kalerkantho

জগন্নাথপুরে টমটম চালক হত্যা : ঘাতকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৩ আগস্ট, ২০১৯ ২১:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জগন্নাথপুরে টমটম চালক হত্যা : ঘাতকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ছবি: কালের কণ্ঠ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে টমটম চালক সাইদুল ইসলাম (১৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ঘাতক কাজল দেবনাথ আজ শুক্রবার সুনামগঞ্জ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। নিজের দোষ স্বীকার করে হত্যার বর্ণনা দেয়। পরে তাকে সুনামগঞ্জ জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাজল দেবনাথকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার অপর তিন আসামি বি-বাড়িয়ার জেলার নাসিরনগর থানার আতুকুড়া গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী শেখ বিলাল হোসেন (৪৫) ও একই জেলার বিজয়নগর থানার জালালপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে নৈশপ্রহরী শরিফ মিয়া (৩৫) ও প্রধান আসামি কাজল দেবনাথের বোনজামাই নাসিরনগর থানার কালিবাড়ি গ্রামের মহেশ্বর দেবনাথ। তাদের মধ্যে বিল্লাল ও শরিফ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের রশিদপুর এলাকায় বসবাস করে আসছিল।

সহকারী পুলিশ সুপার জগন্নাথপুর সার্কেল মো. মাহমুদ হাসান চৌধুরী জানান, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার হাতিউড়া গ্রামে আমি ও জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক অনিক দে’র নেতৃত্বে গোপাল দেবনাথের ছেলে কাজল দেবনাথকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে তার কাছ থেকে টমটম চালকের মুঠোফোন পাওয়া যায়। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তির প্রেক্ষিতে তার বোনজামাই মহেশ্বর দেবনাথের একই উপজেলার কালিবাড়ি গ্রামের বাড়ি থেকে অভিযান চালিয়ে খুন হওয়া টমটম চালকের টমটম উদ্ধার করা হয়। পরে তার কথামতো লাশ উদ্ধার হয়।

তিনি বলেন, শেখ বিল্লাল হোসেন একজন ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া হলেও তিনি সিলেটে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গারি ব্যবসা করছেন। তার কর্মচারী হিসেবে ভাঙ্গারির মালামাল জগন্নাথপুরসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রয় করেন কাজল দেবনাথ।

ঈদের আগের দিন টমটম চালক জগন্নাথপুরের বাউরকাপন গ্রামের সাইদুল ইসলামের টমটম গাড়ি রাসেল মিয়া পরিচয়ে ভাড়া নেন কাজল দেব নাথ। সেদিন গাড়ি না চালিয়েই ৫০০ টাকা দিয়ে বিদায় দেন সাইদুলকে। পরদিন ১১ আগস্ট ফোন করে সাইদুল কে ডেকে নিয়ে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী শেখ বিল্লাল হোসেনের দক্ষিণ সুরমার কুতুবপুর এলাকার গোডাউনে নিয়ে যান। সেখানে শেখ বিল্লাল, কাজল দেবনাথ ও দোকানের নৈশপ্রহরি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার জালালপুর গ্রামের শরিফ মিয়া মিলে টমটম চালক সাইদুরের ঘাড়ে হেমার (কাঠের শক্ত টুকরা) দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ রশিদপুর এলাকার একটি ঝোঁপে ফেলে দেন।

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আসামির স্বীকারোক্তির প্রেক্ষিতে আমরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি দেড় লাখ টাকা দামের টমটম গাড়িটি আত্মসাৎ করতে তাকে হত্যা করা হয়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামি ১৬৪ ধারা জবানবন্দি প্রদান করে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বর্ণনা দিয়েছে। অপর আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা