kalerkantho

সড়ক দখল করে সিএনজি-বাস স্ট্যান্ড, যানজটে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়

শাহরিয়ার নাসের, নোবিপ্রবি   

২৪ আগস্ট, ২০১৯ ১২:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সড়ক দখল করে সিএনজি-বাস স্ট্যান্ড, যানজটে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়

ঢাকা-নোয়াখালী মহাসড়কের নোয়াখালী মাইজদী বাজার, নোয়াখালী রেলওয়ে স্টেশন এলাকা,  সোনাপুর জিরো পয়েন্ট ও সোনাপুর পৌরবাজার অংশে যানজট লেগেই থাকে। আর এই যানজটের কারণে প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ওই সড়কে প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও কয়েক শ শিক্ষক যাতায়াত করেন।

সড়কটির সোনাপুর পয়েন্টের দুই পাশে অবৈধভাবে সিএনজি, অটোরিকশা, বাসস্ট্যান্ড, গাড়ি পার্কিং ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পণ্য ওঠা-নামার জন্য রাস্তা দখল করে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, লরি, রিকশা ভ্যান রাখার কারণে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ এ যানজটের। সিএনজি এবং বাস টার্মিনাল না থাকায় রাস্তা দখল করে বাস দাঁড় করিয়ে ওঠানো হয় যাত্রী। ফলে প্রতিদিন নোবিপ্রবি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসগুলোকে যানজটের কবলে পড়তে হয়। যানজটের কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত ওই সড়কে যাতায়াত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় অপচয় হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নোয়াখালী প্রধান শহর মাইজদী যেতে যেখানে ২০ মিনিট লাগার কথা সেখানে লাগছে ৫০-৬০ মিনিট। কোনো কোনো সময় যানজটের কারণে একঘণ্টারও বেশি সময় লাগছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সোনাপুর জিরো পয়েন্ট থেকে সোনাপুর পৌরবাজার অংশে সড়কের উভয় পাশে অবৈধভাবে সিএনজি, অটোরিকশা, বাস রাখা হয়েছে। সড়কের দুইপাশ দখল করে বসানো হয়েছে ছোটছোট দোকান। রাস্তা দখল করে চলছে পণ্য ওঠা-নামার কাজ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, ঢাকা শহরের মতো নোয়াখালীতে ও জ্যামে নষ্ট হচ্ছে আমাদের মূল্যবান সময়। আমরা যানজটের কারণে সময়মতো ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে পারি না। আমাদের শিক্ষার্থীরাও এই যানজটের কারণে অনেকসময় ক্লাসে সময়মতো পৌঁছাতে পারে না। সমস্যাটি দ্রুত সমাধান হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে কি-না এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মো. বাহাদুর কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার কথা বলেছি কিন্তু, আশানুরূপ ফলাফল পাইনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেল কালের কণ্ঠকে বলেন, সিএনজি এবং বাসের জন্য নতুন বড় একটি টার্মিনাল নির্মাণ কাজ চলমান। শিগগিরই কাজ শেষ হয়ে যাবে। তখন আর যানজট থাকবে না। রাস্তার পাশের অবৈধ স্থাপনাগুলোও উচ্ছেদ করা হবে।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের সঙ্গে। রাস্তার পাশে অবৈধ সিএনজি, অটোরিকশা, বাসস্ট্যান্ডের কারণে যে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এ যানজট নিরসনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, যানজটে প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। সড়ক দখল করে এভাবে সিনএনজি, অটোরিকশা, বাসস্ট্যান্ড করাটা পুরোপুরি অযৌক্তিক। সিএনজি এবং বাসের জন্য আলাদা টার্মিনাল নির্মাণ হচ্ছে। আশা করি দুই মাসের ভেতর কাজ সম্পন্ন হবে। তখন এই সমস্যাটি আর থাকবে না। সড়ক দখল করে অবৈধ দোকানপাটের ব্যাপারে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ। সড়কে কোনো দোকানপাট থাকবে না। উচ্ছেদ অভিযানে সব উচ্ছেদ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা