kalerkantho

ভাড়াটিয়ার আড়ালে মাদক

চরফ্যাশনে মাদকসক্ত রাসেল জমাদারসহ দুই যুবক আটক

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি   

২৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:১৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চরফ্যাশনে মাদকসক্ত রাসেল জমাদারসহ দুই যুবক আটক

চরফ্যাশন পৌরসভা ও আসলামপুর দুই মাদক যুবক নেতা (বন্ধু) রাছেল জমাদার ও আমিন গাঁজাসহ পুলিশের হাতে শিকলবন্দি। ছবি: কালের কণ্ঠ

মাদকের ছোয়া কিশোর থেকে শুরু করে প্রায় ভিআইপিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। মাদকের লেনদেন করতে ভিআইপি মোটরসাইকেলে ভাড়াটিয়া পরিচয়ে রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত তাদের ব্যবসায় হলো মাদক, গাঁজা এক জায়গা থেকে অন্যজায়গায় হস্তান্তর করা। এমন ভিআইপি দুই যুবক মাদক সম্রাট চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর সাবেক ৮ নম্বর ওয়ার্ড কুট্টি জমাদারের ছেলে মো. রাছেল জমাদার (২৩) ও পৌরসভা ৮ নম্বর ওয়ার্ড আলীম মহুরীর ছেলে মো. আমিন (২৬)কে গ্রেপ্তার করছে চরফ্যাশন থানা পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাত ৯টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আ. আজিজ সঙ্গি পোর্স নিয়ে পৌরসভা ৮ নম্বর ওয়ার্ড মাতবর বাড়ি সামনে পাঁকা সড়কে বসে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন করা অবস্থা তাদেরকে আটক করে। পরে তাদের শরীর তল্লাশি করে সঙ্গে আরো ২০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া যায়। আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই এলাকা সাধারণ মানুষের মধ্যে একটু স্বস্তি ফিরে পেয়েছে।

সম্প্রীতি চরফ্যাশনে মাদক সেবন এবং বাড়িতে রেখে মাদক বিক্রির অপরাধের একটি মাদক মামলায় একই এলাকার মো. জাকির হোসেন খলিফা ওরফে জাকু এবং তাঁর (জাকির হোসেন খলিফার) স্ত্রী মোসাম্মৎ সাজেদা বেগমকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমান অনাদায়ে আরো দুই বছর করে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন চরফ্যাশন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (বিচারক) মো. নুরুল ইসলাম। আসামিদের উপস্থিতিতে এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়কে সাধুবাদ জানিয়ে ওই বিচারকের জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করছেন স্থানীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবক বলেন, গাজাখোরের ভয়ে কাউকে কিছু বলতেও পারি না। এরা এত ভয়ঙ্কর। কারণ এদেরকে (মাদকসেবী বা ব্যবসায়ীদেরকে) পুলিশে ধরে আবার দেখি কিছুদিন পর আদালত থেকে ছাড়া পেয়ে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করে। এদের বিরুদ্ধে কিছু বলে প্রাণ হারাতে হয়। এবার হাকিম স্যার যে রায় দিয়েছেন। এরকম কয়েকটি রায় দিলে মাদকসেবী বা ব্যবসায় বন্ধ হয়ে যাবে।

বড়দের দেখা দেখে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও গ্রুপে গ্রুপে ভাগ, মোড়ে মোড়ে দলে দলে চিপাচাপায় বসে বিড়ি দিয়ে শুরু করে, ইয়াবা খাজা, বাবাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে যায়। জড়িয়ে গেলে এদের হাত থেকে জম্মদাতা মাতা ও পিতায় রক্ষা পায় না।

স্থানীরা জানান, উক্ত আসামিরা এইটাকে ব্যবসা মনে করে ব্যবসায় চালিয়ে আসছে এ যাবৎ। মাদকাসক্তরাই রাতে অন্ধকারে চিপাচাপায় বসে আড্ডা দেয়। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীর মধ্যে বন্ধুবান্ধব তৈরি হয়ে ছোট ছোট গ্রুপ গড়ে উঠছে। এসব গ্রুপের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে উঠছে কিছু অছাত্র বখাটেরও। নিয়মিত আড্ডা-খোশগল্পের একপর্যায়ে তারা অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে মাদক সেবনে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জড়িয়ে পড়ছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, ছাত্রদের সঙ্গে কিছু অছাত্র বখাটেও কাঁধে স্কুলব্যাগ ও মোটরবাইকে চেপে সেখানে গিয়ে বখাটেপনা করছে। তারা এতটাই দুর্ধর্ষ যে তাদের বিরুদ্ধ কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহসও পায় না।

চরফ্যাশন সরকারি কলেজ জনৈক সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক বলেন, যেসব কিশোরের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ ও শিষ্টাচার নেই, তারাই ধীরে ধীরে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে। এ জন্য প্রথমত পরিবারই দায়ী। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন কিশোররাই মাদক ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে যায়। এ জন্য মা-বাবা বা পরিবারের সদস্যদের মুখ্য ভূমিকা নিতে হবে। অপরাধ থেকে ফিরাতে হবে।

চরফ্যাশন থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. সামসুল আরেফীন বলেন, কিশোর অপরাধী কিংবা কোনো গ্যাং গড়ে না উঠতে পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। সন্ধ্যার পর কোনো গলিতে আড্ডা দেওয়া যাবে না। স্কুল শুরু ও ছুটির সময় গেটে বা কোনো রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কাউকে পাওয়া গেলে প্রথম অবস্থায় পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হবে, দ্বিতীয়বার হলে আইনত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

অপরাধ দমনে তিনি অভিভাবকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা কামনা করে বলেন, মা-বাবা তাঁদের সন্তানদের প্রতি নজর রাখলেই তারা বিপথগামী হবে না। সে সব ছেলেরা মা বাবা কথা শুনে না তাদের তথ্য আমাদেরকে দিন আমার আপনাদের কথা শুনার মতো ব্যবস্থা করব। তথ্য না দিলে ছোট থেকে আপনার সন্তানই বড় বিপদগামী হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা