kalerkantho

কক্সবাজারে আ. লীগের চিকিৎসা ক্যাম্পে ছয় হাজার রোগীর চিকিৎসা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কক্সবাজারে আ. লীগের চিকিৎসা ক্যাম্পে ছয় হাজার রোগীর চিকিৎসা

ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শুক্রবার আয়োজিত বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পে কমপক্ষে ছয় হাজার দরিদ্র রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ দৌলত ময়দানে শুরু হওয়া ক্যাম্প বিকেল ৫টার দিকে শেষ হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এই ক্যাম্পের আয়োজন করা।

সকাল থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেতে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে থেকে নারী-পুরুষের ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়। এ সময় বিনামূল্যে চিকিৎসকদের পরামর্শ পাওয়ার পাশাপাশি স্বল্পমূল্যের ওষুধও পান ক্যাম্পে আসা সাধারণ মানুষ।

গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় পাবলিক লাইব্রেরীর শহীদ দৌলত ময়দানে রোগীদের সেবা প্রদানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. সিরাজুল মোস্তফা। বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মেয়র, সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি, আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার ও জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ জেলা শাখার আহবায়ক এবং বি এম এ কক্সবাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মাহবুবুর রহমান।

চিকিৎসা ক্যাম্পে পৃথক ৩০টি কেন্দ্রে চিকিৎসকরা রোগীকে রোগ নির্ণয়পূর্বক ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেন। ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়। এছাড়া ক্যাম্পের প্যাথলজি বিভাগের বিনামূল্যে ইসিজি, ইকো-কার্ডিওলজি, রক্ত গ্রুপ নির্ণয়, আল্ট্রাসনো, ডায়বেটিকস, হেপাটাইটিস বি ও সি সহ পরীক্ষা ও রিপোর্টপত্র দেওয়া হয়। 

অনেকেই ডায়াবেটিস, হেপাটাইটিস স্ক্রিনিং, ব্লাড গ্রুপিং-এর পাশাপাশি ইসিজি করিয়ে নিয়েছেন বিনামূল্যে। ডায়াবেটিস এবং ইসিজি রিপোর্ট ক্যাম্পে তাৎক্ষণিকভাবে তুলে দেওয়া হয়। তবে, হেপাটাইটিস স্ক্রিনিং-এর রিপোর্ট দিতে অন্তত ১ সপ্তাহ প্রয়োজন বলে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট পরিষদের সদস্যরা। বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৬৬ জন হেপাটাইটিস স্ক্রিনিং-এর জন্য রক্ত প্রদান করেছেন বলেও জানান তাঁরা।

ক্যাম্পে চিকিৎসা প্রদানকারী কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে ক্যাম্পে এসেছি। বঙ্গবন্ধু আমাদের জন্য সারাজীবন ব্যয় করেছেন। আমরা তাঁর স্মরণে একটি দিন ব্যয় করছি মাত্র। শুধু চিকিৎসা নয়। ক্যাম্পে আসা রোগীদের নির্দেশনাও দিচ্ছি। 

তিনি বলেন, কক্সবাজার শহরে সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। যেখানে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। সেজন্য এই ধরনের ক্যাম্প করা উচিৎ দুর্গম এলাকায়। যেখানে বসবাসরত মানুষের মাঝে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে না। 

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ক্যাম্পে আসা মানুষ দেখলেই বোঝা যাবে এই ক্যাম্প কতোটা সফল। অদূর ভবিষ্যতে নেতৃত্বে যারাই আসুক। জাতীয় শোক দিবসে এই ক্যাম্পের যাত্রা অব্যাহত থাকবে।

ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা জহুরা খাতুন নামে এক বয়োবৃদ্ধ নারী বলেন, কোমরে ব্যথাসহ শরীরে নানা অসুখ বাসা বেঁধেছে। এই কারণে চিকিৎসা নিতে এখানে এসেছি। ইতিপূর্বে সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করিয়েছিলাম। ডাক্তারের চেম্বারে গেলে অনেক টাকা ফিস দিতে হয়। এরপর পরীক্ষার জন্যও অনেক টাকা লাগে। এই টাকা আমি কোথায় পাবো। এই সময় ক্যাম্পে তাকে বিনামূল্যে দেওয়া এসিক্লোফেনাক, প্যারাসিটামল এবং রেনিটিডিন ট্যাবলেটও এই প্রতিবেদককে দেখান জহুরা খাতুন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা