে অন্তত ২৫০-৩০০টি। বাংলাদেশেরও অন্তত ৩০০ ট্রাক পণ্য বোঝাই করতে বন্দরে প্রবেশ করে। দুই দেশেরই প্রায় ৬০০ ট্রাক থেকে সোনা মসজিদ স্থলবন্দর শ্রমীক (শ্রমিকলীগ) সমন্বয় কমিটির নেতৃত্বে চাঁদা আদায় হয় দিনে অন্তত তিন লক্ষ টাকা। এসব টাকার সামান্য অংশ পায় শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো। ৮০ ভাগ টাকা বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনসহ বন্দরে নেতৃত্ব প্রদানকারী কয়েকজন নেতা ও রাজনৈতিক নেতাদের পকেটে যায়। ৩১টি শ্রমিক সংগঠনের কোনো নেতা বা সদস্য সোনা মসজিদ স্থলবন্দর শ্রমীক সমন্বয় কমিটির নেতাদের কাছে হিসাব ও নায্য প্রাপ্যতা চাইলে পড়তে হয় হয়রানিতে, হয় মামলা, হয় আটক ও নাজেহালের স্বীকার। গত ঈদে সোনা মসজিদ স্থলবন্দর শ্রমীক সমন্বয় কমিটির ২৬ জনের মধ্যে ১২ জন ঈদ বোনাস ও ভাতা নেননি। প্রতিবাদ করলে ৩ জন সদস্যের পদ বাতিল করে দেয় তারা।

সোনা মসজিদ স্থলবন্দর শ্রমীক সমন্বয় কমিটির (শ্রমীকলীগ) কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লুৎফর রহমান বিভিন্ন সংগঠনবিরোধী কাজে জড়িত থাকায় অব্যাহতি দেওয়ার কারণে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। তার অভিযোগের কোনো সত্যতা নাই বলেও জানান তারা। 

সোনা মসজিদ স্থলবন্দর শ্রমীক সমন্বয় কমিটির (শ্রমীকলীগ) সভাপতি সাদেকুর রহমানের মোবাইল নম্বরে শনিবার বিকেলে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি। এরপর কায়েকবার তার বক্তব্য জানার জন্য ফোন দিলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে সোনা মসজিদ স্থলবন্দর শ্রমিকলীগের সভাপতি সাদেকুর রহমানের স্বেচ্ছাচারিতা, চাঁদাবাজি ও সমান্তরাল এমপি ভাবাসহ কমিটি কুক্ষিগত করে রাখার প্রতিবাদে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট শ্রমিক সমন্বয় কমিটি বা সোনামসজিদ স্থলবন্দর শ্রমিকলীগ কমিটির খলিলুর রহমান, একরামূল হক, সাদিকুল ইসলাম মুনু, আইনুল হক, আয়েস উদ্দিন, সোহেল রানা, খাদেমূল ইসলাম, এনামূল হক, নুরুল ইসলাম বিহারী ও গোলাম মুর্শেদসহ ১০ সদস্য পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগী সদস্যের মধ্যে কয়েকজন তখন জানিয়েছিলেন, ২০১৬-১৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সাদেকুর রহমান দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে নিজেকে সমান্তরাল এমপি ভাবাসহ স্বেচ্ছাচারিতা ও চাঁদাবাজি যেকোনো সময়ের রেকর্ড ভঙ্গ করে সাবেক এমপি গোলাম রাব্বানীর পৃষ্টপোষকতা পাওয়ার কারণে।

আরো জানিয়েছিলেন, সমন্বয় থেকে প্রতিমাসে সাবেক এমপিকে মাসে ৪ লক্ষ টাকা চাঁদা দেওয়া হতো। এরপর তা বাড়াতে বাড়াতে দাঁড়ায় ১০ লক্ষতে। যা হ্যান্ডেলিং করতো সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার নিজেই। আদো রাব্বানী টাকা পেত কিনা জানা নেই।

সাবেক এমপির প্রশ্রয়ে থাকা সোনা মসজিদ স্থলবন্দর শ্রমিকলীগের সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার শ্রমিকদের পাওয়া বকসিস, ভারতীয় তিন শ ও বাংলাদেশের তিন শতাধীক ট্রাক থেকে দিনে তিন লক্ষাধীক টাকা চাঁদা উত্তোলনের মূলহোতা। নিজেকে সমান্তরাল এমপি ভাবা সাদেকুর রহমানের প্রভাব ঠেকানো, চাঁদা আদায়ের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা ও কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্বে সাদিকুর রহমান মাস্টার প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে গত ১৩ ডিসেম্বর মারাত্মক আহত হন।

ভারত থেকে সোনা মসজিদ স্থলবন্দরে বিভিন্ন পণ্য ভর্তি ট্রাক আসে দিনে ২৫০-৩০০টি। আর বাংলাদেশের প্রায় ৩০০টি। এই সাড়ে ৫০০-৬০০ ট্রাক থেকে হয় লোড আনলোড। বাংলাদেশের প্রায় ৩০০টি ট্রাক লোড করার জন্য বন্দরে প্রবেশের সময় জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের একটি পাতা দিয়ে প্রতি ট্রাক থেকে সাদেকুর রহমান মাস্টারের নেতৃত্বে উত্তোলন করা হয় ৫০০ টাকা করে। ভারত থেকে যেসব পণ্য বোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে সেখান থেকে পণ্য ভেদে ১০০ রূপি থেকে ৬৫০ রূপি পর্যন্ত করে দিনে আদায় হয় ৩০-৫০ হাজার রূপি। কস্টিক সোডা ও মসলা জাতীয় পণ্য ভর্তি বাংলা ট্রাক থেকে লেবার টোকেনের নাম দিয়ে প্রতি ট্রাক থেকে দিনে অন্তত ১৫/২০ ট্রাক থেকে আদায় করা হয় ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা করে ৬/১০ হাজার টাকা, পেয়াজ ও কসমেটিক্স পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাক থেকে ৪০০-১০০০ রুপি করে আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এখান থেকে আদায় হয় দিনে দেড় লক্ষ টাকা। আর মাসে আদায় হয় প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। ২০১৬ সালের পর সাদেকুর রহমান মাস্টার, তার ছেলে সোহেল, জাকির ও সেনাউল মেম্বারের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এসব টাকা চলে যায় একভাগ জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নে, একভাগ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতার নামে, একভাগ কয়েকজন শ্রমিক নেতা ও নিজেদের নামে।

সাদেকুর রহমান মাস্টার লেবার টোকেনের মাধ্যমে পানামার কাছে বিল বাবদ টাকা নেওয়া হয় এবং বন্দর অভ্যন্তরে ভারতীয় ট্রাক থেকে ৫০ থেকে ৬৫০ রূপি করে আদায় করা হয় বলে সিরিয়াল মাস্টাররা বলে জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা