kalerkantho

শিবপুরে বাস দুর্ঘটনা

সেদিন নিহত হলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী, আজ চলে গেলেন তার মা

নরসিংদী প্রতিনিধি    

২৪ আগস্ট, ২০১৯ ১০:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেদিন নিহত হলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী, আজ চলে গেলেন তার মা

নরসিংদীর শিবপুরে বাস চাপায় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ বিভাগের শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার মারা যাওয়ার পর অবশেষে তার শিক্ষিকা মা আসমাউল হুসনা রিনা (৪২) আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন। আজ শনিবার সকাল ৮টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) তিনি মারা যান। নিহত রিনা মনোহরদীর নোয়াদিয়া গ্রামের গাজী হারুন অর রশিদের স্ত্রী ও শিবপুরের খালপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা।

গত ১৩ আগস্ট রাত ৮টার দিকে নরসিংদী-মনোহরদী সড়কের শিবপুর উপজেলার চান্দারটেক (পঁচারবাড়ি) এলাকায় তাদের বহনকারী সিএনজি অটোরিকশাটিকে রয়েল পরিবহনের একটি বাস চাপা দেয়। এতে দুজন লামিয়া আক্তার ও রিপন মিয়া নামের দুজন নিহত হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন সিএনজি যাত্রী আসমাউল হুসনা, রহিম মিয়া ও মজিবুর রহমান নামের তিনজন।

নিহতের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিড়্গক দম্পত্তি গাজী হারুন অর রশীদ ও আসমাউল হুসনা রিনা পারিবারিক জীবনে এক মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান ছিল। মেয়ে লামিয়া আক্তার পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ছেলে গাজী লাবিব শিবপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৩ আগস্ট মা আসমাউল হুসনা রিনা ও মেয়ে লামিয়া আক্তার গ্রামের বাড়ি নোয়াদিয়া থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা করে শিবপুর যাচ্ছিলেন। তাদের বহন করা অটোরিকশাটি চান্দারটেক এলাকায় পৌঁছলে রয়েল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রিপন মিয়া নামের একজন নিহত হয় আর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তারকে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত লামিয়ার মা আসমাউল হুসনাকে প্রথমে নরসিংদী জেলা হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে ওইদিন রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রাখা হয়। সেখানে দীর্ঘ দশ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শনিবার সকাল আটটায় আসমাউল হুসনা মারা যান। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শহীদ আসাদ কলেজিয়েট গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষক ও নিহতের স্বামী গাজী হারুন অর রশীদ বলেন, আমি শেষ হয়ে গেলাম। মেয়েটাকে (লামিয়া) নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। সে মারা যাওয়ার পর রিনা (স্ত্রী) বাঁচবে বলে বিশ্বাস ছিল। কিন্তু সেও আজ চলে গেল। আমি এখন কি নিয়ে বাঁচব? 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা