kalerkantho

বোনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরে সৎ মাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২৩ আগস্ট, ২০১৯ ২২:০৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বোনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরে সৎ মাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

ময়মনসিংহের নান্দাইলে বোনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরে সৎ মাকে ছুরি দিয়ে উপর্যপুরি আঘাত করে হত্যা করেছে সৎ ছেলে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের মধ্য হালিউড়া গ্রামে। খবর পেয়ে গফরগাঁও হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছেন নান্দাইল থানার ওসি।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, ওই গ্রামের আব্দুল হেলিমের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর মুক্তা বেগম (৩২) নামে এক গার্মেন্টস কর্মীকে বিয়ে করেন গত ছয় বছর আগে। তার বাড়ি রংপুরে। তার কোনো সন্তান নেই। প্রথম স্ত্রীর সংসারে তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। 

হেলিমের চাচাতো বোন আসমা বেগম জানান, তিনিও গার্মেন্টসে চাকুরি করা অবস্থায় স্বামী পরিত্যক্তা মুক্তাকে ভাই হেলিমের কাছে বিয়ে দেন। এরপর থেকে গত ছয় বছর ধরে তিনিই সংসারের হাল ধরে সৎ এক ছেলেকে বিদেশ পাঠান এবং তিন মেয়েকে বিয়ে দেন। এর মধ্যে ছোট ছেলে জীবন মিয়াকে বিদেশ পাঠানোর জন্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কয়েক দিনের মধ্যে জীবনও বিদেশ চলে যেতো। এর মধ্যে ঈদ উপলক্ষে শ্বশুর বাড়ি থেকে বেড়াতে আসে হেলিমের দুই মেয়ে আজিমা ও কল্পনা। আজ সকালে আজিমা স্বামীর বাড়ি চলে যান। কল্পনা শনিবার চলে যাওয়ার কথা ছিলো। এ অবস্থায় সকালে তুচ্ছ এক ঘটনা নিয়ে কল্পনার সঙ্গে সৎ মা মুক্তার কথা-কাটাকাটি হলে জীবন প্রতিবাদ করে। সেই সঙ্গে সৎ মা মুক্তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে উত্তিজত হয়ে ছুরি নিয়ে সৎ মাকে আঘাত করলে তিনি প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দেন। এমন অবস্থায় জীবনও তার পেছন পেছন দৌড়ে গিয়ে মাটিতে ফেলে উপর্যপুরি আঘাত করতে থাকে। এ সময় লোকজন ছুটে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মুক্তাকে উদ্ধার করে পাশের গফরগাঁও হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহাম্মাদ জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মুক্তার স্বামী হেলিমকে আটক করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মূল অভিযুক্ত জীবনকে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা